দিলীপ ঘোষ সময় পেলেন কিছুক্ষণ মুকুল সময় পেলেন দিলীপের ঢের বেশি মুকুলের সঙ্গেই বেশি কথা বললেন মোদী  যা নিয়ে শোরগোল পড়ে গেল রাজ্য় বিজেপির অন্দরে 

দিলীপ ঘোষ সময় পেলেন কিছুক্ষণ। মুকুল সময় পেলেন দিলীপের ঢের বেশি। বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে গিয়ে সবাইকে ছেড়ে মুকুলের সঙ্গেই প্রায় মিনিট দেড়েক কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী। যা নিয়ে শোরগোল পড়ে গেল রাজ্য় বিজেপির অন্দরে। রাজ্য় রাজনৈতিক মহলের ধারণা, দলে নব্য় বনাম প্রাক্তনের প্রতিযোগিতায় মুকুলকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন নমো। আগামী দিনে রাজ্য়ের গেরুয়া শিবিরে এর প্রভাব পড়তে বাধ্য়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

প্রধানমন্ত্রী আসছেন শুনে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়েছিলেন রাজ্য়পাল ছাড়াও রাজ্য় বিজেপির হেভিওয়েট নেতারা। যদিও সবাইকে পিছনে ফেলে মোদী বেশি সময় দিলেন মুকুলকে। এদিন মোদী কলকাতা বিমানবন্দরে আসতেই তাঁর হাতে ফুল তুলে দেন রাজ্য়পাল জগদীপ ধনখড়। রাজ্য়ের তরফে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার মেয়র তথা পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। ধনখড়়রের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষ হতেই ফিরহাদের হাত ধরে আলাপচারিতা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে পালা আসে রাজ্য় বিজেপির সভপতি দিলীপ ঘোষের । কিন্তু দেখা যায়, দিলীপ আন্তরিক হলেও মাত্র কিছু সেকেন্ড দিলীপের সঙ্গে ব্যয় করেন মোদী। সেই তুলনায় মুকুল রায়ের সঙ্গে অনেক বেশি আন্তরিক দেখায় তাঁকে।

রাজ্য় রাজনৈতিক মহলের মত, মোদী ঝড়ে লোকসভা নির্বাচনে ২ থেকে ১৮ হয়েছে বিজেপি। কিন্তু তিন বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির শূন্য় মেনে নিতে পারেনি মোদী -অমিত শাহ ব্রিগেড। খোদ বিজেপির রাজ্য় সভাপতির গড় খড়গপুরেও বিধায়ক আসন ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল। যা ভালো চোখে নেয়নি দিল্লি। এ নিয়ে সাফাই দিলেও দিলীপের ওপর চটেছেন খোদ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। 

মুরলীধর স্ট্রিটে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, লোকসভা ভোটের পর হিল্লি- দিল্লি নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা মুকুল রায়। রাজ্য়ে সেভাবে দেখা যাচ্ছে না তাঁকে। তৃণমূল থেকে যাদের ধরে বিজেপিতে এনেছিলেন, এখন ফের কালীঘাট মুখী তাঁরা। কিছুদিন আগে মমতার আস্থাভাজন শোভন চট্টোপাধ্যায়কেও হারাতে হয়েছে বিজেপিকে। খোদ এরজন্য দিলীপ ঘোষকে দায়ী করেছেন শোভনবাবু।

দিল্লির বিজেপি নেতারা বলছেন, রাজ্য়ে তৃণমূল থেকে আসা নব্য় নেতাদের সঙ্গে পুরোনো বিজেপির ফারাক তৈরি হচ্ছে। যাতে আরও ইন্ধন জোগাচ্ছেন বিজেপির রাজ্য় সভাপতি। যা মোটেই মেনে নিতে পারছে না মুকুল ব্রিগেড। সদ্য ভাটপাড়া পুরসভাও এখন তৃণমূলের দখলে এসেছে। যা নিয়ে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করার কথা বিজেপির। কিন্তু এসব যে প্রাক্তন বনাম দলে নব্য়দের দ্বন্দ্ব তা ভালো করেই উপলব্ধি করছেন বিজেপির কার্যকরী সভাপতি জেপি নাড্ডা। মুকুল রায় সক্রিয় না হতেই এই অঘটন বলে মনে করছেন শাহ। শনিবার কলকাতা বিমানবন্দরে তারই প্রতিফলন দেখা গেল বলে মত রাজ্য় রাজনৈতিক মহলের।