ফের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে কাঠগড়ায় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। এবার বাবার মৃত্যুর ৬দিন পর খবর জানতে পারল ছেলে। অভিযোগ , হাসপাতালে ফোন করলেও বাবা ভালো আছে বলে জানানো হয়। শেষে হাসপাতালে যেতেই ধরা পড়ে আসল চিত্র।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, সম্প্রতি করোনা সন্দেহে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ওই প্রবীণ ব্যক্তিকে। মৃত ব্যক্তি হাওড়ার সলপের বাসিন্দা। বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। পরিবারের অভিযোগ, ভর্তির পাঁচদিন পর মৃত্যুর খবর জানতে পেরেছে তারা। তাদের দাবি,গত পাঁচদিন ধরে হাসাপাতালের হেল্পলাইনে ফোন করলেবলা হয়েছে রোগী ভালো আছে। কিন্তু হাসপাতালে আসতেই জানা যায়, ভর্তির দিনই মারা যান ওই রোগী। এখনও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি হাসপাতাল।


জানা গিয়েছে, ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন ওই ব্যক্তি। গত ৯ তারিখ, বৃহস্পতিবার অস্ত্রোপচাররে জন্য তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু জ্বর থাকায় করোনা সন্দেহে তাঁকে কোভিড হাসপাতাল এম আর বাঙুরে রেফার করা হয়। যদিও সেখানে গিয়েও লাভ হয়নি।  বেড নেই জানিয়ে, ওই ব্যক্তিকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সেখানে দুপুর ১টা নাগাদ, করোনা সন্দেহে কোভিড ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় ওই ব্যক্তিকে। কোভিড ওয়ার্ডে সংক্রমণ হতে পারে তাই এমনিতেই পরিবার সেখানে যেতে পারেনি।  সবথেকে অবাক করার বিষয়,হাসপাতালের হেল্পলাইনে ফোন করলেই রোগী ভাল আছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।  খাওয়া দাওয়া এমনকী ঘুমও ঠিক আছে বলে জানানো হয়েছে।  

কিন্তু পরে প্রৌঢ়কে দেখতে মঙ্গলবার, গ্রিন বিল্ডিংয়ের পাঁচ তলায় রোগীর বেডে পৌঁছে যান তাঁর ছেলে। সেখানে বেড খালি দেখে একটু অবাক হন। পরে জানতে পারেন, ভর্তির দিনই দুপুর ৩টেয় মারা যান ওই ব্যক্তি। তবে কলকাতা মেডিক্য়ালে পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ এই প্রথম নয়। গত শুক্রবার, এই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই মৃত্যু হয়েছিল ইছাপুরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী শুভ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের। দুই সরকারি হাসপাতাল, এক নার্সিংহোমে জায়গা না পেয়ে মেডিক্যালে নিয়ে আসা হয় ওই তরুণকে। পরিবারের অভিযোগ সেখানেও দেরিতে ভর্তি করার জন্য় প্রাণ গেছিল শুভ্রজিতের।