সমগ্র বিশ্বে মহামারি আকার ধারণ করছে করোনা ভাইরাস। এর থাবায় প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মনে বাড়ছে আতঙ্ক, ঝুঁকি ও নিরাপত্তাহীনতা। এই মারণ ভাইরাসের থাবায় মানুষের শারীরিক অবনতিই নয় পড়ে গিয়েছে বিশ্বের অর্থনীতিও। করোনা নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু। পাশাপাশি এই ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য ঘরে থাকার অনুরোধ করা হয়েছে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে।

আরও পড়ুন- করোনা সংক্রমণ থেকে কীভাবে দূরে থাকবেন, হাতের কাছে রাখুন এই চারটি জিনিস

কীভাবে ছড়ায় এই ভাইরাস- 

  • এখনও অবধি এই সংক্রমণের কোনও প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। 
  • একমাত্র আক্রান্তরাই এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়াকে আটকাতে পারে।
  • এই ভাইরাস এক ব্যক্তি থেকে অপর ব্যক্তির মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
  • তাই সব সময় যে কোনও ব্যক্তির থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন।
  • কোনও ব্যক্তির হাঁচি ও কাশির থেকেও এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
  • নাক, মুখ দিয়ে প্রবেশ করে এই ভাইরাস সহজেই শরীরে প্রবেশ করে ফুসফুস-কে সংক্রমিত করে।

নিজেকে রক্ষার করার পদক্ষেপ নিন-

আরও পড়ুন- করোনা আতঙ্কে ওয়ার্ক ফ্রম হোম, সুষ্ঠভাবে কাজ করতে মাথায় রাখুন এই বিষয়গুলি

  • প্রতি ঘন্টায় সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।
  • টানা ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান দিয়ে ভালো করে আঙ্গুলে ফাঁক পরিষ্কার করুন। হাতের সবথেকে বেশি ময়লা থাকে হাতের চেটোর উপরিতলে। যেহেতু তা বাইরের দিকে থাকে। আমরা হাত দিয়ে খাই বলে হাতের তালু বেশি পরিষ্কার করি। তবে হাতের উপরিতলও পরিষ্কার রাখা সমানভাবে দরকার।
  • হাঁচি ও কাশির সময় রুমাল অথবা টিস্যু ব্যবহার করুন।
  • ব্যবহার করা টিস্যু ঢাকা দেওয়া ডাস্টবিনে ফেলুন।
  • অ্যালকোহল বেসজ স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • বার বার চোখে মুখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

ভীড় বা জনবহুল জায়গায় এড়িয়ে চলুন-

  • অসুস্থ ব্যক্তির থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন।
  • যদি আপনার এলাকায় এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি থাকেন তবে একদমই ঘরের বাইরে বেড়োবেন না। প্রয়োজনে প্রশাসনের সাহায্য নিন।

অপরকে এই সংক্রমণের থেকে রক্ষা করুন-

  • আপনি নিজে যদি অসুস্থ হোন তবে ঘরেই থাকুন।
  • সঠিকভাবে নিজের চিকিৎসা করান।
  • হাঁচি ও কাশির সময় রুমাল অথবা টিস্যু দিয়ে মুখ ঢেকে নিন।
  • ব্যবহার করা টিস্যু ঢাকা দেওয়া ডাস্টবিনে ফেলুন।
  • ২০ মিনিট অন্তর সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।
  • প্রয়োজনে অ্যালকোহল বেসজ স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • ফেস মাস্ক ব্যবহার করুন।

যদি আপনি অসুস্থ না হন তবে আপনার ফেস মাস্ক ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। যদি না আপনি কোনও সংক্রামিত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকেন।

প্রতিদিন নিয়ম করে টেবিল, বই, দরজার হাতল, বাথরুম, কি বোর্ড অর্থাৎ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস সাবান জল দিয়ে পরিষ্কার করুন।

ডেটল ও জলের মিশ্রণে বিটাডাইন। বাজার থেকে কিনে আনুন ডেটলের বড় কন্টেনার। এরপর স্প্রেওয়ালা কন্টেনারে ডেটল অর্ধেকটা ভরে দিন। এরপর তাতে জল মেশান এবং কন্টেনারটাকে ভর্তি করুন। শেষে দুই ছিপি বিটাডাউন মিশিয়ে দিন। এরপর ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিন। তৈরি আপনার ঘরোয়া স্যানিটাইজার। হাতে পায়ে লাগাতে পারেন। বাইরে থেকে কেউ এলে তার হাতেও স্প্রে করে দিন এবং হাতটা ধুয়ে নিতে বলুন। এতে ভাইরাস অনেকটা নিয়ন্ত্রিত হবে। 

বাজার থেকে প্রচুর পরিমাণে বায়ো-ডিগ্রেবল গারবেজ ব্যাগ নিয়ে আসুন। রোজকার ছাড়া জামাকাপড় এতে ভরে রাখুন। এই ব্যাগ থেকে জামাকাপড় বের করতে হলে হাতে যেন গ্লাসভস থাকে এবং হাত যেন পুরো ঢাকা থাকে। ফাঁকা গারবেজ ব্যাগ-এর মুখ বন্ধ করে তা ডাস্টবিনে ফেলে  দিন। এছাড়া বাথরুমের নোংরা ফেলতে এই বায়ো-ডিগ্রেবল গারবেজ ব্যাগ ব্যবহার করুন। বাইরে ফেলে দেওয়ার আগে তার মুখ বালো করে বন্ধ করে দিন।