পুজোয় বেরিয়ে হাঁটলে পায়ে ব্যথা তো হবেই। সেক্ষেত্রে কিছু বিশেষ উপায় বলে দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা জেনে নিন।

পুজো তো প্রায় এসেই গেল। আর মহালয়া এলেই দেবিপক্ষে সূচনা। এই পুজোয় ক’দিন বন্ধুবান্ধব-আত্মীয়স্বজন সবাই মিলে চলে তুমুল হইহুল্লোড় চলে । চলে পেটপুজো আর রাতভর পায়ে হেঁটে ঠাকুর দেখা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কিন্তু যেই পায়ের ওপর এতটা প্রেসার দেওয়া হয় তখনই পায়ের তলায় মারাত্মক ব্যথা দেখা দেয়। এমনকী পায়ের পেশিতেও টান ধরার আশঙ্কা থাকে। অনেকে মনে করেন, শুধু ক্লান্তি থেকেই এই ব্যথা। কিন্তু তা ঠিক নয়।

চিকিৎসকরা কি বলছেন?

পায়ের ব্যথার পিছনে রয়েছে আরও কিছু শারীরিক কারণ। তাই আগে থেকে সঠিক প্রস্তুতি নিলে ব্যথা সহজেই এড়ানো সম্ভব এই ব্যথা। একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী চিকিৎসকরা এনটাই বলছেন।তারা বলছেন কিছু সঠিক উপায় অবলম্বন করলেই আপনি এই ব্যথা বেদনা থেকে রেহাই পেতে পারেন।

সঠিক কি কারণে আমাদের এই ব্যথা বেদনা হয় গোড়ালিতে?

অতিরিক্ত হাঁটাহাঁটি করলে সাধারণত আমাদের পায়ের দুটি প্রধান অংশে এর প্রভাব পড়ে। প্রথমটি আমাদের পায়ের পাতার নিচে অবস্থিত ফ্যাট প্যাড। এছাড়া পায়ের পেশি ফ্যাট প্যাড গোড়ালির ঠিক নিচে অবস্থিত। এটি প্রাকৃতিক কুশনের মতো কাজ করে। আমাদের রোজকার হাঁটার সময় আঘাত থেকে গোড়ালিকে বাঁচায়। অতিরিক্ত হাঁটাহাঁটি করলে এই ফ্যাট প্যাডটি ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে গোড়ালিতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।

চিকিৎসকরা কি উপদেশ দিচ্ছেন?

হঠাৎ করে অনেকটা হাঁটার চাপ সামলাতে শরীরকে আগে থেকে প্রস্তুত করা জরুরি। দুটি সহজ উপায় ব্যায়াম এক্ষেত্রে খুবই প্রয়োজন। যেমন:

* হিল রেইজেস পদ্ধতি: সোজা হয়ে দাঁড়ান। ধীরে ধীরে আপনার গোড়ালি মাটি থেকে ওপরের দিকে তুলুন। পায়ের সামনের আঙুলের উপর দেহের ভর থাকবে। পাঁচ সেকেন্ড এই অবস্থান ধরে রাখুন। তারপর ধীরে ধীরে গোড়ালি নামিয়ে দিন। এই ব্যায়ামটি কাফ মাসলকে শক্তিশালী করে তোলে।

* এর জন্য কি নিয়ম মেনে চলবেন : শুরুতে প্রতিদিন ১০০ বার করে করুন। ধীরে ধীরে সংখ্যা বাড়িয়ে ২০০ থেকে ৩০০ বার পর্যন্ত নিয়ে যান।

* টাওয়েল ক্রাঞ্চেস পদ্ধতি: মেঝেতে একটি তোয়ালে বা গামছা রাখুন। আপনার পা তোয়ালের উপর রাখুন এবং পায়ের আঙুল ব্যবহার করে তোয়ালেটি নিজের দিকে টানতে থাকুন। এই ব্যায়ামটি পায়ের পাতার ভেতরের পেশিগুলোকে সক্রিয় ও শক্তিশালী করে তোলে। এটি ব্যালেন্স এবং স্ট্যাবিলিটি বাড়ায়।

* এর জন্য কি নিয়ম মেনে চলবেন: প্রতিদিন ৩ থেকে ১০ বার এটি অনুশীলন করতে পারেন। খুব ভালো ফল পাবেন।