মাত্র ১৫ দিনেই ছন্দপতন। দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে যোগ দেওয়ার পর এবার দল ছাড়তে চাইলেন শোভন-বৈশাখী। ইতিমধ্যেই দল ছাড়তে চেয়ে কেন্দ্রীয নেতৃত্বকে চিঠি দিয়েছেন তাঁরা।
সুখের রাজ্যে বিলাসের দিন শেষ। মাত্র দুসপ্তাহেই বিজেপির সঙ্গে ঘর ভাঙার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন নব্য বিজেপি নেতা শোভন চট্টোপাধ্য়ায় ও তাঁর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর,নিষ্কৃতি চিঠিতে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন,তৃণমূলের চটিতেই পা গলিয়েছে বিজেপি। যেভাবে দলে অমর্যাদার স্বীকার হতে হচ্ছে তাতে এই পরিবেশে থাকা যায় না। বৈশাখীর দাবি, মিথ্যে কথা বলে তাঁদের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হচ্ছে। এই পরিবেশে কাজ করা যাচ্ছে না। এই পরিবেশে যদি কাজ করতে হত তাহলে পুরোনো দলেই থাকা যেত।

আরও পড়ুন :বাংলায় মমতা ও হিংসা সমার্থক শব্দ , দিদিকে খোঁচা কৈলাসের 

আরও পড়ুন :আমাকে ভয় পাচ্ছে তৃণমূল, দিদিকে বার্তা দিলীপের


সূত্রের খবর,বান্ধবীর বক্তব্য়ের সঙ্গে একমত শোভনও। বৃহস্পতিবার রাতে এনিয়ে নিজেদের মতামত বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে জানিয়েছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতায় কৈলাস বিজয়বর্গীয়র দক্ষিণ কলকাতার ফ্ল্য়াটে এ বিষয়ে কথা হয়েছে তাঁদের। সেখানে নতুন দলে মর্যাদাহানীর কথা উল্লেখ করেছেন শোভন। রাজ্য বিজেপির একাংশ জানিয়েছে, তাঁদের সম্পর্কে সংবাদ মাধ্যমে যে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে তা নিয়ে আপত্তি রয়েছে শোভনবাবুর। এই প্রতিবেদনে বৈশাখীর মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে বলে অভিমত তাঁর। দলের তরফে এর কোনও প্রতিবাদ না হওয়ায় আরও ক্ষুব্ধ হয়েছেন তিনি। এখানেই থেমে থাকেনি শোভনের আপত্তি। কদিন আগেই এক সংবাদপত্রে বলা হয়, দেবশ্রী রায়কে বিজেপিতে নিতে আপত্তি ছিল না শোভনের। কিন্তু তাতে বাদ সাধেন খোদ বৈশাখী। তাঁর আপত্তিতেই নাকি দিল্লিতে দেবশ্রীর বিজেপিতে যোগদান থমকে যায়। কৈলাসকে তিনি জানিয়েছেন,দলের এক গুরুত্বপূর্ণ ব্য়ক্তিও এই তত্ত্বে সিলমোহর দিয়েছেন। এমনকী জয়প্রকাশ মজুমদারের সঙ্গে সখ্যতা থাকলেও এখন আর জয়প্রকাশকে সেভাবে বিশ্বাস করতে পারছেন শোভন-বৈশাখী। 

আরও পড়ুন :আরও বিপাকে তৃণমূল সাংসদরা, এবার সিবিআই দফতরে প্রসূন, দেখুন ভিডিও

আরও পড়ুন :লড়াই শেষ হল কোলাঘাটের নির্যাতিতার, বড় আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি বিজেপি-র


তবে কৈলাসের সঙ্গে বৈঠকের পরই নাকি বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করতে চান শোভন-বৈশাখী। মূলত, দেবশ্রী রায় নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করতেই কৈলাসের কাছে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন বৈশাখী । পরে বান্ধবীর অমর্যাদা তিনি মেনে নেবেন না বলে জানিয়ে দেন শোভন। ঘনিষ্ঠ মহলে শোভন জানিয়েছেন,বিজেপিতে গিয়ে কোনও পদই চাননি তিনি। কেবল সম্মানটুকু চেয়েছিলেন। তৃণমূলের অমর্যাদার জন্যই দল ত্যাগ করেছিলেন। বিজেপিতে গিয়েও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন।