রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির হাল কী,তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিস্তারিত জানাবেন রাজ্য়পাল। বিগত সাত মাসে রাজ ভবনে থাকাকালীন তিনি কী  দেখেছেন,তা অমিত শাহকে রিপোর্ট  করবেন জগদীপ  ধনকর। বৃহস্পতিবার বাই পাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অসুস্থ পি কে ব্যানার্জীকে দেখতে এসে একথা জানালেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যের সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা সহ জঙ্গি কার্যকলাপের বিবরণও থাকবে  তাঁর রিপোর্টে। 

চিন্তা বাড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস, রাজ্যের সব হাসপাতালকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ স্বাস্থ্য দফতরের

তবে এই প্রথমবার নয়,অতীতেও বার বার রাজ্য়ের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছেন রাজ্য়পাল জগদীপ ধনখড়। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর দিকে নিশানা করে খোঁচা দিতে  ছাড়েননি। কদিন আগেই দিল্লির হিংসাকে পরিকল্পিত গণহত্যা বলেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। নাম না করে মমতার সেই উক্তির জবাব দিয়েছেন রাজ্য়পাল।

দোল এলেই কন্ডোম-পিলের চাহিদা তুঙ্গে, কী বলছেন শহরের বিক্রেতারা
 
হাওড়ার এক অনুষ্ঠানে ধনখড় বলেন, সব ধরনের হিংসাই নিন্দনীয় হওয়া উচিত। বাছাই করে কোনও হিংসার নিন্দা করা উচিত নয়।  হিংসার বিষয়ে রাজনৈতিকভাবে ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। এই বিভেদ মেনে নেওয়া যায় না। এই বলেই অবশ্য থেমে থাকেননি ধনখড়। রাজ্য়পাল বলেন, দিল্লির হিংসার নিন্দা করলে, পশ্চিমবঙ্গের হিংসার ঘটনাগুলোকেও নিন্দা করুন। হিংসাকে রাজনৈতিকভাবে আলাদা করা উচিত নয়। পশ্চিমবঙ্গের হিংসার ঘটনাগুলো তো আমাকেও দুঃখ দিয়েছে। আমি বরাবরই এই হিংসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছি।

সম্প্রতি ভুবনেশ্বরে অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক পর্ব শেষ হতেই দিল্লি নিয়ে মুখ খুলেছেন তৃণমূল নেত্রী। সোমবার নেতাজি ইন্ডোরের সভায় দিল্লির হিংসাকে পরিকল্পিত গণহত্যা বলে মন্তব্য় করলেন মুখ্য়মন্ত্রী। ফলে দেরিতে হলেও দিল্লি হিংসা নিয়ে ফের রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়ে যায় বিজেপি-তৃণমূল দ্বৈরথ। নেতাজি ইন্ডোরের মঞ্চ থেকে তৃণমূল নেত্রী শুরুতেই দিল্লিতে মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবতা পালন করেন। পরে দিল্লিতে হিংসার জন্য কাঠগড়ায়  দাঁড় করিয়েছেন অমিত শাহকে।  প্রশ্ন তুলেছেন দিল্লির হিংসার বিরুদ্ধেও। মমতা বলেন, পরিকল্পনা করে গণহত্যা হয়েছে দিল্লিতে। পুলিস, সেনা, আধা সেনা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই হিংসা হল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

তাপস পালের মৃত্যুর জন্য দায়ী কে, মুখ খুললেন তারকা পত্নী

গতকালই কলকাতায়  'গোলি মারো' স্লোগান সরব হয়েছেন রাজ্য়পাল। এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মিডিয়ার কাছে এই স্লোগান বড় বিষয় হলেও তাঁর কাছে ততটা  গুরুত্বপূর্ণ নয়। সংবাদ মাধ্য়ম এই খবর ১০০ শতাংশ সেনসেশনাল হতে পারে। কিন্তু তাঁর জীবনে এই স্লোগানের গুরুত্ব ০.১ শতাংশ। সোমবার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল-এ জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্য়াকাণ্ডের প্রদর্শনীর উদ্বোধনীতে এসে এমনই মন্তব্য় করলেন রাজ্য়পাল জগদীপ ধনখড়।

রাজ্য়পালের মতে, ভারত ইতিবাচক ভাবধারার দেশ। সেখানে দাঁড়িয়ে এই ধরনের লঘু বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়। এরকম একটা সময়ে সংবাদ মাধ্য়মকেও কোন খবর দেখাবে আরা কোন খবর দেখাবে না তা নিয়ে সতর্ক থাকা উচিত। আমি জানি এই রকম একটা স্লোগানের খবর মিডিয়ার কাছে ১০০ শতাংশ সেনসেশনাল। কিন্তু তাদেরও নিজেদের কর্তব্য়ের বিষয়ে ওয়াকিবহাল হওয়া উচিত।