রাজ্য়ের চিকিৎসাব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। শিক্ষানবিশ ডাক্তার পরিবাহ মুখোপাধ্যায়ের আহত হওয়ার ঘটনায় রোষে ফুটছে রাজ্যের চিকিৎসকদের একটা বড় অংশ। রাজ্য জুড়ে চলছে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি। এবার এই বিষয়ে নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ দাবি করলেন অধীর চৌধুরী।

মুর্শিদাবাদের সাংসদে দাবি, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গিয়েছে। রাজ্যের হাসপাতালগুলির বহির্বিভাগে প্রতিদিন ভীড় করেন কয়েক হাজার রোগী ও তাঁদের পরিবার। তাঁরা ভয়ঙ্কর অবস্থার মধ্যে পড়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান চেয়ে মঙ্গলবার অধীর চৌধুরী চিঠি দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদীকে।

আরও খবরঃ গণছুটির আবেদন চিকিৎসকদের, কাল ভেঙে পড়তে পারে রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থা

প্রসঙ্গত, ঘটনার সূত্রপাত সোমবার বিকেলে। চিকিৎসায় গাফিলতির জেরে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে, এই অভিযোগে হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন মৃতের পরিজনরা। রাতের দিকে হাসপাতালে কর্তব্যরত এক জুনিয়র চিকিৎসক পরিবাহ মুখোপাধ্যায়কে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁর ফ্রণ্টাল লোবে লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সাইন্সে। এর পরেই নিরাপত্তার দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন জুনিয়র ডাক্তাররা। এ দিন সকালে ওপিডি পরিষেবাও বন্ধ করে দেন তাঁরা। হাসপাতালের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন তাঁরা। রোগী বিপন্মুক্ত হলেও বারবার এই আঘাতের একটা বিহিত চান চিকিৎসকেরা। তাঁরা রাজ্য জুড়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। ডক্টরস ফোরাম সিদ্ধান্ত নেয়, এদিন সকাল নটা থেকে রাত নটা পর্যন্ত ওপিডি বা বহির্বিভাগে কাজ করবেন না চিকিৎসকেরা। 

অধীর চৌধুরী নিজের চিঠিতে লিখেছেন, "রাজ্য জুড়ে মেডিক্যাল কলেজ, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে দুর্দশায় পড়ছেন রোগীর বাড়ির লোকজন। অন্য দিকে পরিবাহ মুখোপাধ্যায় (নিগৃহীত চিকিৎসক) জীবনমরণ লড়াই লড়ছে। পরিস্থিতকে নিয়ন্ত্রণে আনতে আপনার হস্তক্ষেপ দাবি করছি।"

সন্দেশখালি কাণ্ডে এমনিতেই রাজ্য বনাম কেন্দ্র সংঘাত চরমে। মুকু রায় দাবি জানিয়েছেন এনআইএ তদন্তের। এর পরে এই চিকিৎসা পরিষেবা বিষয়েও কেন্দ্রকে নাক গলাতে হয়, তা হলে তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনের জন্যে খুব ভাল হবে না। একথা কি মমতা জানেন না?