- Home
- West Bengal
- Kolkata
- 'SIR-এর কাজ নিয়ে বিডিও-এসডিওদের উপর চাপ সৃষ্টি', রাজ্য সরকারকে তুলোধনা শমীক ভট্টাচার্যের
'SIR-এর কাজ নিয়ে বিডিও-এসডিওদের উপর চাপ সৃষ্টি', রাজ্য সরকারকে তুলোধনা শমীক ভট্টাচার্যের
Samik Bhattacharya News: ভোটের আগেই এসআইআর বা ভোটার তালিকা নিবিড় সমীক্ষা ইস্যুতে উত্তপ্ত রাজ্য-রাজনীতি। কমিশনের কাজে বাধা দেওয়া থেকে শুরু করে একাধিক বিষয়ে তুঙ্গে শাসক-বিরোধী তরজা। এরই মধ্যে কমিশনের নির্দেশ নিয়ে শাসক শিবিরকে নিশানা শমীকের।

বিচারপতি ইস্যু নিয়ে মুখ খুলেছেন শমীক ভট্টাচার্য
‘’বিচারপতিরা বাইরের রাজ্য থেকে আসবেন কিনা সেটা দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। এই গোটা প্রক্রিয়ার মধ্যে সাধারণ মানুষ বা বিভিন্ন রাজনৈতিক দিনের কর্মী যারা ফ্রম সেভেন জমা দিয়েছেন তাদেরও যে অভিযোগ ছিল সেটা গ্রহণ করতে হবে । নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। ভয়মুক্ত পরিবেশে নিয়োগ হওয়া আধিকারিকরা কাজ করতে পারবেন এটা আশা রাখি ।''
নির্বাচনের জন্য কতটা প্রস্তুত বিজেপি?
‘’কিছু বেপরোয়া রাজ্য সরকারি আধিকারিক দেখা গিয়েছে । ক্ষমতা চির স্থায়ী নয়। রাজ্যের সিএস বিভিন্ন জায়গায় মনোবল বাড়ানোর কাজ করছেন যে সরকার পরিবর্তন হচ্ছে না । আজ যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেটার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এর উপর আঙুল তোলার পাশাপাশি মনে রাখতে হবে এরাজ্যের আমলাদের দায়িত্ব আছে । যে আচরণ তাদের থেকে বাংলার মানুষ দেখেছে সেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত ।''
অপরাধীদের আতুর ঘর এরাজ্য!
‘’আইএএস জঙ্গি এরাজ্যের মাটি থেকে ধরা পড়ছে । অপরাধীদের আতুর ঘর এরাজ্যের মাটি হতে পারে না । দেশের নিরাপত্তার বিষয়ে নাশকতার ছক তৈরি করার জমি হিসেবে রাজ্যকে ব্যবহার করার বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে না । ভারতীয় মুসলমানদের কাছে দাবি কোনো প্ররোচনায় পা দেবেন না । যারা বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলছে তাদের কথা শুনবেন না । আপনারা ভোট না দিলেও এরাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে । একটাই অনুরোধ তৃণমূলের নেতা যারা সংখ্যালঘুদের উস্কানি দিয়ে থাকেন তাদের কথা ভেবে আপনাদের বর্তমান অবস্থা চিন্তা করুন । গুজরাট এর মুসলমান আর আপনাদের মধ্যে কি তফাৎ দেখুন ।''
কোথায় কোথায় এসআইআর চলছে?
‘’পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে দেশের আরও ১১টি রাজ্যে এসআইআর শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি রাজ্যে এসআইআর সম্পূর্ণ হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে তালিকা থেকে ১০ কোটি নাম বাদ গিয়েছে। তাদের সময়সীমা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। কেরল ও তামিলনাড়ু অবিজেপি শাসিত রাজ্য, সেখানেও এসআইআর কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে।কোথাও কোনও বিরোধিতা নেই। কোথাও কোনও বিডিও অফিসে আগুন নেই, কোথাও কোনও জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক অবরোধ নেই, কোথাও ভিন্ন দলের বিএলএ-২ দের ওপর আক্রমণ নেই, কোথাও বিএলও-দের ভীতি প্রদর্শন করা নেই, তাদের বাধ্য করে করে ফলস ডকুমেন্ট সিস্টেমে আপলোড করার অভিযোগ নেই। একমাত্র অভিযোগ উঠে আসছে পশ্চিমবঙ্গে, এটা সামগ্রিকভাবে পশ্চিমবঙ্গবাসীর লজ্জা।''
শমীকের মুখে সুপ্রিম নির্দেশের কথা
‘’এর থেকে বড় দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা আর কিছু হতে পারে না, যখন সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিচ্ছেন, বিচারপতিকে দিয়ে এসআইআর এর কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। এর অর্থ হল, আমাদের প্রশাসকদের অযোগ্যতা, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব! এই রাজ্যে প্রশাসনের সম্পূর্ণ রাজনীতি হয়ে গেছে, যার ওপর সুপ্রিম কোর্ট কোনও আস্থা রাখতে পারছেন না। বিচারপতিরা বলছেন , তাদের নিরাপত্তার প্রয়োজন আছে, অর্থাৎ এরাজ্যে 'judiciary is under Threat'। বিচারপতিরা পর্যন্ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিভিন্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে বিচারকদের জামিন না দিতে বাধ্য করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। মিথ্যা মামলায় বিজেপি কর্মীদের হেনস্থা করা হচ্ছে। এরা বাম জমানার সমস্ত দৃষ্টান্তকেও ছাপিয়ে চলে গিয়েছে। ডেটা এন্ট্রি অপারেটর থেকে শুরু হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটিকে কলুষিত করার, বিপর্যস্ত করার, ভিন্ন পথে চালিত করার প্রচেষ্টা চলছে। এটা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার নয়, এটা তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার।''
বিডিও, এসডিও-দের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ
‘’এখনও পর্যন্ত বিডিও, এসডিও-দের ওপর ডিএম-রা চাপ সৃষ্টি করছেন। আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট, নো এসআইআর, নো ভোট! নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব, ত্রুটিমুক্ত ভোটার লিস্ট পশ্চিমবঙ্গবাসীকে উপহার দেওয়া। ভারতবর্ষের অন্যান্য প্রান্তে যদি নির্বিঘ্নে এসআইআর সম্পূর্ণ হতে পারে, পশ্চিমবঙ্গে কেন হচ্ছে না? কেন মানুষকে অযথা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে? বিজেপির বিএলএ-২ দের নামে ফর্ম ৭ ফিল-আপ করা হচ্ছে। ফর্ম-৭ সংক্রান্ত আমাদের সমস্ত অভিযোগ গ্রহণ করতে হবে। সিপিআইএমের হাতে আমাদের কর্মীরা শহিদ হয়েছেন। যে পরিস্থিতি তৈরি হল, তাতে সারা ভারতবর্ষের সামনে পশ্চিমবঙ্গবাসীর মুখ পুড়লো।''
বিচারপতিদের নিরাপত্তার দাবি
‘’কেন বিচারপতিদের নিয়ে আসতে হল? কেন তারা নিরাপত্তার দাবি করছেন? সিপিআইএম এখন আবার মুর্শিদাবাদের দিকে চলে গিয়েছে, আগে কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) ছিল, এখন কমিউনিস্ট পার্টি (মুর্শিদাবাদ) হয়ে গিয়েছে, বর্তমান রাজ্য সম্পাদকের নেতৃত্বে। ভেজালমুক্ত ভোটার লিস্ট পাওয়ার অধিকার প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের আছে, প্রত্যেকটি মানুষের আছে। তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। আমরা প্রথমদিন থেকে বলে এসেছি, জ্ঞানেশ কুমারের কলকাতায় আসার প্রয়োজন আছে। তিনি নিজে আসুন, মুর্শিদাবাদ দেখুন, ডোমকল দেখুন, দক্ষিণ ২৪ পরগণা দেখুন, কোন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে এরাজ্যে এসআইআর সংঘটিত হচ্ছে, এটা চাক্ষুষ করার জন্য অন্তত তিনি একবারের জন্য এখানে আসুন। বাইরের রাজ্য থেকেও বিচারপতিদের নিয়ে আসা হচ্ছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব, তিনি বিভিন্ন জায়গায় মনোবল বাড়ানোর কাজ করছেন, যে সরকার পরিবর্তন হচ্ছে না। এটা কোনও উচ্চপদস্থ আমলার থেকে কাম্য নয়।''

