২২৮ বি রাসবিহারী এভিনিউ। কলকাতার আর পাঁচটা  বাড়ির মতোই দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি তিনতলা বাড়ি। বাইরে থেকে কিছুই বোঝার উপায় নেই।  দুটি তলা জুড়ে চলছে রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা। আর তৃতীয় তলায়? তৃতীয় তলায় রমরমিয়ে চালানো হচ্ছে মধুচক্র।

হ্যাঁ খাস কলকাতার বুকেই দিনের আলোয় এই চক্র ধপল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই মধুচক্রের ব্যবসা চলত এই জায়গায়। বুধবার রাত্রে গড়িয়াহাট থানার পুলিশ সূত্র মারফত খবর পেয়ে হানা দেয় এই ঠিকানায়। সেখানে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায় জনা কয়েক পুরুষ মহিলাকে।

সমস্ত খতিয়ে দেখে স্তম্ভিত হয়ে যায় পুলিশই। কর্পোরেট অফিসের ধাঁচে সাজানো হয়েছিল এই মধুচক্রের আখড়া। রীতিমতো ম্যানেজারকে বাইরে বসিয়ে যোগাযোগ রাখা হত ক্লায়েন্টদের সঙ্গে। ফোনে ফোনেই চলত খদ্দরে ধরা। মধুচক্রের আসর বসতো এই ঠিকানায় প্রতি সন্ধেয়। এতটাই পারদর্শিতার সঙ্গে চলত এই কাজ যে  নীচের দুই তলার রিয়েল এস্টেট কর্মীরাও নাকি বুঝতেই পারেননি ঘটনার কথা। পুলিশের অতর্কিত হানাদারিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এই অঞ্চলে।

সূত্রের খবর, মোট ৫ জন মহিলা, ৪ জন পুরুষ ও ম্যানেজারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারির পরে তাদের মেডিকেল টেস্ট করানো হয়। মোট ১০জনকে গড়িয়ার থানার পুলিশ আগামীকাল আলিপুর আদালতে তুলবে।

প্রসঙ্গত কলকাতার নানা অঞ্চলেই এভাবেই ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে মধুচক্রের আসর। বাড়িওয়ালা বাড়িভাড়া দিয়ে  গা ঢাকা দিচ্ছেন। ব্যস্তশহরে কাক পক্ষীও টের পাচ্ছে না আবডালে কী হচ্ছে।