খাতায় কলমে তিনি এলাকার কাউন্সিলর। অথচ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই একপ্রকার নির্লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। এবার তাঁর ওয়ার্ডের পরিস্থিতি ঘুরে দেখলেন ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ। মেয়র পারিষদ স্বাস্থ্য়কে এলাাকার নোংরা দেখালেন শোভন জায়া রত্না চট্টোপাাধ্য়ায়।    

আরও পড়ুন : কাশ্মীরে বাঙালি শ্রমিক হত্য়ার দায় মোদী সরকারের, টুইটারে সরব মুখ্যমন্ত্রী

মানুষ চাইলেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না তাঁর সঙ্গে। এলাকাতে কাউন্সিলর নির্লিপ্ত থাকায় অভাব অভিযোগ পড়ে থাকছে বাক্সবন্দি হয়ে। এলাকায় ভরে উঠেছে আবর্জনার স্তূপ। জমা জলে নিত্যদিন জন্ম নিচ্ছে ডেঙ্গুর মশা।  ডেঙ্গুর আতঙ্ক থেকে বাঁচতে অবশেষে খোদ প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ওয়ার্ডের মানুষই যোগাযোগ করলেন কলকাতার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষের সঙ্গে। খবর পেয়ে কলকাতা পুরসভা এলাকাতে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড ঘুরে দেখলেন অতীনবাবু। নজর দেওয়া হল ডেঙ্গুর জন্য  চিহ্নিত বেহালার ৩ টে ওয়ার্ড। শোভন চট্টোপাধ্য়ায়ের অনুপস্থিতিতে তাঁর ১৩১নম্বর ওয়ার্ড অতীন ঘোষকে ঘুরিয়ে দেখান রত্না চট্টোপাধ্যায়।

পরে ডেপুটি মেয়র বলেন, 'এলাকায় পুর প্রতিনিধি না থাকলে মানুষকে অসুবিধায় পড়তেই হয়। তবে এই প্রথমবার নয়, এই নিয়ে তিন বার এলাকা পরিদর্শনে এলাম আমি। '  এদিন ডেপুটি মেয়রকে এলাকার  কয়েকটি ফাঁকা অপরিষ্কার জমি দেখান রত্না। যা দেখে ওই জমিগুলো পরিষ্কার করে মাঠ বা পার্ক করার আশ্বাস দেন অতীনবাবু। তবে তাঁর আক্ষেপ, সাধারণ মানুষ এলাকা পরিষ্কারের বিষয়ে সচেতন না হলে এই রকম হতেই থাকবে।  এ বিষয়ে ডেপুটি মেয়র বলেন,  শুধু কর্পোরেশন পরিষ্কার করলেই হবে না। মানুষকে সচেতন থাকতে হবে। মানুষই এই  জমি এবং পুকুরগুলো অপরিষ্কার করছে । বর্তমানে কলকাতায় ডেঙ্গুর পরিমাণ অনেকটাই কমেছে । কিন্তু বেহালা ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডে গতবারের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গুর সংখ্যা বেড়েছে ।  

ওয়াই ক্যাটাগরির নিরাপত্তা সব্যসাচীকে, নিরাপত্তা ফিরে পেয়ে কী বললেন রাজারহাট নিউটাউনের বিধায়ক

এদিন এলাকা পরিদর্শনে নেমে পর্ণশ্রী পদ্ম পুকুরের পাশে একটি চায়ের দোকানে ঢুকে রেগে যান অতীন।  চায়ের দোকানের মালিককে তিনি বলেন, চায়ের কাপগুলো সব পুকুরের মধ্যে পড়ে রয়েছে। এগুলোকে তুলে ফেলুন। না হলে আবার এখান থেকে জল জমে ডেঙ্গুর মশা জন্মাবে। এই বলেই অবশ্য় থেমে থাকেননি অতীন। শোভন নিয়ে আক্ষেপের সুর ধরা দেয় তাঁর গলায়। শোভন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গে স্থানীয় কাউন্সিলর শোভন চট্টোপাধ্য়ায় এক বছর যোগাযোগ করেননি।  সে ক্ষেত্রে কর্পোরেশনের বিভিন্ন কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। 

রাজ্য রাজনীতির সাম্প্রতিক অতীত বলছে, কিছুদিন আগে বিজেপিতে নাম লিখিয়েও এখন ফের ঘাসফুলের দিকে ভিড়ছেন শোভন। ভাইফোঁটায় মমতার বাড়িতে তাঁকে দেখে অবাক হয়েছেন অনেকেই। যেখানে বৈশাখী বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে নিয়ে মমতার বাড়িতে গিয়েছিলেন শোভন। সেখানে পুরোনো মেজাজে তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে দেখা যায় কলকাতার প্রাক্তন মেয়রকে। এমনকী শোভনের ভুঁড়ি কমেছে কিনা তা নিয়েও হাসি মশকরা হয়।