বিধানসভার গেটে আটকে পড়ার ঘটনায় ফের রাজ্যপালকে নিশানা করলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানকে তাঁর প্রশ্ন, 'স্পিকারের চিঠি পাওয়ার পরেও কেন গেলেন?'  শিক্ষামন্ত্রীর কটাক্ষ, 'জেলা জেলায় ঘুরছেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়াটাই একমাত্র কর্মসূচি। রাজ্যপাল করছেনটা কী!'

দু'দিনের জন্য স্থগিত অধিবেশন। বুধবার সকালে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সটান বিধানসভা হাজির হন রাজ্যপাল জগদীপ ধানকড়।  সকালে ১০টা নাগাদ তিনি যখন বিধানসভা চত্বরে পৌঁছন, তখন বিধানসভা সবকটি গেট বন্ধ ছিল। এমনকী রাজ্যপাল সাধারণত যে গেট দিয়ে ঢোকেন, বন্ধ ছিল সেই তিনম্বর গেটটি। কিন্তু খোদ রাজ্যপালে দেখেও প্রথমে মার্শালরা গেট খুলতে চাননি বলে জানা গিয়েছে। ফলে জগদীপ ধানকড় বিধানসভা ঢুকতে পারেননি, গেটের বাইরে অপেক্ষা করতে হয় তাঁকে।  শেষপর্যন্ত অন্য একটি গেট দিয়ে রাজ্যপালকে বিধানসভায় ঢোকানো হয়। ঘটনায় যারপরনাই ক্ষুদ্ধ রাজ্যপাল জগদীপ ধানকড়। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।  জানা গিয়েছে,  তিনি যে বিধানসভায় আসবেন, সেকথা আগেই জানিয়েছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধানকড়। স্পিকার পাল্টা চিঠি দিয়ে জানান, অধিবেশন স্থগিত থাকার কারণে তিনি হয়তো থাকতে পারবেন না।  স্পিকারের চিঠি পাওয়ার পরে রাজ্যপাল কেন বিধানসভায় গেলেন? পাল্টা প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন: মমতার 'তর্জন গর্জনই' সার, রাজ্যে ঢুকে পড়ল আসাদউদ্দিনের দল

বুধবারই বিনা নোটিশে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েও বিড়ম্বনায় পড়তে হয় রাজ্যপাল জগদীপ ধানকড়কে। পদাধিকার বলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যও বটে।  কিন্তু রাজ্যপাল যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছন, তখন তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্য উপাচার্য-সহ কোনও পদাধিকারীই হাজির ছিলেন না। বরং কলেজ স্ট্রিটে ক্যাম্পাসে রাজ্যপাল ঢোকার সময়ে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল সমর্থিত কর্মচারী ইউনিয়নের সদস্যরা। এমনকী, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের ঘরেও তালা ঝুলছিল! সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষেক বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন রাজ্যপাল জগদীপ ধানকড়। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে সেই ঘটনার কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান বাতিল। সচিবের চিঠি পাওয়ার পরেও রাজ্যপাল চলে গেলেন। সাংবাদিক মুখোমুখিও হলেন।  সব অনুষ্ঠান যাচ্ছেন, ছবি তুলছেন। এসব না করে উনি বরং বিল নিয়ে সমাধানসূত্র দিতে পারতেন।' রাজ্যপাল জগদীপ ধানকড়ের জন্য সরকারের খরচও বেড়েছে বলে দাবি করেছেন শিক্ষামবন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার আচমকাই বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশন দু'দিনের জন্য স্থগিত হয়ে যায়। ঘটনায় সরকারের সমালোচনায় সরব বিরোধীদের। তাঁদের দাবি, বিধানসভার ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে ঘটেনি। কিন্তু বিধানসভা অধিবেশন কেন স্থগিত হয়ে গেল? সরকারিভাবে অবশ্য কারণ জানানো হয়নি। তবে সূত্রে খবর, দিন কয়েক আগে শীতকালীন অধিবেশনে পাস করানোর জন্য বেশ কয়েকটি বিল পাঠানো হয় রাজভবনে।  কিন্তু রাজভবনের তরফে কোনও বার্তা আসেনি। সেকারণে বাধ্য হয়ে অধিবেশন দু'দিনের জন্য স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে।