ব্যস্ত পার্কস্ট্রিটে ঘুরঘুর করছেন তিন ব্যক্তি। দেখে ঠাওর করার উপায় নেই তাদের মতলব। সেন্ট জেমস চার্চের সামনে আসলে তারাই চালাচ্ছিল জাল টাকা সচল করার খেলা। তবে শেষরক্ষা হল না। তদন্তে নেমে পুলিশ তাদের শ্রীঘরে নিয়ে গেল।

সূত্র মারফত খবর পেয়ে, এদিন স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের অফিসাররা হানা দেয় পার্ক স্ট্রিট থানা অন্তর্গত সেন্ট জেমস চার্চ এলাকায়।  প্রসঙ্গত সেন্ট জেমস চার্চ সংলগ্ন সদর স্ট্রিট অঞ্চলে বহু বিদেশি পর্যটকের বাস। কলকাতায় এসে ওই পাড়াতেই হোটেলে ওঠে তারা। নোটবদলের জন্যে তাঁরা দারস্থ হন ওই এলাকার স্থায়ী অস্থায়ী ব্যবসায়ীর। এই সুযোগকে কাজে লাগাতেই এই এলাকায় জাল সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা নিয়ে হাজির হয়েছিল জনা তিনেক ব্যক্তি। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান বহু দিন ধরেই এই অসাধু চক্র চালাচ্ছে ওই ব্যক্তি।

আরও পড়ুনঃ উলুবেড়িয়ায় জেএমবি জঙ্গিঘাঁটি! চাঞ্চল্যকর নথি গোয়েন্দাদের হাতে
বাংলা জুড়ে চলছে জঙ্গি ট্রেনিং, মাদ্রাসাগুলিই প্রশিক্ষণ স্কুল, জানাচ্ছে কেন্দ্র

ধৃত নাসিরুদ্দিন মোমিন, শাহিদ শেখ ও সুমন সরকারের কাছে ২০০০ টাকার ৩২৫ টি জাল নোট  পায় পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে দুই জন তথা  নাসিরুদ্দিন মোমিন ও শাহিদ শেখ কালিয়াচক অঞ্চলের বাসিন্দা। সুমন সরকারের বাড়ি উত্তর দিনাজপুর অঞ্চলে। ধৃতদের প্রত্যেকেরই বয়েস ৩০ এর নীচে। এসটিএফ-এর তরফে ধৃতদের বিরুদ্ধে আইপিসি ৪৮৯ বি, ৪৮৯ সি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিনই শুনানির জন্যে তাদের কোর্টে তোলা হবে। 

প্রসঙ্গত, পার্ক স্ট্রিট অঞ্চলে মিউডজিয়াম সংলগ্ন অঞ্চলে দিনের আলোয় স্মারক কয়েন বিক্রি  করেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। স্মারক কয়েনগুলি বেশির ভাগই নকল। বডবাজারে তৈরি হওয়া এই কয়েনগুলি বিদেশি পর্যটকদের আগে চড়া দামে বিক্রি করত একদল অসাধু ব্যবসায়ী। কিন্তু সম্প্রতি সরকারি আইনের ফলে বিদেশিরা এই কয়েন নিয়ে যেতে পারেন না ভারতের বাইরে। এর ফলেই টান পড়েছে এই ব্যবসায়। এই ব্যবসায়ীরাই এই চক্রের সঙ্গে জড়িত কিনা, তাও খতিয়ে দেখবে পুলিশ।