Asianet News Bangla

পানীয় জলের সঙ্কটের মুখে শহর, নতুন নিয়ম তৈরি করছে কলকাতা পৌরসভা

  •  ভবিষ্যতে শহরে পানীয় জলের সঙ্কট নিয়ে একাধিক রিপোর্ট এসেছে  
  •  পরিবেশ আদালতের নির্দেশিকা মেনে  একটি নীতি নির্ধারণ করা হবে 
  • জলস্তর বোঝার জন্য়  'কালার কোডেড জ়োনাল ম্যাপ' তৈরি করা হবে  
  • শুধু  সবুজ রঙের চিহ্নিত এলাকা থেকেই জল তোলার অনুমতি মিলবে  
Kolkata municipality takes initiative for groundwater mapping
Author
Kolkata, First Published Feb 23, 2020, 12:34 PM IST
  • Facebook
  • Twitter
  • Whatsapp


 ভবিষ্যতে কলকাতায় পানীয় জলের সঙ্কট নিয়ে আশঙ্কার কথা ইতিমধ্যেই একাধিক রিপোর্টে উঠে এসেছে। প্রতিদিন মাথাপিছু জল খরচের হিসেবে দেশের মধ্যে কলকাতার স্থান প্রথম সারিতেই। অথচ এত দিন জলসঙ্কট আটকানোর জন্য  কোনও বিশেষ নিয়মও ছিল না। শেষ পর্যন্ত জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশিকা মেনে ভূগর্ভস্থ জল তোলার ক্ষেত্রে একটি নীতি নির্ধারণ করতে চলেছে কলকাতা পৌরসভা।

আরও পড়ুন, বেতন বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করল বিদ্যুৎ দপ্তর, নয়া বেতনক্রমের আওতায় অবসরপ্রাপ্তরাও

সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে স্থির হয়েছে, ক্রমাগত জল তোলার জন্য শহরের কোন এলাকায় জলস্তর কত নেমেছে তা খতিয়ে দেখা হবে। এবং তারই ভিত্তিতে   'কালার কোডেড জ়োনাল ম্যাপ' তৈরি করা হবে। লাল, কমলা ও সবুজ- এই তিনটি রঙের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় জলস্তরের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। ক্রমাগত জল তোলার ফলে যে সব জায়গায় জলস্তর বিপজ্জনকভাবে নেমে গিয়েছে, সেই এলাকা লাল রঙে কোড করে চিহ্নিত করা হবে । কমলা রং সংকেত দিলে বোঝা যাবে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় জলস্তর দ্রুত নামতে শুরু করেছে, যা ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। আর সবুজ রং দেখে বোঝা যাবে, ওই এলাকায় ভূগর্ভস্থ জলস্তর ঠিকই রয়েছে।

আরও পড়ুন, ফের মুসুরির ডালের আড়ালে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচার, গ্রেফতার ৪

উল্লেখ্য়, কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনস্থ সিপিএইচইইও অর্থাৎ  দ্য সেন্ট্রাল পাবলিক হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং অর্গানাইজেশন -এর নির্দেশিকা বলছে, কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই সহ দেশের বড় শহরগুলিতে দিনে মাথাপিছু ১৫০ লিটার জলের প্রয়োজন। কলকাতায় মাথাপিছু জলের চাহিদা কতটা এবং কতটা পরিমাণ জল দৈনিক খরচ হচ্ছে, সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য গত আড়াই বছর ধরে পুরসভার একাধিক ওয়ার্ডে 'ওয়াটার লস ম্যানেজমেন্ট' প্রকল্প চলেছে। সেই প্রকল্পের তথ্যই বলছে, শহরের কোথাও কোথাও প্রতিদিন মাথাপিছু প্রায় ৬০০ লিটার জল খরচ হচ্ছে। যা নির্ধারিত হিসেবের প্রায় চার গুণ বেশি।

আরও পড়ুন, সারোগেসির নামে প্রতারণা, ৬ লক্ষ টাকা খোয়ালেন দম্পতি

প্রস্তাবিত ওই নীতি অনুযায়ী, শুধুমাত্র সবুজ রঙে চিহ্নিত এলাকা থেকেই ভূগর্ভস্থ জল তোলার অনুমতি দেওয়া হবে। এক পদস্থ পুরকর্তার কথায়, 'অনুমতি দেওয়া মানে এই নয় যে ইচ্ছেমতো জল তোলা যাবে। সব দিক বিবেচনা করে এবং পরিবেশনীতি মেনেই সীমিত ক্ষেত্রে ওই অনুমতি দেওয়া হবে।' অপরদিকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজের অধ্যাপক তথা গবেষক তড়িৎ রায়চৌধুরী বলেন, 'কোনও জায়গায় জলস্তর নামতে থাকলে জলে ফ্লুয়োরাইড, আর্সেনিকের মতো দূষিত পদার্থ মেশার আশঙ্কা বহু গুণ বেড়ে যায়। ফলে সেখানকার জল আর পানযোগ্য থাকে না।' তাই বিজ্ঞানীদের মতে, জলের ব্যবহারে সতর্ক না হলে জলস্তর নেমে যাওয়ার সমস্যা কিছুতেই বন্ধ করা যাবে না।


 

Follow Us:
Download App:
  • android
  • ios