ক্যানসার থেকে বাঁচতে প্রতিষেধক নেওয়া জরুরি। তবে সব ক্যানসারের টিকা ভারতে এখনও আসেনি। বেশ কিছু টিকা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পথে। তবে দেশে এখন যে সব প্রতিষেধক পাওয়া যায়, সেগুলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

ভারতে বর্তমানে মূলত জরায়ুমুখ বা সার্ভিকাল ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য এইচপিভি (HPV) টিকা প্রধান, যা ৯-৪৫ বছর বয়সের নারীরা নিতে পারেন। সিরাম ইনস্টিটিউটের Cervavac (প্রায় ₹২০০০), Gardasil 9 (প্রায় ₹১০,৮৫০), ও Gardasil 4 (₹২০০০-₹৪০০০) এর মতো টিকাগুলো বাজারে উপলব্ধ । এছাড়া লিভার ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য হেপাটাইটিস বি (HBV) টিকাও রয়েছে।

ভারতে প্রাপ্য প্রধান ক্যান্সার প্রতিরোধক টিকাগুলোর বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:

১. সার্ভিকাল ক্যান্সার বা জরায়ুমুখ ক্যান্সারের টিকা (HPV Vaccine):

এই টিকাগুলি হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (HPV) সংক্রমণ প্রতিরোধ করে, যা জরায়ুমুখের ক্যান্সারের প্রধান কারণ।

* টিকার প্রকারভেদ ও দাম (প্রতি ডোজ):

• Cervavac (সার্ভাভ্যাক): এটি ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তি (Serum Institute) দ্বারা নির্মিত সাশ্রয়ী টিকা, দাম প্রায় ₹২০০০। * Gardasil 9 (গার্ডাসিল ৯): সবচেয়ে উন্নত টিকা, ৯টি HPV স্ট্রেন থেকে সুরক্ষা দেয়। দাম বেশি, প্রায় ₹১০,৮৫০। * Gardasil 4 (গার্ডাসিল ৪): ৪টি স্ট্রেন থেকে সুরক্ষা দেয়, দাম প্রায় ₹২০০০-₹৪০০০ * Cervarix (সার্ভারিক্স): ২টো হাই-রিস্ক HPV স্ট্রেন থেকে রক্ষা করে, দাম ₹৩০০০-₹৩,৫০০।

* নেওয়ার সঠিক বয়স:

• ৯ থেকে ১৪ বছরের কিশোরীদের জন্য ২টি ডোজই যথেষ্ট (০ এবং ৬-১২ মাস ব্যবধানে)। * ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারীরাও এই টিকা নিতে পারেন, তবে সেক্ষেত্রে ৩টি ডোজ (০, ১-২, এবং ৬ মাস ব্যবধানে) দেওয়া হয় । * যৌন সক্রিয় হওয়ার আগে (১৫-২৬ বছর বয়স) এই টিকা সবচেয়ে বেশি কার্যকর, তবে ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত নেওয়া যেতে পারে।

২. লিভার ক্যান্সারের টিকা (Hepatitis B Vaccine):

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস দীর্ঘমেয়াদী লিভারের রোগ এবং লিভার ক্যান্সারের (Hepatocellular Carcinoma) ঝুঁকি বাড়ায়। এই টিকাটি শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক সবাই নিতে পারেন। এটি সরকারি টিকাকরণ কর্মসূচির (Universal Immunization Programme) অংশ এবং সুলভ।

টিকা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি:

* কার্যকারিতা: HPV টিকা ৯-১৪ বছর বয়সে নিলে প্রায় ১০০% সুরক্ষা পাওয়া যায়, কারণ তখন শরীরে ভাইরাসের সংস্পর্শ থাকে না।

* পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: টিকা দেওয়ার স্থানে ব্যথা, লালভাব, জ্বর বা মাথাব্যথা হতে পারে, যা সাধারণত সাময়িক ।

* বিশেষ টিপস্: টিকা নিলেও নিয়মিত জরায়ুমুখের ক্যান্সার স্ক্রিনিং (PAP Smear) করানো জরুরি।

পরামর্শ: টিকা নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন গাইনিকোলজিস্ট বা ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া উচিত।