গঙ্গা বেয়ে ঝাড়খণ্ডের রাজমহল থেকে মালদহের মানিকচকে আসছিল একটি বিশাল মাপের ট্রলার। তার উপরে ছিল দশটি বালি-পাথর মজুত করা পণ্যবাহী লরি। কিন্তু মানিকচকের গঙ্গার ঘাটে পারে লাগার মুহূর্তেই সেটি ডুবে গেল। নিখোঁজ ২২ জন যাত্রী। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে আপাতত এলাকা জুড়ে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

জানা গিয়েছে ট্রলারটির পিছন দিকের অংশে একটি যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে ভেঙে যাওয়ার পরই লঞ্চটি ডুবতে শুরু করেছিল। যাত্রীদের আর্তনাদ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা গঙ্গার পারে ছুটে এসেছিলেন। তাঁদের চোখের সামনেই লরিগুলি তলিয়ে যায়। সেই সঙ্গে ডুবে যান যাত্রীরাও। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে ওই লঞ্চে লরি চালক ও খালাসী মিলিয়ে ১২ জন মতো যাত্রী ছিলেন। কিন্তু, স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যাত্রী ছিলেন অন্তত ২০ থেকে ২২ জন।

আরও পড়ুন - প্রয়াত প্রাক্তন বিচারপতি অমিতাভ লালা, শিরোনামে এসেছিলেন 'বাংলা ছেড়ে পালা' স্লোগানে

আরও পড়ুন - ডুবে গেল বালি-পাথর বোঝাই দশটি লরি, নিখোঁজ ২২ - মানিকচকে ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখে ট্রলার

আরও পড়ুন - উত্তর ২৪ পরগণা জেলায় কোন কোন আসন ছিনিয়ে নেবে বিজেপি, কী জানা গেল জনমত সমীক্ষায়

ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোমবার সন্ধ্যায় ঘটনস্থলে স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে গিয়েছিল। তদন্তে যায় মানিকচক থানার পুলিশ-ও। ঘটনস্থলে ছুটে যান জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র এবং পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়াও। আসেন বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের অফিসার ও কর্মীরাও। মানিকচক ঘাটে অন্ধকার থাকায় উদ্ধারকার্য পরিচালনার জন্য জেনারেটরের মাধ্যমে সার্চ লাইট বসানো হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, রাতের মধ্যে অন্তত ১০ জন যাত্রীকে উদ্ধার করা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে মানিকচক এবং মালদহ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে, কীভাবে এই ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটলো তা এখন স্পষ্ট নয়। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কর্তারা। প্রশ্ন উঠছে অতিরিক্ত পণ্য-সামগ্রীর বোঝার কারণেই কি ঘটল বিপত্তি? জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র জানিয়েছেন, কীভাবে ট্রলারটি ডুবে গেল, আর কতজন যাত্রীই বা নিখোঁজ - এখনও কিছু বলা যাচ্ছে না । পুরো পরিস্থিতি তদারকি করেই এই ব্যাপারে কিছু বলা যাবে, বলে জানিয়েছেন তিনি।