নিজেকে পরিষ্কার করার সময়ে পায়ের তলা সাফসুতরো রাখার কথা মাথা থেকে বেরিয়ে যায় অনেকের। আলস্যের কারণে মাসে এক বার পেডিকিয়োর করেই ক্ষান্ত থাকেন তাঁরা। কিন্তু তাতে সারা মাসের ধুলোময়লা, দুর্গন্ধ দূর করা সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে কী করা উচিত? জানুন বিস্তারিত
শীতকালে পায়ের দুর্গন্ধ দূর করতে এক গামলা ঈষদুষ্ণ জলে ভিনেগার (সাদা বা অ্যাপেল সিডার) ও লবণ (Epsom লবণ বা সাধারণ লবণ) মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখুন; ভিনেগার ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করে এবং লবণ ত্বক থেকে অতিরিক্ত আর্দ্রতা শুষে নিয়ে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক দমন করে, যা পা পরিষ্কার, শুষ্ক ও দুর্গন্ধমুক্ত রাখতে সাহায্য করে।
কেন এই সমস্যা হয়?শীতে মোজা ও বন্ধ জুতো দীর্ঘক্ষণ পরে থাকায় পা ঘেমে যায়, কিন্তু সেই ঘাম বের হতে পারে না। এই আর্দ্র ও উষ্ণ পরিবেশ ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ, যা দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে।
কীভাবে প্রতিকার করবেন (ভিনেগার ও লবণ পদ্ধতি):
১. এক গামলা ঈষদুষ্ণ জল (বেসিন বা বড় বাটিতে) এক কাপ ভিনেগার (সাদা বা অ্যাপেল সিডার) আধা কাপ এপসম লবণ (Epsom Salt) বা সাধারণ লবণ
২. প্রস্তুত প্রণালী: গরম জলের সঙ্গে ভিনেগার ও লবণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণে আপনার পা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য ডুবিয়ে রাখুন। ১৫-২০ মিনিট পর পা তুলে নরম তোয়ালে দিয়ে ভালোভাবে মুছে নিন, বিশেষ করে আঙুলের ফাঁকগুলো শুকনো করুন। এরপর সামান্য ট্যালকম পাউডার বা বেকিং সোডা লাগাতে পারেন।
কীভাবে কাজ করে:
* ভিনেগার: এর অম্লীয় (acidic) ধর্ম ব্যাকটেরিয়ার জন্য প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করে এবং তাদের বৃদ্ধি ও বংশবৃদ্ধি রোধ করে।
* লবণ (Epsom Salt/সাধারণ লবণ): এটি ত্বক থেকে আর্দ্রতা শুষে নেয়, যা ব্যাকটেরিয়ার প্রিয় পরিবেশকে নষ্ট করে। এটি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল হিসেবেও কাজ করে।
অন্যান্য জরুরি টিপস:
* পা পরিষ্কার রাখা: প্রতিদিন সাবান ও জল দিয়ে পা ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন।
* মোজা ও জুতো: সুতির মতো প্রাকৃতিক তন্তুর মোজা পরুন এবং জুতো সবসময় রোদে শুকিয়ে, ভেতরে পর্যাপ্ত বাতাস প্রবেশ করার সুযোগ দিন।
* বেকিং সোডা: জুতো বা মোজার ভেতরে সামান্য বেকিং সোডা ছিটিয়ে রাখলে তা ঘাম ও গন্ধ শোষণ করে।
* চা-এর ব্যবহার: গরম জলের সাথে ব্ল্যাক টি ব্যাগ ভিজিয়েও পা ডুবিয়ে রাখতে পারেন, এতে ট্যানিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া মারতে সাহায্য করে।
সতর্কতা: যদি পায়ে কোনো খোলা ক্ষত, কাটা বা স্ক্র্যাচ থাকে, তাহলে ভিনেগার ব্যবহার করবেন না, কারণ এতে জ্বালাপোড়া হতে পারে।


