শুক্রবার সকালেই লেকটাউনে তাঁর চায়ে পে চর্চায় হামলা চালায় তৃণমূলের কর্মীরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন খোদ রাজ্য় বিজেপির রাজ্য সভাপতি। স্বয়ং তৃণমূলের কাউন্সিলর দাঁড়িয়ে থেকে দিলীপবাবুর ঘোষিত কর্মসূচিকে বানচাল করার চেষ্টা চালান। কিন্তু তিনি যে ভয় পাওয়ার পাত্র নন,তা এশিয়ানেট নিউজ বাংলাকে জানিয়ে দিলেন খোদ বিজেপির সভাপতি। দিলীপবাবু বলেন,'আমাকে ভয় পাচ্ছে তৃণমূল। তাই এই ধরনের কাজ করছে।' মমতার উদ্দেশ্য়ে রাজ্য় বিজেপির সভাপতি বলেন,'আমার পিছনে না লেগে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন করুন মানুষ আশীর্বাদ করবে। নয়তো ১৯-এ হাফ হয়েছে, ২১-এ সাফ হয়ে যাবেন।'

আরও পড়ুন : চা চক্রে 'আক্রান্ত' দিলীপ, দমকল মন্ত্রী বললেন স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ

আরও পড়ুন :আক্রান্ত দিলীপ ঘোষ, কাউন্সিলরের উপস্থিতিতেই হামলা চালাল ২৫০ তৃণমূল-কর্মী
এই বলেই অবশ্য় থেমে থাকেননি বিজেপির এই হেভিওয়েট নেতা। তিনি বলেন, 'তৃণমূলের আমলে এখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে চাও খেতে পারব না। রাজ্যের এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ওরা চাইছে আমি অন্য়ায়ের বিরোধিতা না করি। অন্য়দের মতো ঘরে ঢুকে থাকি। আমি তা সত্ত্বেও অন্য়ায়ের বিরোধিতা করেছি। তাই এখন ওরা আমায় শারীরিক নিগ্রহ করতে চাইছে।'
রাজ্য বিজেপির অন্দরমহল বলছে,দিদিকে বলো-র পাল্টা জনসংযোগে 'চায় পে চর্চা' শুরু করেছেন বিজেপির রাজ্য় সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সকালে হাঁটতে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন তিনি। শুক্রবারও সেই একই কর্মসূচির জন্য লেকটাউন দক্ষিণদাড়িতে যান তিনি। বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, এদিন লেকটাউনের সাত নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণদাড়িতে একটি চায়ের দোকানে বসেন দিলীপবাবু। এই খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে উপস্থিত হন  স্থানীয় কাউন্সিলর মায়া মাইতি সহ পার্শ্ববর্তী দুটি ওয়ার্ডের তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। বিজেপির রাজ্য সভাপতির কর্মসূচিতে বাধা দেন তাঁরা। এক সময় বচসা ধাক্কাধাক্কির রূপ নেয়। শেষে হাতাহাতি শুরু হয় দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে। যাতে দুজন বিজেপির সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ। পরে তাঁদের একটি স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

আরও পড়ুন :'পলিটিক্য়াল টুরিজম' করছেন, দেবশ্রী নিয়ে আপত্তিতে অনড় শোভন

আরও পড়ুন :রাণু মণ্ডলকে জড়িয়ে ছবি, রেডিও জকিকে রাণুর মেয়ে ভেবে গালিগালাজ

বিজেপির অভিযোগ,লেকটাউনে যেখানে এই ঘটনা ঘটেছে তার দিল ছোড়া দূরত্বে দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর বাড়ি। ওনার ইশারাতেই এই ঘটনা ঘটেছে। পরে অবশ্য পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিজেপির এই অভিযোগ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু বলেন, 'দেখুন এটা একটা পাড়া। এই পাড়ার একটা সংস্কৃতি আছে। সেই পাড়ায় যদি কেউ রাস্তা বন্ধ করে টেবিল পেতে চা খেতে বসেন,তাহলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। সাধারণ মানুষ এর প্রতিবাদ করেছেন। এছাড়াও সারা দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা সব বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিজেপি সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প বেসরকারি হাতে তুলে দিচ্ছে। অটোমোবাইল ক্ষেত্রে ১০ লক্ষ লোকের চাকরি চলে যাচ্ছে। তাই সাধারণ মানুষের এই নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। এদিন সেই ক্ষোভই প্রকাশ করেছে সাধারণ মানুষ।'