প্রয়াত প্রাক্তন বিচারপতি অমিতাভ লালা। সোমবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটে বাইপাস সংলগ্ন এক বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নিউমোনাটিসে আক্রান্ত ছিলেন। সম্প্রতি তাঁর পুত্র জানিয়েছিলেন বিচারপতি লালার রক্তে প্লেটলেটের পরিমাণ কমে গিয়েছে।

২০০৪ সালে কলকাতায় কাজের দিনে মিছিল বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়ে সংবদ শিরোনামে এসেছিলেন তিনি। বিশেষ করে সিপিএম নেতা বিমান বসুর 'লালা বাংলা ছেড়ে পালা' স্লোগান তাঁকে বাংলার ঘরে ঘরে পরিচিত নাম করে তুলেছিল। কলকাতা হাইকোর্টে এক গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিতে যাওয়ার পথে সিপিএম-এর মিছিলের কারণে রাস্তায় আটকে পড়েছিলেন তিনি। তারপরই হাইকোর্টে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেছিলেন কাজের দিনে কলকাতায় মিছিল মিটিং বন্ধ করা উচিত। যার পরই আলিমুদ্দিন থেকে বিমান বসু তুলেছিলেন 'বাংলা ছেড়ে পালা' স্লোগান। যা নিয়ে পরে আদালতের কাছে ক্ষমাও চাইতে হয়েছিল বর্ষীয়ান কমিউনিস্ট নেতাকে।

আরও পড়ুন - ১৫০ ফুট হামাগুড়ি বিএসএফ কর্তার, কী কী মিলল জঙ্গিদের খোঁড়া সুড়ঙ্গপথ থেকে

আরও পড়ুন - ডুবে গেল বালি-পাথর বোঝাই দশটি লরি, নিখোঁজ ২২ - মানিকচকে ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখে ট্রলার

আরও পড়ুন - উত্তর ২৪ পরগণা জেলায় কোন কোন আসন ছিনিয়ে নেবে বিজেপি, কী জানা গেল জনমত সমীক্ষায়

বিজ্ঞানে স্নাতক অমিতাভ লালা কলকাতা বিশ্ববিদ্য়ালয় থেকেই আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। ১৯৭৫ সালেই কলকাতা হাইকোর্টে যোগ দেওয়ার পর ১৯৯৭ সালে তিনি স্থায়ী পদ পান। এরপর ২০০৫ সালে তিনি যোগ দিয়েছিলেন এলাহাবাদ হাইকোর্টে। ২০১২ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্বও পেয়েছিলেন। আদালতের ভিতরে বিচার বিভাগীয় অনুশাসন এবং আদালতের বাইরে উদার মনোভাবের জন্য খ্যাত ছিলেন তিনি।

২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে বাম সরকারের পতন হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার বিচারপতি লালার নেতৃত্বেই আনন্দমার্গী হত্যার তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল।