অনেকেই খুব হতাশ। একেবারে কিছু করার নেই। বাড়িতে বসে বসে মাছি তাড়ানো ছাড়া। কেউ কেউ প্রশ্ন করছেন, কবে উঠবে লকডাউন। কেউ কেউ আবার আশঙ্কা করছেন,  লকডাউনের মেয়াদ আবার বাড়বে না? এই দমবন্ধকর পরিস্থিতিতে কী করা যায়, কীভাবে কাটানো যায় দিনগুলোকে-- পরামর্শ দিলেন সায়কিয়াট্রিস্ট ডা. অনির্বাণ দত্ত।

দেখুন লকডাউনের সময়ে বাড়িতে বসে থাকতে কাউরই ভালো লাগে না। জানি। কিন্তু তাই বলে এখন তো বাইরে বেরিয়ে আড্ডা মারা সম্ভব নয়। ওই কাজটি করলেই সর্বনাশ। অনেকেই বলছেন, কী করবো বলুন তো বাড়িতে বসে বসে। কেউ  কেউ তো আবার রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। করোনার সংক্রমণ বেড়ে চললে কী হবে। ভবিষ্য়ৎ তো একেবারে অন্ধকার। এই পরিস্থিতিতে, খবরের কাগজে, নিউজ চ্য়ানেলে, ডিটিটাল প্ল্য়াটফর্মে গুচ্ছের ভয়ের খবর। একে মনমেজাজ ঠিক নেই, তার ওপর আবার এই ধরনের খবরে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। এ প্রসঙ্গে দু-একটা জরুরি কথা বলা দরকার। 

করোনা মোকাবিলায় রক্ষা করুন নিজেকে, মেনে চলুন 'হু' এর পরামর্শ

সাবধান, করোনা আতঙ্কের মধ্যে এই কাজ করলেই হতে পারে জেল

কী করে করোনার হাত থেকে রক্ষা করবেন আপনার বাড়ির বয়স্ক সদস্যদের, রইল তারই টিপস

শরীরে কীভাবে থাবা বসায় করোনা, জানালেন বিশেষজ্ঞরা

দেখুন, সব খারাপেরই তো ভালো দিক থাকে। তাই একটু অন্য়ভাবে ভাবুন না এই ক-টা দিন।  ক্রমাগত নেগেটিভ খবর না-দেখে একটু বই পড়ুন, বাচ্চাদের সঙ্গে একটু সময় কাটান। বাচ্চাদের একটু গল্প শোনান। বাড়িদের বয়স্কদের  একটু  সময় দিন। আর নিজের ভেতর লুকিয়ে থাকা নিজেকে আবিষ্কার করুন।

আমাদের রোজকারের ব্য়স্ততায় এখন বাড়ির ছোটদের সময় দেওয়াই হয় না। তাই তাদের এখন সময় দিন। নানা বিষয় নিয়ে গল্প করুন। দেখবেন আপনারও ভালো লাগবে, তাদেরও ভালো লাগবে। বাড়ির বয়স্ক মানুষটাকে  আর একটু বেশি  সময় দিন। এই ক-টা দিন একটু খটাখটি হয়তো লাগবে, তারপর আবার সব ঠিক হয়ে যাবে।

স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের উদ্দেশে বলবো, দুশ্চিন্তা না-করে এই সময়ে অন্য় বিষয়গুলো পড়ে ফেলো। আগামিদিনের পরিকল্পনা করো। ডিজিটাল প্ল্য়াটফর্ম রয়েছে অনেক। সেখান  থেকেও অনেককিছু আদানপ্রদান করতে পারো। দেখবে, সময় নষ্ট হবে না। সময়টা বরং কাজে লাগবে।

অনেকদিন বাড়িতে যে ক্য়ারাম বোর্ডটা পড়ে রয়েছে, ঘুঁটিগুলো সাজিয়ে খেলা আর হয় না, সেই বোর্ডটাকে ঝেড়েপুঁচে বার করুন। তারপর বাড়ির সকলে  একসঙ্গে খেলতে শুরু করুন। দীর্ঘদিন কিন্তু এভাবে একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ আপনি পাননি বাড়ির লোকদের সঙ্গে। 

যারা এই অতিমারীতে শুধুই নেগেটিভটুকু দেখছেন, তাঁদের বলি, এর মধ্য়ে কিন্তু কিছু পজিটিভ জিনিসও রয়েছে। প্রকৃতি পরিবেশ আজ দূষণমূক্ত। এমন নির্মল আকাশ বহুদিন দেখা যায়নি। তাই আসুন না আমরা চেষ্টা করি, লকডাউন উঠে যাওয়ার পর পরিবেশের কথা আর একটু ভাবি। নিজেদের লাইফ স্টাইল পাল্টে ফেলি। এই যে বারবার হাত ধোওয়া, যেখানে সেখানে থুতু না-ফেলা, হাঁচিকাশির সময়ে হাত দিয়ে মুখ ঢাকা, এই স্বাস্থ্য়কর অভ্য়েসগুলো যদি আমরা  জিইয়ে রেখে দিতে পারি, করোনার  মরশুম পেরিয়ে যাওয়ার পরও, তাহলে তো আমাদেরই লাভ। সর্বোপরি এইভাবে ভাবুন না-- সবটাই কিন্তু অন্ধকার নয়, আলোও রয়েছে এর মধ্য়ে।