ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনের সামনে দীর্ঘক্ষণ ঝুঁকে থাকা। কিংবা ভুল দেহভঙ্গির কারণে আমাদের মেরুদণ্ড তার স্বাভাবিক কার্ক্ষমতা হারাতে থাকে। বর্তমান যান্ত্রিক জীবনযাত্রার অন্যতম বড় আতঙ্ক হল ‘স্পনডিলাইটিস’।

মেরুদণ্ডের ক্ষয় (স্পনডিলাইটিস) কমাতে ও সুস্থ থাকতে যোগব্যায়াম (Therapeutic Yoga) খুবই উপকারী, যা ওষুধ ছাড়াই ব্যথা ও জড়তা কমায়। মেরুদণ্ডের নমনীয়তা বাড়ায় এবং পেশী শক্তিশালী করে। এর মধ্যে রয়েছে ক্যাট-কাউ পোজ, কোবরা পোজ, ধনুরাসন, ভুজঙ্গাসন, এবং তাড়াসন, যা ঘাড়-কোমর ও শিরদাঁড়াকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে সঠিক ভঙ্গিতে করা জরুরি, কারণ ভুল ভঙ্গিতে করলে সমস্যা বাড়তে পারে।

স্পনডিলাইটিস কেন হয়?

* বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেরুদণ্ডের ডিস্কের ক্ষয়, হাড়ের জোড়া বা জয়েন্টের সমস্যা। * অপর্যাপ্ত ব্যায়াম, ভুল অঙ্গবিন্যাস (posture)। * ভিটামিন ডি৩-এর অভাব, ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবন।

থেরাপিউটিক যোগের উপকারিতা:

* ব্যথা ও প্রদাহ হ্রাস: যোগের আসন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। * নমনীয়তা বৃদ্ধি: মেরুদণ্ড ও জয়েন্টগুলোর জড়তা দূর করে নমনীয়তা বাড়ায়। * পেশী শক্তিশালীকরণ: মেরুদণ্ডের চারপাশের পেশী শক্তিশালী করে। * রক্ত সঞ্চালন উন্নত: সঠিক রক্ত চলাচল বজায় রাখতে সাহায্য করে।

কার্যকর যোগাসন (উদাহরণ):

1. ক্যাট-কাউ পোজ (Marjaryasana-Bitilasana): মেরুদণ্ডের নমনীয়তা বাড়ায় ও ব্যথা কমায়। 2. কোবরা পোজ (Bhujangasana): পিঠের পেশী শক্তিশালী করে ও মেরুদণ্ডকে সোজা রাখে। 3. ধনুরাসন (Dhanurasana): মেরুদণ্ডকে প্রসারিত করে ও শক্তি জোগায়। 4. তাড়াসন (Tadasana): শরীরের ভারসাম্য ও অঙ্গবিন্যাস ঠিক রাখে, মেরুদণ্ড সোজা রাখে। 5. শবাসন (Shavasana): শরীর ও মনকে শিথিল করতে সাহায্য করে।

গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

* বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধান: মেরুদণ্ডের ক্ষয় বা স্পনডিলাইটিসের সমস্যা থাকলে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ যোগ প্রশিক্ষক বা ফিজিওথেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে যোগাভ্যাস করা উচিত। * ধীরে ধীরে শুরু: প্রথম থেকেই কঠিন আসন না করে সহজ আসন দিয়ে শুরু করুন। * ব্যথা হলে বন্ধ: কোনো আসনে ব্যথা অনুভব করলে তা করা বন্ধ করুন। * নিয়মিত অনুশীলন: স্পনডিলাইটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত যোগ অনুশীলন অত্যন্ত জরুরি।

যোগব্যায়াম শুধু একটি ব্যায়াম নয়, এটি একটি জীবনধারা যা মেরুদণ্ডের ক্ষয়জনিত সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এবং সুস্থ, কর্মঠ জীবনযাপনে সাহায্য করতে পারে।