সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় স্তন ক্যানসারের সঙ্গে স্থূলত্বের সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবী করা হয়েছে। এই গবেষণায় বলা হয়েছে যে স্থূলতা এবং স্তন ক্যান্সারের মধ্যে একটি যোগসূত্র রয়েছে, যা মারাত্মক উদ্বেগের বিষয়।

স্থূলতাকে হালকাভাবে নেওয়া হলেও, এটি এমন একটি রোগ যা অনেক গুরুতর রোগের কারণ হতে পারে। স্থূলতা শুধু ডায়াবেটিস, রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকিই নয়, ক্যান্সারের মতো মারণ রোগেরও কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় স্তন ক্যানসারের সঙ্গে স্থূলত্বের সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবী করা হয়েছে। এই গবেষণায় বলা হয়েছে যে স্থূলতা এবং স্তন ক্যান্সারের মধ্যে একটি যোগসূত্র রয়েছে, যা মারাত্মক উদ্বেগের বিষয়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

স্থূলতার কারণেও হরমোনের মাত্রার পরিবর্তন হতে পারে, যেমন অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন, যা স্তন ক্যান্সারের প্রধান কারণ। এছাড়াও, অ্যাডিপোজ টিস্যু (অর্থাৎ ফ্যাট কোষ) হরমোন এবং সাইটোকাইন তৈরি করে, যা প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়াতে পারে। এগুলোর কারণে ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। স্থূলতা ইনসুলিন প্রতিরোধের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে, এমন একটি অবস্থা যেখানে শরীর রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ইনসুলিন ব্যবহার করতে পারে না। এর কারণে কোষের বৃদ্ধি বাড়তে পারে, যার কারণে ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

কোন মহিলার ঝুঁকি বেশি?

কিছু গবেষণা অনুসারে, মেনোপজের আগে যেসব মহিলারা স্থূল হয়ে যান তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে। এছাড়াও, স্থূলতা স্তন ক্যান্সারের বিপজ্জনক রূপের ঝুঁকির সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে, যেমন ট্রিপল নেতিবাচক স্তন ক্যান্সার। তবে স্থূলতায় ভুগছেন এমন সব নারীই যে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিতে রয়েছেন তা মোটেও নয়। আপনি যদি আপনার ওজন সুস্থ রাখেন তবে আপনার মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি কম থাকবে।

কিভাবে স্তন ক্যান্সার এড়ানো যায়?

স্তন ক্যান্সার একটি বিপজ্জনক রোগ, যার বেশিরভাগই মহিলাদের মধ্যে দেখা যায়। আপনি সময়ে সময়ে আপনার স্তন পরীক্ষা করে এই রোগ সনাক্ত করতে পারেন। স্তন ক্যান্সার এড়াতে সবার আগে আপনাকে স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণ শুরু করতে হবে। আপনার অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। প্রতিদিন ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। অ্যালকোহল সেবন কমাতে হবে। ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। অনেক ঘুমাতে হবে। মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করুন। এছাড়াও, আপনাকে সময় সময় আপনার শরীরের চেকআপ করাতে হবে। এই নিয়মগুলো গুরুত্ব সহকারে মেনে চললে স্তন ক্যান্সার-সহ অনেক রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।