বৃষ্টি বন্ধ করতে মরিয়া চেষ্টা যজ্ঞের আয়োজন করল গড়িয়ার পুজো কমিটি বৃষ্টিতে ভেস্তে যেতে বসেছে পুজোর আয়োজন

পুজোর আয়োজন প্রায় সাড়া। কিন্তু যাবতীয় আয়োজন মাটি করে দিতেই যেন থামছে না বৃষ্টি। দেবীপক্ষের সূচনাতেও ভাল খবর শোনাতে পারছে না হাওয়া অফিস। এবার তাই বৃষ্টি অসুরকে বধ করতে যজ্ঞ করল কলকাতার এক পুজো সংস্থা। শনিবার সকালে এমনই ছবি দেখা গেল দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার গড়িয়ায়। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ভরা বর্ষার মরশুমে বৃষ্টির জন্য হাপিত্যেশ করে বসে থাকতে হয়েছে রাজ্যবাসীকে। কিন্তু এখন সেই বৃষ্টিই পুজোর আনন্দ মাটি করে দেওয়ার ভয় দেখাচ্ছে। বৃষ্টির কারণে পুজো উদ্যোক্তাদেরও মাথায় হাত। তাই বৃষ্টি কমাতে মহালয়ার দিন সকালেই ষজ্ঞের আয়োজন করেছিল গড়িয়ার বৈশাখী সংঘ। যজ্ঞের পাশাপাশি ৯ বছরের বিস্ময় বালক অভীক পুররকাইতকে দিয়ে চণ্ডীপাঠও করানো হয়। 

আরও পড়ুন- রাজ্য জুড়ে তিন দিন ভারী বৃষ্টি, দেবীপক্ষের শুরুতেই দুর্যোগের সতর্কবার্তা

গড়িয়া বৈশাখী সংঘের পুজো এবারে ৪৭ বছরে পড়ল। এবারে তাদের মণ্ডপ ভাবনা রাজকাহিনির ঝাড়বাতিতে রাজকন্যার নূপুর। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে যেভাবে টানা বৃষ্টি চলছে, তাতে মণ্ডপসজ্জার কাজই প্রায় পণ্ড হতে বসেছে। ফলে চিন্তায় পড়েছেন পুজোর কর্তারা। পাড়ার ছোটদেরও মন খারাপ। একই অবস্থা এলাকার অন্যান্য পুজো উদ্যোক্তাদেরও। তাই অবিলম্বে যাতে এই বৃষ্টি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্ধ হয় সেই কারণে যজ্ঞ, পূজা অর্চনা করার সিদ্ধান্ত নেন বৈশাখী সংঘের সদস্যরা। এ দিন সকাল থেকেই সেই আয়োজন শুরু হয়ে যায়।

এই পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা শ্যামল সেন শর্মা বলেন, 'সারা বছর ধরেই বাঙালি এই দুর্গাপুজোর জন্য অপেক্ষা করে থাকে। আমরা পুজো উদ্যোক্তারাও দিনের পর দিন পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় করে মণ্ডপ, প্রতিমা সাজিয়ে তুলি সাধারণ মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্য। আর সেই কটাদিন যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে সব মাটি হয়ে যাবে। আমরা তাই প্রকৃতিকে শান্ত করতে এবং পুজোর কটাদিন যাতে বৃষ্টি না হয়, সবাই আনন্দ করতে পারেন, সেই কামনাতেই এই যজ্ঞ করছি।'

এ দিনও অবশ্য আলিপুর আবহাওয়া দফতর থেকে আগামী তিন দিন প্রায় গোটা রাজ্যেই ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে। ফলে সাধারণ মানুষ থেকে পুজো উদ্যোক্তা, সবারই চিন্তা বাড়ছে।