এবার কলকাতা পুরসভায় ফিরহাদ হাকিমকে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর পদে বসানো নিয়ে মুখ্য়মন্ত্রীকে চিঠি দিলেন  রাজ্য়পাল জগদীপ ধনখড়। চিঠিতে রাজ্য়পাল বলেছেন,কলকাতা পুরসভায়  প্রশাসক নিয়োগ সংক্রান্ত  কোনও বিজ্ঞপ্তি তিনি পাননি। রাজ্য সরকারের তরফে তাঁকে এ ব্যাপারে কিছুই জানানো হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য়পালের এই চিঠিতে আরও তীব্র হতে চলেছে রাজ্য়-রাজ্যপাল সংঘাত।

কলকাতার কোথায় হচ্ছে করোনা চিকিৎসা, দেখে নিন মহানগরের বেসরকারি কোভিড হাসপাতাল.

ইতিমধ্য়েই টুইট করে চিঠির বিষয়টি প্রকাশ্য়ে এনেছেন জগদীপ ধনখড়। টুইটে তিনি লিখেছেন, মুখ্যসচিবের কাছ থেকে কোনও সাড়া না পাওয়ায়, @MamataOfficial
 এর কাছে কলকাতা পৌরসভার মে ০৬,০৫, ২০২০ তে জারি করা অর্ডার সম্পর্কে  জানতে চেয়েছি। অনুচ্ছেদ ১৬৭ মোতাবেক মুখ্যমন্ত্রীর "কর্তব্য" রাজ্যপালকে তথ্য সরবরাহ করা। এই অর্ডারটির গভীর তাৎপর্য আছে। সংবাদমাধ্যম মারফত কলকাতা পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়টি তিনি জানতে পারেন। 

২৪ ঘণ্টায় সাতজনের মৃত্যু,রাজ্য়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৯

প্রশাসক হিসাবে কলকাতা পুরসভার মাথা হতে চলেছেন ফিরহাদ। সূত্রের খবর,'রিমুভ্যাল অফ ডিফিকাল্টিস অ্যাক্ট' মেনে তাকেই দায়িত্বে আনা হচ্ছে। যা ঘিরে ফের একবার করোনা আবহে সরগরম হতে চলেছে রাজ্য় রাজনীতি। 

রাজ্য়ের বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, এপ্রিলে পুরভোটের দিনক্ষণ একপ্রকার ঠিক থাকলেও এখন তা অথৈ জলে। করোনার জেরে পুরভোট স্থগিত হয়ে যাওয়ায় কলকাতা পুরসভার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। যার জেরে নিয়ম মেনে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই  রাজ্য সরকারের কাজ। এখানে তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। এমনই জানিয়েছেন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তবে সরকারি আধিকারিকদের পদে না বসিয়ে কেন তৃণমূলের লোকদের প্রশাসকের পদে বসানো হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।

আচমকা ওলোট পালোট কলকাতা, ঝড়ের তাণ্ডবে 'তছনছ বাড়ি-ঘর'

সূত্রের খবর, সব মিলিয়ে  ১৪ জনের প্রশাসক বোর্ড গঠন করা হবে।  মেয়র ছাড়াও ডেপুটি মেয়র ও মেয়র পারিষদরা সবাই থাকবেন সেই বোর্ডে। বৃহস্পতিবারই সেই মর্মে নির্দেশিকা জারি করার কথা।  এদিনই মেয়র হিসেবে ফিরহাদ হাকিমের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তারপরই ৮ মে থেকে বসবেন প্রশাসক। আর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেবেন বর্তমান কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

রাজ্য়  নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এপ্রিলের মাঝামাঝি নাগাদ পুরভোট হওয়ার দিকে এগোচ্ছিল কমিশন। কিন্তু এর মাঝেই করোনা ভাইরাস হানা দেওয়ায় সব পরিস্থিতি বদলে যায়। কোভিড ১৯ ভাইরাসের জেরে দেশজুড়ে ২৪ মার্চ থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। তৃতীয় দফায় ১৭ মে পর্যন্ত জারি থাকছে লকডাউন। নতুন করে আরও লকডাউনের পথে সরকারি হাঁটবে কিনা তাও জানা যায়নি। তাই পুরভোট ঘিরে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সেই পরিস্থিতিতেই প্রশাসক বসিয়ে পুরসভার কাজ চালাতে চায় রাজ্য় সরকার।