নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে রাজ্যে। শনিবার দিনভর আন্দোলনের নাম রীতিমতো তাণ্ডব চলেছে সর্বত্রই। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কি এবার রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে বাংলায়? জল্পনা উসকে দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় স্বয়ং।  তাঁর টুইট, 'রাজ্যে যা ঘটছে, তাতে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও বেদনাদায়ক। শপথ বাক্য মেনে মুখ্যমন্ত্রীকে এখন সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে। এবং রাজ্যপাল হিসেবে সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করে আমিও সংবিধান ও আইনকে রক্ষা করব।'

সংসদের যখন কোনও বিল পেশ করা হয়, তখন সেই বিলের বিরোধিতা করা যায়। কিন্তু সংসদে পাশ হওয়ার পর সেই বিলে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করে দিলে কিন্তু আর কিছুই করার থাকে না। কারণ, সেই বিল তখন আইনে পরিণত হয়ে যায়। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই ঘটেছে। রাজ্যসভায় পাস হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতেই বিলের স্বাক্ষর করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। অর্থাৎ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আইনে পরিণত হয়েছে। কিন্তু হলে কি হবে! এই আইন প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ ছড়িয়েছে পড়েছে রাজ্যের সর্বত্রই। আন্দোলনের নামে রাস্তায়, রেলস্টেশনে তাণ্ডব চালাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের মুখ্যমন্ত্রী যেমন কড়া বার্তা দিয়েছেন, তেমনি আবার রাজ্যবাসীকে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলন করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন, এ রাজ্যে নাগরিকত্ব আইন লাগু করা হবে না। রাজনৈতিক মহলের মতে,  সংসদে বিলটিকে আটকে না পেরে এখন ঘুরপথে আইনটিকে আটকাতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে আবার দেশের প্রতিটি রাজ্যে নাগরিকত্ব আইন লাগু করতে বদ্ধপরিকর কেন্দ্রীয় সরকারও।  কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্যগুলি নাগরিকত্ব আইন মানতে বাধ্য। কারণ, এটা সংবিধানিক কাঠামোর পরিবর্তন। যা শুধুমাত্র কেন্দ্রের এক্তিয়ারভুক্ত। এই যখন পরিস্থিতি, ঠিক তখনই টুইট করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাংবিধানিক কর্তব্য স্মরণ করিয়ে দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।

 

 

উল্লেখ্য, রাজ্যপাল হিসেবে এ রাজ্যে আসার পর থেকে বারবার রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছেন জগদীপ ধনকড়। সংঘাত এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, বিল আটকে রাখার অভিযোগে বিধানসভা চত্বরে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তৃণমূল বিধায়করা। এমনকী, রাজ্যপালের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে সংসদের অধিবেশন থেকেও ওয়াকআউট করেছেন এ রাজ্যের শাসকদলের সাংসদরা। বিভিন্ন ইস্যুতে রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ও।