সরস্বতী পুজোর পরেরদিন শীতল ষষ্ঠী। বাড়ির মেয়েরা ব্রত পালন করেন। ওইদিন দিনভর বাড়িতে বন্ধ থাকে রান্নাবান্না। আগের রাতে রান্না করা গোটা সেদ্ধ খান তাঁরা। কিন্তু কেন যুগের পর যুগ ধরে সরস্বতী পুজোর পরেরদিন পালন করা হয় শীতল ষষ্ঠী?

আজ বিদ্যার দেবী বাগদেবীর আরাধনার দিন। বাগদেবীর আরাধনা প্রত্যেক বাড়িতেই ছোট বড় করে পালন করা হয়। আজকের দিনে ছোট বড় সকল ছেলেমেয়েরাই পুজো নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠে। আর ঠিক এর পরের দিন 'গোটা সেদ্ধ' খাওয়ার চল আছে। মূলত শীতল ষষ্ঠীর ব্রত এবং 'অরান্ধন' প্রথা পালনের জন্য। যেখানে সেদিন রান্না হয় না, আগের রাতে তৈরি হওয়া এই ঠান্ডা, পুষ্টিকর খাবারটি স্বাস্থ্য ও ঐতিহ্যের প্রতীক। যা অলসতা, খাদ্য অপচয় রোধ এবং শীতের মরসুমে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।

পাশাপাশি এটি আত্মসংযম ও আধ্যাত্মিকতারও প্রকাশ, যা খাবারকে ঠান্ডা রেখে জাগতিক আসক্তি থেকে দূরে থাকার প্রতীকী অর্থ বহন করে।

গোটা সেদ্ধ বা শীতল ষষ্ঠীর মূল উৎস:

১. শীতল ষষ্ঠী ও অরান্ধন:

• সরস্বতী পুজোর পরদিন পালিত হয় 'শীতল ষষ্ঠী'। • এই দিনে বাড়ির মহিলারা ব্রত পালন করেন এবং উনুন জ্বলে না (অরন্ধন), অর্থাৎ কোনো নতুন রান্না হয় না। • আগের রাতে (সরস্বতী পুজোর দিন) তৈরি করা 'গোটা সেদ্ধ' ঠান্ডা অবস্থায় খাওয়া হয়, যা এই প্রথার মূল ভিত্তি।

২. স্বাস্থ্য ও পুষ্টি:

• শীতকালে বিভিন্ন ধরনের সবজি (যেমন - লাউ, কুমড়ো, আলু, পেঁপে, বেগুন, শিম) ও ডাল দিয়ে এই খাবার তৈরি হয়, যা অত্যন্ত পুষ্টিকর। * ঠান্ডা অবস্থায় এই খাবার খেলে পেট ঠান্ডা থাকে এবং শরীরকে শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচানো যায়, যা এই সময়ের জন্য উপকারী।

৩. ঐতিহ্য ও সংযম:

• অপচয় রোধ: খাবার নষ্ট না করার একটি বড় শিক্ষা দেয় এই প্রথা। যেহেতু আগের দিনের খাবার ঠান্ডা খাওয়া হচ্ছে, তাই খাবারের প্রতি শ্রদ্ধা ও অপচয় রোধ করার সংস্কৃতি বজায় থাকে। * আধ্যাত্মিকতা: ঠান্ডা ও বাসি খাবার খাওয়াকে জাগতিক আসক্তি থেকে দূরে থাকার এবং আত্মসংযমের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়, যা জ্ঞানের দেবীর আরাধনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

৪. প্রতীকী তাৎপর্য: * মা সরস্বতী জ্ঞানের দেবী। তাঁর পরের দিন এই 'অরান্ধন' ও 'গোটা সেদ্ধ' প্রথা পালন করে পরিবারে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের বার্তা দেওয়া হয়।

সংক্ষেপে, গোটা সেদ্ধ খাওয়া শুধু একটি খাবার নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের এক সুমধুর মেলবন্ধন, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে।