আজকের ভারতীয় মহিলারা বাড়ি ও কর্মক্ষেত্রে একাধিক ভূমিকা পালন করতে গিয়ে গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। সামাজিক প্রত্যাশা, কেরিয়ারের চাপ, এবং অপর্যাপ্ত সমর্থনের মতো কারণগুলি তাদের মানসিক সুস্থতাকে প্রভাবিত করে।
আজকের ভারতীয় মহিলাদের জন্য, বাড়িতে এবং কর্মক্ষেত্রে একাধিক ভূমিকা পালন করতে গিয়ে গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাগুলি ক্রমশই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। সামাজিক প্রত্যাশা, কেরিয়ারের চাপ এবং ব্যক্তিগত দায়িত্বের কারণে তাদের মানসিক সুস্থতা প্রভাবিত হতে পারে।
আধুনিক মহিলাদের মুখোমুখি হওয়া সেরা ৫টি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা
১. কাজ ও জীবনের ভারসাম্যহীনতা
ভারতে অনেক মহিলা বাড়ির কাজ এবং যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি পেশাগত কেরিয়ারও সামলান। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা, সহায়তার অভাব এবং ক্রমাগত মাল্টিটাস্কিংয়ের ফলে প্রায়শই মানসিক চাপ, ক্লান্তি এবং অবসাদ দেখা দেয়।
২. সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রত্যাশা
প্রচলিত রীতিনীতির কারণে মহিলাদের থেকে এখনও নির্দিষ্ট মানসিক এবং আচরণগত মান অনুযায়ী চলার আশা করা হয়। বিয়ে করা, মা হওয়া এবং সুন্দর দেখানোর মতো চাপ উদ্বেগ, অপরাধবোধ এবং আত্মমর্যাদা কমে যাওয়ার কারণ হতে পারে।
৩. কেরিয়ারের চাপ এবং কর্মক্ষেত্রের মানসিক চাপ
মহিলারা লিঙ্গবৈষম্য, অসম বেতন এবং নেতৃত্বের ভূমিকায় কম প্রতিনিধিত্বের মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। নিজেদের প্রমাণ করার এই অবিরাম চাপ দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এবং আত্ম-সন্দেহের জন্ম দেয়।
৪. আবেগজনিত শ্রম এবং যত্ন নিতে গিয়ে অবসাদ
মহিলারা পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক সামলানো থেকে শুরু করে অন্যদের মানসিক সমর্থন দেওয়া পর্যন্ত অনেক অদৃশ্য আবেগজনিত শ্রম দিয়ে থাকেন। সময়ের সাথে সাথে এটি মানসিক ক্লান্তি, বিরক্তি এবং আবেগজনিত অবসাদের কারণ হয়।
৫. অপর্যাপ্ত সমর্থন এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কম সচেতনতা
যদিও সমাজ মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে ক্রমশ সচেতন হচ্ছে, ভারতে এখনও এই নিয়ে নানা ছুঁৎমার্গ রয়েছে। সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে মহিলাদের অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়: সমালোচিত হওয়ার ভয়, সম্পদের অভাব এবং পরিবারের প্রয়োজনের চেয়ে নিজের ভালো থাকাকে কম গুরুত্ব দেওয়া।
এই সমস্যাগুলির সমাধান করা কেন জরুরি
মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাগুলির সমাধান না করা হলে, তা শারীরিক স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং জীবনের সামগ্রিক মানের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। এই চ্যালেঞ্জগুলি চিহ্নিত করা গেলে, বাড়ি, কর্মক্ষেত্র এবং সমাজে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।
খোলামেলা আলোচনা, পেশাদার কাউন্সেলিং এবং आत्म-যত্নকে সমর্থন করে এমন কর্মক্ষেত্রের ব্যবস্থা করা উচিত, যা মহিলাদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে। মহিলাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য তাদের ক্ষমতায়ন করা একটি স্বাস্থ্যকর এবং ভারসাম্যপূর্ণ সমাজের জন্য অপরিহার্য।


