রাজ্য়সভায় তৃণমূলের প্রার্থী হতে পারেন দলের পলিটিক্যাল স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোর। ইতিমধ্য়েই প্রশান্তকে রাজ্য়সভায় প্রার্থী হতে বার্তা পাঠিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। সর্বভারতীয়  সংবাদ মাধ্য়মের খবর, এখনও এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন পিকে। তবে কীলাঘাটে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, প্রশান্তকে রাজ্য়সভায় পেতে চেষ্টার খামতি রাখছেন না তৃণমূল সুপ্রিমো।

দক্ষিণেশ্বরের গঙ্গাস্নানে জটিল রোগের সম্ভাবনা, জানাল দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ

দেশের রাজনীতির অতীত বলছে,জেডিইউ থেকে বহিষ্কারের পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন দলের পারমর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর। রাজ্য় রাজনৈতিক মহলে এই নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। জল্পনায় ইন্ধন জুগিয়েছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উনি দলের পরামর্শদাতা হিসাবে কাজ করেছেন। দলে এখনও পর্যন্ত বেশ সুনামের সঙ্গে  কাজ করেছেন। ওনার দলে যোগ দেওয়ার বিষয়টা পুরোপুরি দলনেত্রী ঠিক করবেন। এর থেকে বেশ কিছু বলতে পারব না। 

পুরভোটে প্রার্থী পেতে নয়া পন্থা, রাজ্য দফতরে ড্রপ বক্স বসাল বিজেপি

রাজ্য় রাজনৈতিক মহল বলছে, পিকে জেডিইউ ছাড়ায় তাঁকে পেতে মরিয়া  হয়ে উঠেছে তৃণমূল। দলের পার্ট টাইম ভোট পরামর্শদাতাকে দিয়ে বিধানসভার বৈতরণী পার করতে চাইছে কালীঘাট। এবিষয়ে শীঘ্রই প্রশান্তের কাছে বার্তা যেতে পারে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রশান্ত কিশোর দায়িত্ব নেওয়ার পর ভালো ফল করেছে তৃণমূল। লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে দল। দিদিকে বলো হিট করায় তিন বিধানসভা উপনির্বাচনে জয় পেয়েছে দল। বিজেপির উত্থানকে অনেকটাই কাবু করা গেছে ' পিকে টনিকে।' রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, প্রশান্ত জেডিইউ ছাড়ায় তাঁকে দলে স্থায়ী ভাবে পেতে ঝাঁপাবে ঘাসফুল বাহিনী।

শীতের পর বসন্তেও জারি আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা, কলকাতা সহ রাজ্যে ফের বৃষ্টির সম্ভাবনা

সংসদে ইতিমধ্য়েই তৃতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল তৃণমূল কংগ্রেস। সেক্ষেত্রে বিজেপি, কংগ্রেসের পর জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল যথেষ্টই শক্তিশালী। তবে বাংলার বাইরে দলের সেভাবে প্রভাব নেই। এটা ভাবাতে পারে  প্রশান্তকে। বিহারের রাজনীতির দিকে তাকালে দেখা যাবে, কিছুদিন ধরেই সিএএ নিয়ে প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছিল জেডিইউ প্রধান নীতীশ কুমারের। প্রকাশ্য়েই সিএএ-র বিরোধিতা করায় পিকে নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছিল দলে। শেষে প্রশান্তকে বহিষ্কার করেন জেডিইউ প্রধান।   

এদিকে এপ্রিলেই মেয়াদ ফুরোচ্ছে ১৭ রাজ্য়ের ৫৫ জন রাজ্য়সভার সাংসদের। মেয়াদকাল ফুরোনোর  আগেই ২৬ মার্চ ফের হতে চলেছে রাজ্য়সভার ভোট। এমনই ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। জানা গিয়েছে, ৬ মার্চ জারি করা হবে এই বিজ্ঞপ্তি। তার আগেই চলতি বছরে রাজ্য়সভার নির্বাচনের খুঁটিনাটি তুলে ধরল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বিবরণ বলছে, বিজ্ঞপ্তি জারির  পরই ১৩ মার্চের মধ্য়ে মনোনয়ন জমা দিতে হবে প্রার্থীদের। বাংলা থেকে এপ্রিলেই রাজ্য়সভা সাংসদের মেয়াদকাল ফুরোচ্ছে ৫ সাংসদের। যাদের  মধ্য়ে নাম রয়েছে, ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায়, আহমেদ হাসান ইমরান,মনীশ গুপ্ত, যোগেন চৌধূরী ছাড়়াও তৃণমূলের কানওয়ার দীপ সিংহের। দল নতুন করে মনোনীত করলে বাকি রাজ্য়ের প্রার্থীদের সঙ্গে ১৬ মার্চের মধ্য়ে এদের মনোনয়নের স্ক্রুটিনি করবে কমিশন। এরপরই ২৬ মার্চ ভোটপর্ব।

আগামী ২ এপ্রিল মেয়াদকাল ফুরোচ্ছে বাংলার ৫ সাংসদের। আগে বাম সাংসদ থাকলেও এখন তৃণমূলে রয়েছেন রাজ্য়সভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। এই তালিকায় রয়েছেন আহমেদ হাসান ইমরান ছাড়াও কানওয়ার দীপ সিং বা  কেডি সিং। রাজ্য়সভার সাংসদ পদে থাকলেও বহুদিন ধরেই দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে কানওয়ার দীপ সিংয়ের। নারদা স্টিং অপারেশনে পুরো পরিকল্পনা কানওয়ারের  মস্তিস্কপ্রসূত বলেই দাবি  করেছেন অনেকে। এরপর থেকেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে কেডি সিংয়ের। মনে করা হচ্ছে, আগামী দিনে এই পাঁচ সাংসদ রাজ্য়সভার মনোনয়ন নাও পেতে পারেন। সেই জায়গায় প্রশান্ত  কিশোরকে দেখতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী।