রাজ্য রাজনীতিতে না থেকেও বহুদিন ধরেই চর্চাই ছিলেন। এবার সব জল্পনার অবসান। রাজ্য়ের নির্বাচনে আত্মপ্রকাশ করল আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম)। যা ঘিরে মুসলিম ভোট ব্যাঙ্ক হারানোর আশঙ্কা করছেন মমতা।

সম্প্রতি উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদের ভোগ্রাম সিনিয়ার মাদ্রাসা নির্বাচনে প্রার্থী দিয়ে রাজনৈতিক কার্যকলাপ শুরু করেছে মিম। রাজ্যে ওয়েইসির দলের আগমনের কথা ইতিমধ্য়েই ছড়িয়ে গেছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। যদিও বাম-কংগ্রেস জোট নেতৃত্বের দাবি, এখানে মিম-এর আলাদা কোনও সংগঠন নেই। তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী এখানে আইএমআইএম-এর ব্যানারে লড়ছেন।  তবে বাকিরা যাই বলুক না কেন, এই দাবি মানতে নারাজ  মিম নেতৃত্ব।  সব মিলিয়ে নয়া রাজনৈতিক সমীকরণে উত্তর দিনাজপুরের রাজনৈতিক ময়দানে আত্মপ্রকাশ মিম-এর। 

বিরোধীরা যাই বলুক না কেন , বিষয়টি হাল্কাভাবে নিচ্ছে না শাসকদল। যার সাম্প্রতিক উদাহরণ মমতার উত্তরবঙ্গের  সভা। সম্প্রতি কোচবিহার ও সাগরদিঘিতে জনসভা করতে এসেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । জনসভাতে নাম না করে আসাদউদ্দিনের দলের বিরুদ্ধে জেলার নেতা কর্মীদের সতর্ক করেছিলেন তিনি। তৃণমূল নেত্রী বলেন, বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘুদের ভুল বোঝাচ্ছেন কিছু মানুষ । তারা হায়দরাবাদের একটি দলের সঙ্গে যুক্ত । এই বিষয়ে দলের নেতা-মন্ত্রীদের সতর্ক থাকতে বলেছিলেন তিনি । মমতা দাবি করেন, বিজেপির থেকে টাকা নিয়ে এই দল রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালাচ্ছে। 

২৪ ঘণ্টার মধ্য়ে যার পাল্টা দিতে ছাড়েননি ওয়েইসি। তিনি বলেন, মমতার এই কথা থেকেই স্পষ্ট পশ্চিমবঙ্গে তাঁদের সংগঠন শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তাই তাকে ভয় পাচ্ছেন মুখ্য়মন্ত্রী। মমতাকে খোঁচা দিয়ে ওয়েইসির বলেন, তারা না থাকতেও লোকসভা ভোটে বিজেপি ১৮টা আসন পেয়েছে।  এই থেকেই বোঝা যায়, কারা আরএসএস, বিজেপি-কে পছন্দ করে।

একই কথা শোনা গিয়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলা মিম-এর কনভেনার মোজাফ্ফর আনোয়ারের গলায়। তিনি বলেন, 'আদিবাসী দলিত ও মুসলমান সংখ্যালঘু মানুষদের উন্নয়নের জন্যই কাজ করে এই দল । কোনওভাবেই বিজেপি, আরএসএস-কে সমর্থন করি না। সম্পূর্ণ নিজস্ব মতাদর্শে রাজনীতি করে থাকে মিম ।' তাঁদের দল ২০১৩ সাল থেকে উত্তর দিনাজপুরের সক্রিয় বলে দাবি করেন এএমআইএম-এর কনভেনার মুজাফ্ফর আনোয়ার । হাই মাদ্রাসার ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমাদের দলের পাঁচজন সদস্য হাই মাদ্রাসা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন । আমরা সম্পূর্ণভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়নের জন্য কাজ করে থাকি । আমাদের দলের সর্বভারতীয় সভাপতি হায়দরাবাদে থেকে দল পরিচালনা করেন। বিজেপি , আরএসএস-এর বিরুদ্ধে লড়াই আমাদের আসল উদ্দেশ্য ।'

মিম-এর আত্মপ্রকাশ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলার সাধারণ সম্পাদক অরিন্দম সরকার জানিয়েছেন, ' ওই নির্বাচনে তারা সবকটি আসনেই পরাস্ত হয়েছে। কিন্তু তাদের এই আত্মপ্রকাশ আমরা হাল্কাভাবে নিচ্ছি না। তাদের গতিবিধির উপরে নজর রাখার জন্য জেলার সর্বস্তরের কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। '