যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে হেনস্থাকাণ্ডে দ্রুত রিপোর্ট চাইলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। কেন বাবুল সুপ্রিয়কে হেনস্থার শিকার হতে হল, তা জানতে চাওয়া হয়েছে  উপাচার্য সুরঞ্জন দাসের কাছে।

এবিভিপির নবীন বরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। প্রথম থেকেই বাবুলকে বিশ্ববিদ্য়ালয়ে ঢুকতে বাধা দেয় বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের পড়ুয়ারা। অভিযোগ, গো-ব্যাক স্লোগানের মাঝে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে ধাক্কা মারে ছাত্ররা। এমনকী তাঁর চুল ধরেও টানা হয়। এরপরই ক্যাম্পাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাজ্যপাল ভবনে ফোন করেন বাবুল। পরে খোঁজ নিয়ে বিকেল ৪টে ১৫ তে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাসকে ফোন করেন রাজ্যপাল। দ্রুত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে হেনস্থার রিপোর্ট চেয়ে পাঠান তিনি। ক্য়াম্পাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হেনস্থার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। 

সূত্রের খবর, বিশ্ববিদ্য়ালয়ে একজন মন্ত্রী আসার কথা জেনেও কেন তিনি থাকেননি তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন খোদ রাজ্যপাল। যদিও উপাচার্য জানিয়েছেন,ক্যাম্পাসে যে মন্ত্রী আসছেন সে বিষয়ে জানতেন না তিনি। কারণ এবিভিপির অনুষ্ঠানে তাঁকে আমন্ত্রণই করা হয়নি। অন্য ছাত্র সংগঠন কোনও অনুষ্ঠান করলে তাঁকে ডাকেন কিন্তু এবিভিপির অনুষ্ঠানে অনুমতি দিলেও তাঁকে ডাকা হয়নি। তাই অনুষ্ঠানে কোনও মন্ত্রী আসছেন কিনা তা জানতেন না তিনি।  যদিও উপাচার্যের এই কথা শুনেই দ্রুত রিপোর্ট পাঠানোর কথা বলেন রাজ্যপাল। কে বা কারা মন্ত্রীকে হেনস্থার ঘটনায় জড়িত তা জানাতে বলা হয়েছে রাজ্যপালকে। 

এদিকে হেনস্থার পর ঘটনার জন্য উপাচার্যকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করান বাবুল। উপাচার্যকে তিনি বলেন, আমার মুখে ঘুসি মারছে, চুল ধরে টানছে। ক্যাম্পাসে একজন মন্ত্রী আসছেন জেনেও আপনি তাঁকে স্বাগত জানাতে আসেননি। আপনাদের মতো লোকের জন্যই আজ পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষার এই অবস্থা। আপনি চাইছিলেন এটা হোক। আমি নিশ্চিত আপনি একজন বামপন্থী। যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন উপাচার্য। মন্ত্রীকে তিনি জানান, তাঁকে এবিভিপির অনুষ্ঠানে ডাকা হয়নি বলেই তিনি আসেননি। যখনই খবর পেয়েছেন তখনই ছুটে এসেছেন।