আয়ুর্বেদের লোকজনেরা রসুনকে মর্ত্য়ের অমৃত বলে থাকেন। রসুন কতটা অমৃত, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। কিন্তু এর উপকারিতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠে না।

রসুনের মধ্য়ে থাকা সালফার যৌগ শরীরের জন্য় খুব উপকারী। রসুনে পাওয়া যায় ম্য়াঙ্গানিজ, ভিটামিন-বি-৬, ভিটামিন-সি, সেলেনিয়াম, ফাইবার, ভাল পরিমাণে ক্য়ালশিয়াম, কপার, পটাশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন এবং ভিটামিন-বি-১। কিছু পরিমাণে থাকে প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট। আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্য়বস্থাকে উজ্জীবিত করে রসুন। ঠান্ডা লাগার হাত অনেকটাই বাঁচায়। জ্বর, শর্দিকাশির থেকে দূরে রাখে। হার্ট অ্য়াটাক, স্ট্র্রোকের মতো কার্ডিয়োভাসকুলার রোগ এখন গোটা বিশ্বেই মহামারীর আকার ধারণ করেছে। এর মূল কারণ, উচ্চ রক্তচাপ।  পরীক্ষানিরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যাঁরা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তাঁদের রক্তচাপ কমাতে সাহায্য় করে রসুন। এলডিএ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য় করে রসুন।

রসুনে থাকে অ্য়ান্টি অক্সিডেন্ট। অক্সিডেটিভ ড্য়ামেজ থেকে রক্ষা করে রসুন। অ্য়ান্টি অক্সিডেন্ট এনজাইম শরীর থেকে নিঃসরণে সাহায্য় করে রসুন। অ্য়ালজাইমার ও ডিমেনশিয়ার মতো অসুখের ঝুঁকিও কমায়। সংক্রমণজনিত কোনও অসুখ মোকাবিলায় কার্যকরী ভূমিকা নেয় রসুন। ক্রনিক রোগের ক্ষেত্রেও খুব ভাল কাজ করে রসুন। যেহেতু বয়স্করা বেশি ক্রনিক রোগে ভোগেন, সেহেতু তাঁদের কাছে রসুন যেন অমৃত। মেটাল টক্সিসিটির থেকে আমাদের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্য়ঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত  হতে পারে। এর থেকে বাঁচায় রসুনে থাকা সালফার কমপাউন্ড। মহিলাদের মধ্য়ে ইস্ট্রোজেন হরমোন বাড়িয়ে হাড়ের ক্ষয় কমিয়ে দেয় রসুন। এক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মহিলাদের মেনোপজের পর যে ইস্ট্রোজেনের ঘাটতি দেখা যায়, তা তাৎপর্যপূর্ণভাবে কমিয়ে দেয় রসুন।

তাই দিনে  দু-এক কোয়া রসুন খান। উপকার পাবেনই পাবেন। রান্নাতেও রসুন ব্য়বহার করুন।  যদি কাঁচা রসুন খেলে মুখ থেকে গন্ধ বেরোয়, তাহলে দাঁত ব্রাশ করে নিন।