আপনার পানীয় জল নিরাপদ কিনা তা কীভাবে বুঝবেন? এর জন্য কী কী করতে হবে? আবুধাবির শেখ খলিফা মেডিকেল সিটির জরুরি বিভাগের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ ডাঃ দানিশ সেলিম এই বিষয়ে জানাচ্ছেন।
মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে দূষিত পানীয় জলের কারণে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার কথা আমরা সবাই জানি। জীবনের অস্তিত্বের জন্য জল একটি অপরিহার্য উপাদান। জল ছাড়া শরীরের কোনো অঙ্গই কাজ করতে পারে না। হজম, মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড এবং কিডনির কার্যকারিতার জন্য শরীরে জল প্রয়োজন। আমরা প্রতিদিন যে জল পান করি তা নিরাপদ কিনা তা কীভাবে বুঝব?
বিশুদ্ধ পানীয় জলে কোনো দুর্গন্ধ থাকে না। নর্দমার জলের মতো বা ধাতব গন্ধ প্রায়শই ব্যাকটেরিয়া দূষণ বা পাইপলাইন ফাঁসের লক্ষণ। জল থেকে দুর্গন্ধ বেরোলে তা কখনোই পান করা উচিত নয়।
জলে তেতো, নোনতা বা ধাতব স্বাদ অতিরিক্ত দ্রবীভূত খনিজ পদার্থের উপস্থিতি নির্দেশ করে। যদি জলের স্বাদ হঠাৎ 'অন্যরকম' মনে হয়, তবে তা পান করা থেকে বিরত থাকুন। কোনো বাড়িতে বা পাড়ায় একাধিকবার ডায়রিয়া, বমি, ডিহাইড্রেশন, জ্বর এবং পেটে ব্যথা হওয়া দূষিত জলের ফল হতে পারে।
আপনি যে জল পান করছেন তা বিশুদ্ধ কিনা কীভাবে বুঝবেন?
'দূষিত জল পান করলে নানা ধরনের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করতে পারে। আপনার পানীয় জল নিরাপদ কিনা তা কীভাবে বুঝবেন? এর জন্য কী কী করতে হবে? কেরালা ওয়াটার অথরিটির কন্ট্রোল ল্যাবে জলের নমুনা পৌঁছে দিতে হবে। এর জন্য দেড় থেকে দুই লিটার জল ল্যাবে নিয়ে যেতে হবে। ব্যাকটেরিয়াল পরীক্ষার জন্য ১০০ মিলি জলই যথেষ্ট। দুটি বোতলে করে জল দেওয়া ভালো। পরীক্ষার ফি জমা দিতে হবে। এছাড়া আজকাল প্রাইভেট ল্যাবও রয়েছে। সেখানে টোটাল ডিজলভড সলিডস (total dissolved solids), হার্ডনেস (hardness), ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়ার (E. coli bacteria) মতো বিষয়গুলো পরীক্ষা করা হয়। আজকাল র্যাপিড টেস্ট কিটও পাওয়া যায়। যা দিয়ে বাড়িতেই পরীক্ষা করা সম্ভব।
এর জন্য কলিফর্ম ই. কোলাই টেস্ট কিট (coliform e coli test kit) কিনতে হবে। এই কিট ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ সঠিক ফলাফল দেয়। টিডিএস মিটার (Total Dissolved Solids meter) সম্পর্কেও সকলের জানা উচিত। এর মাধ্যমে জলে কতটা খনিজ ও লবণ আছে তা জানা যায়। টিডিএস-এর মাত্রা ৩০০-এর নিচে হলে জল নিরাপদ বলে ধরা হয়। ৩০০ থেকে ৬০০ হলে তা পানের যোগ্য। আর ৬০০-এর বেশি হলে সেই জল অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করা হয়। এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখলে জল নিরাপদ কিনা তা বোঝা সম্ভব...' - বলেন আবুধাবির শেখ খলিফা মেডিকেল সিটির জরুরি বিভাগের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ ডাঃ দানিশ সেলিম।


