তৃণমূলের বেসুরো নেতাদের মধ্যে সাম্প্রতিকতম হলেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। বৃহস্পতিবার তাঁর ফ্যানক্লাবের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট-এর পর এখন তাঁকে নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। এরইমধ্যে তাঁর ক্ষোভ প্রশমনে সক্রিয় হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আগেই এই বিষয়ে তাঁর বাড়ি গিয়ে কথা বলেছিলেন কুণাল ঘোষ। শুক্রবার সন্ধ্য়ায় সাড়ে ছটা নাগাদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে বীরভূমের তৃণমূল সাংসদকে নিয়ে পৌঁছান কুণাল ঘোষ, এমনটাই জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে শুভেন্দু অধিকারী, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, লক্ষ্মীরতন শুক্লার পর এবার খেলা জমে উঠেছে শতাব্দী রায়ের ক্ষোভ নিয়ে।

বৃহস্পতিবার, শতাব্দী রায় ফ্যান ক্লাবের ফেসবুক পেজে শতাব্দী রায় নিজেই জানিয়েছিলেন, দলের মধ্যে কেউ কেউ তাঁকে দলীয় কোনও কর্মসূচিতে রাখতে চান না, তাঁকে সেসবের খবরও দেওয়া হয় না। এই নিয়ে মানসিক কষ্টে ভুগছেন তিনি। নতুন বছরে মানুষের সঙ্গে পুরোপুরি থাকার জন্য অন্য কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি। ১৬ জদানুয়ারিই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা। তার আগে ড্যামেজ কন্ট্রোলের জোর চেষ্টা চলছে তৃণমূলের তরফে।

তারপর এদিন সকালে এক বাংলা টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি জানান, তিনি এদিন দিল্লি যাবেন। অমিত শাহ-র সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনাও ভাসিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তবে বিজেপি-তে যোদ দেওয়ার বিষয়ে এখনও কিছু ঠিক করেননি বলে জানান তিনি। সেইসঙ্গে, তিনি বলেন তিনি বরাবরই মানুষের উন্নয়ন করার চেষ্টা করেছেন। মানুষের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু, বহুবারই তিনি বাধা পেয়েছেন, দলের একাংশের কাছ থেকেই। তাঁকে বাদ দিয়েই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন। তারাপীঠ উন্নয়ন পর্ষদ থেকেও দুবার পদত্যাগ করেছেন।

সেইসঙ্গে তিনি বলেন, এইসব ক্ষোভএর কথা দলের নেতৃত্বকে জানাতে গিয়ে বারবারই মানসিক বাধা পেয়েছেন। কখনও মনে হয়েছে, জানিয়ে কোনও লাভ নেই। কখনও মনে হয়েছে কাকে জানাবেন। এরপরই তৃণমূলের তরফে তাঁর বাড়ি পরপাঠানো হযেছিল কুনাল ঘোষকে। কুনাল ঘোষ শতাব্দীর সঙ্গে দেখা করে জানিয়েছিলেন, বীরভূমের সাংসদ তৃণমূলেই আছেন। এবার, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের কার্যালয়ে ক্ষোভের কথা জানাতে পারেন কিনা শতাব্দী, সেটাই দেখার।