দল পাশে দাঁড়ানোর পর এবার পাশে দাঁড়ালেন খোদ রত্না চট্টোপাধ্য়ায়। মমতার কাছে শোভনের ভাইফোঁটা নিয়ে মুখ খুললেন শোভন জায়া। কী বললেন তিনি ?

সংগঠনের পদে নেই শোভন,কার কাছে ফোঁটা নেবেন ব্য়ক্তিগত বিষয় বললেন দিলীপ

দিদির কাছে ফোঁটা নিতে গেছেন ভাই। আপাত নিরীহ এই ছবিতেই এখন জল্পনার জট বুনছে রাজ্য রাজনৈতিক মহল। সবার মুখেই প্রায এক কথা, তবে কি ফের বিজেপি ছে়ড়ে তৃণমূলে ভিড়ছেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় ? সকালেই অবশ্য এই প্রশ্ন একপ্রকার এড়িয়ে গিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কে কাকে ভাইফোঁটা দেবে এটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন দিলীপবাবু। এ বিষয়ে তিনি বলেন, কারও বক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপ করে না বিজেপি। শোভনবাবু কার থেকে ভাইফোঁটা নেবেন তার মধ্য়ে দল জড়ায় না। বিজয়ার শুভেচ্ছা কাকে জানাবেন তাও আমরা ঠিক করব না। সামাজিক কাজে বিজেপি কখনই হস্তক্ষেপ করে না। তবে শোভনের পাশ দাঁড়িয়ে বিজেপির নব্য সদস্যকে বিঁধতে ছাড়েননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি। এদিন তিনি বলেন, শোভন চট্টোপাধ্য়ায় দলের কোনও পদে ছিলেন না। তাই তাঁকে নিয়ে দলের ভাবনারও কিছু নেই। 

কাউন্সিলর শোভন থেকেও নেই, অতীনকে নোংরা দেখালেন রত্না

দিলীপের এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে দেখে শোভনকে দূরে সরাচ্ছে দিলীপ ব্রিগেড। তবে দিলীপ যাই বলুক না কেন শোভনের মমতার থেকে ভাইফোঁটা নেওয়াকে শুভ বুদ্ধির উদয় হিসাবে দেখছেন রত্না চট্টোপাধ্য়ায়। এদিন তিনি বলেন, দলে ফিরলে ভালোই হবে। এতদিন ওকে ছোট ভাই হিসাবেই দেখেছেন দিদি। দিদি হলেও মুখ্য়মন্ত্রী আসলে ওর মায়ের মতো। নিজের ছোট ছেলে হিসাবেই ওকে দেখেছেন উনি। গত বছর ভাইফোঁটা নিতে পারেনি। এবার গিয়ে ভালো করেছে। আশা করি, এই শুভবুদ্ধিটা উনি ধরে রাখবেন। বিগত দিনে মমতাদির হাত ধরে যে উন্নতি হয়েছিল আগামী দিনেও তাহলে সেই উন্নতি বজায় রাখতে পারবেন। 

একই কথা শোনা গিয়েছে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মুখে।  এদিন মমতার কালীঘাটের বাড়িতে শোভনের ভাইফোঁটা উপলক্ষে তিনি বলেন, আমরা ছোট থেকেই ওনার কাছে ভাইফোঁটা নিয়ে এসেছি। ওনার কাছে ফোঁটা না নিলে মনোবেদনা হয়। আমার মনে হয়, ওনারও সেই মনোবেদনা হয়েছে। সেই থেকেই দিদির বাড়িতে গেছেন উনি। সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর সংযোজন, রাজ্যের এইরাজনৈতিক আবহে একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই সবার অসন্তোষ মেটানোর ক্ষমতা রাখেন। এটা কেউ যদি না বুঝতে পারে তাহলে সে ভুল করছে।