খুদের ঠান্ডা লেগে সর্দি-কাশি শুরু হলেই তাদের দই খাওয়া বন্ধ করে দেন অনেক মা-বাবাই। দই খেলে ঠান্ডা লাগা আরও বাড়বে, এই ধারণা কতটা ঠিক?

শিশুকে সর্দি-কাশির সময় দই খাওয়ালে সাধারণত সমস্যা বাড়ে না, বরং প্রোবায়োটিক থাকার কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং এটি গলা ব্যথায় আরাম দেয়। তবে ঠান্ডা লাগার সময় সরাসরি ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা দই না দিয়ে ঘরের তাপমাত্রায় (Room Temperature) বা সামান্য গরম করে দেওয়া ভালো, কারণ ঠান্ডা দই সাময়িকভাবে অস্বস্তি বাড়াতে পারে, যদিও এটি কফ বা শ্লেষ্মা বাড়ায় না বলে দাবি করছেন CNN, Heart and Stroke Foundation of canada।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কেন দই উপকারী হতে পারে:

* প্রোবায়োটিক: দইতে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে, যা সর্দি-কাশির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়ক।

* প্রদাহ হ্রাস: দই প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং এটি শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়।

* সহজে গ্রহণ: এর নরম ও মসৃণ গঠন গলা ব্যথা বা গিলতে অসুবিধায় আরাম দেয়, যা শিশুদের জন্য ভালো।

* পুষ্টি: এতে প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ থাকে যা শরীরকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।

যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন:

* তাপমাত্রা: ফ্রিজের ঠান্ডা দই সরাসরি দেবেন না। ঘরের তাপমাত্রার দই বা সামান্য উষ্ণ করে (যেমন গরম ফলের সঙ্গে মিশিয়ে) দিন, যা গলায় আরাম দেবে।

* মধুর ব্যবহার: যদি শিশুর বয়স এক বছরের বেশি হয়, তাহলে সামান্য মধু যোগ করতে পারেন, যা প্রাকৃতিক কফ-নাশক হিসেবে কাজ করে।

* চিনি এড়িয়ে চলুন: চিনিযুক্ত দই বা মিষ্টি দই এড়িয়ে চলা ভালো, কারণ এটি প্রদাহ বাড়াতে পারে।

* সরাসরি চিকিৎসা নয়: দই সর্দি-কাশি নিরাময় করে না, তবে এটি সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সমর্থন করে।

সারাংশ: সর্দি-কাশিতে দই খাওয়ানো নিরাপদ এবং উপকারী হতে পারে, যদি তা সঠিক তাপমাত্রায় এবং অতিরিক্ত চিনি ছাড়া দেওয়া হয়, কারণ এটি পুষ্টি জোগায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।