সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিও তে একদলকে দেখা যায় জিম বা শরীরচর্চা করার পর বরফ ঠান্ডা জলে ডুবে বসে থাকেন। আবার গায়ের ব্যাথা নিরাময়ে ঈষদুষ্ণ জল ব্যবহারের কথা তো সবাই জানেন। প্রশ্ন এবার তবে কী করবেন?

শরীরচর্চা করার পর দেহের উত্তাপ বাড়ে, পেশীতে ব্যথা হওয়াও স্বাভাবিক, ইসদুষ্ণ না ঠান্ডা জলে স্নান করবেন তা নিয়ে বিভ্রান্তি ? পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি দেহের উত্তাপ ও ব্যাথা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য পেতে স্নান করুন। দেহের সাথে মানসিক প্রশান্তিও মিলবে। তবে শীতকালে শরীরচর্চার পর ঠান্ডা জলে স্নান? অথবা গরমকালে গরম জলে স্নান? ভাবতেই অবাক লাগে তো? তবে কিরকম জলে স্নান করা উচিত? এ নিয়ে বিভ্রান্তি গোটা দুনিয়ার। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিও তে একদলকে দেখা যায় জিম বা শরীরচর্চা করার পর বরফ ঠান্ডা জলে ডুবে বসে থাকেন। আবার গায়ের ব্যাথা নিরাময়ে ঈষদুষ্ণ জল ব্যবহারের কথা তো সবাই জানেন। প্রশ্ন এবার তবে কী করবেন?

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আসুন দেখেনি কী ধরণের জলে উপকারিতা বেশি। প্রথমে গরম জলে স্নান করার উপকারিতা তুলে ধরা যাক। তবে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে ব্যায়াম ও গরম জলে স্নানের মাঝে কিছুটা সময়ের ব্যবধান রাখতে হবে অবশ্যই।

১. শরীরচর্চা করার পর গরম জলে স্নান করলে রক্তনালি প্রসারিত হয়ে রক্তপ্রবাহ বাড়ায়। ফলে ব্যায়াম করতে গিয়ে চোট লাগা, রক্ত জমাট বাধা বা শক্ত হয়ে যাওয়া পেশি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

২. জয়েন্টর যেকোনো ব্যথা থাকলে গরম জলে স্নানের পরামর্শ দিয়ে থাকেন ডাক্তার। এমনকি লিগামেন্টে চোট লাগলে উষ্ণ জলে স্নান বা উষ্ণজলের শেক আরাম দেয়।

৩. উষ্ণ জলে স্নান করলে রক্ত চলাচল ভালো হওয়ায় পেশিতে স্বাভাবিক পরিমান অক্সিজেন ও খনিজ পদার্থ সরোবরাহ হয়, ফলে পেশী নমনীয়তা বাড়ে।

৪. শারীরিক ও মানসিক চাপ দূর করতে সক্ষম হট ওয়াটার বাথ। অতিরিক্ত মানসিক চাপ অনিদ্রার কারণ। পরিমানমতো ব্যায়াম ও উষ্ণজলে স্নান মন ও শরীর রিল্যাক্স করতে সাহায্য করে। 

৫. ব্যায়ামের পর হট ওয়াটার বাথ ত্বকের পোরস্ খুলে ত্বকে জমা ঘাম, তেল, নোংরা ভালোভাবে পরিষ্কার করে।

এবার দেখবো ঠান্ডা জলে স্নানের উপকারিতা:

১. ঠান্ডা জলে স্নান দেহের পেশি এবং টিস্যুতে রক্ত চলাচলের গতি কিছুটা ধীর করে ও স্নায়ুও কিছুটা অবশ করে। শরীরচৰ্চার পর পেশী বা শরীরে যে জ্বালাপোড়া করা ব্যাথা হয় তা শিথিল করতে সক্ষম ও ব্যাথা কম অনুভূত হয়।

২. খেলোয়াড়রা বা বডি বিল্ডাররা এই কারণেই বরফগলা জলে স্নান করেন। তাতে ব্যথা বেদনা কম অনুভূত হয় এবং সাথে শক্তি প্রদর্শনেরও উপায় বটে।

৩. ঠান্ডা জল গায়ে পড়তে আচমকা ঝটকার ফলে এন্ডরফিন নামক এক হরমোন যাকে "হ্যাপি হরমোন"ও বলে থাকে, তার নিঃসরণ বেশি পরিমানে হয়। এই হরমোন মন ফুরফুরে রাখতে সাহায্য করে। হার্ডকোর জিমের পর শরীরের ব্যথা বেদনা ভুকিয়ে মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে।