Fatal Mistakes to Avoid During Lightning: IMD-র তথ্য - ভারতে প্রতি বছর ২৫০০+ মৃত্যু বজ্রপাতে। ৭০% মৃত্যু হয় খোলা মাঠ, গাছের নিচে, জলের ধারে। বাজ পড়ার ৩০ মিনিট আগে থেকে ৩০ মিনিট পর পর্যন্ত রিস্ক হাই। নিয়ম সহজ: "When thunder roars, go indoors"। 

Fatal Mistakes to Avoid During Lightning: কিছুদিন আগে বীরভূমে মাঠে ধান কাটতে গিয়ে ৪ জন, পুরুলিয়ায় সেলফি তুলতে গিয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়। কারণ একটাই - “আমার কিছু হবে না” ভাবা। বজ্রপাত কারো ফ্যান না। ওর টার্গেট উঁচু, একা, ভেজা জিনিস।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

*১০টা ভুল যেগুলো মৃত্যু ডেকে আনে - একটাও করবে না:*

*১. গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া - সবচেয়ে কমন, সবচেয়ে মারণ*

বাজ সবসময় উঁচু জিনিসে পড়ে। তুমি ফাঁকা মাঠে গাছের নিচে দাঁড়ালে তুমি = লাইটনিং রড। গাছ বেয়ে কারেন্ট মাটিতে নামে, তুমি পাশে থাকলে তোমার শরীর দিয়ে যাবে। একে বলে “সাইড ফ্ল্যাশ”। ১০০% মৃত্যু।

*ঠিক কী করবে:* গাছ থেকে অন্তত ৩ মিটার দূরে থাকো। সবচেয়ে ভালো - পাকা বাড়ি বা গাড়িতে ঢোকো।

*২. খোলা মাঠ, ধানক্ষেত, ফুটবল মাঠে থাকা*

মাঠে তুমিই সবচেয়ে উঁচু “টাওয়ার”। বাজের কাছে তুমি VIP গেস্ট। কৃষক, প্লেয়ার, রাখাল - এরাই মরে বেশি।

*ঠিক কী করবে:* মেঘ ডাকলেই কাজ ফেলে পাকা ঘরে ঢোকো। ঘর না থাকলে নিচু জায়গায় কানে হাত চাপা দিয়ে, পা জোড়া করে, মাথা নিচু করে বসো। শুয়ে পড়বে না - মাটিতে কারেন্ট ছড়ায়।

*৩. জলের ধারে থাকা - পুকুর, নদী, সুইমিং পুল, কল*

জল কারেন্টের সুপার-কন্ডাক্টর। বাজ ১ কিমি দূরে জলে পড়লেও তুমি শক খাবে। স্নান করা, বাসন মাজা, কল ছাড়া - সব বন্ধ।

*ঠিক কী করবে:* বাজ পড়লে চান, কাপড় কাচা, বাসন মাজা বন্ধ। সুইমিং পুল থেকে সাথে সাথে ওঠো। নৌকা/মাছ ধরা বন্ধ।

*৪. ল্যান্ডলাইন ফোনে কথা বলা, চার্জ দেওয়া*:

তারওয়ালা ফোন, ল্যাপটপ চার্জে, টিভি, ফ্রিজ - বাজ পড়লে কারেন্ট তার দিয়ে ঘরে ঢোকে। ১৯৮-এ শুধু ল্যান্ডলাইনে কথা বলেই ১০০+ মৃত্যু।

*ঠিক কী করবে:* বাজ চলাকালীন সব প্লাগ খুলে দাও। মোবাইল ইউজ করতে পারো, কিন্তু চার্জে দেবে না। WiFi রাউটার অফ করো।

*৫. ছাতা, রড, গলফ স্টিক, সাইকেল নিয়ে হাঁটা*

ধাতব জিনিস = বাজের ম্যাগনেট। ছাতা মাথার ২ ফুট উপরে থাকে - পারফেক্ট টার্গেট।

*ঠিক কী করবে:* ছাতা বন্ধ করে ব্যাগে রাখো। সাইকেল/বাইক থেকে নেমে দূরে রাখো। মাথায় ধাতব ক্লিপ, কানে দুল থাকলেও রিস্ক বাড়ে।

*৬. টিনের চাল, শেড, বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়ানো*

টিন, লোহার শেড কারেন্ট টানে। ৩ দিক খোলা থাকলে সাইড ফ্ল্যাশে মরবে।

*ঠিক কী করবে:* ৪ দেওয়াল + ছাদ + ওয়্যারিং + প্লাম্বিং আছে এমন পাকা বাড়ি ঢোকো। গাড়ি সেকেন্ড বেস্ট - টায়ার ইনসুলেটর, কারেন্ট বডি দিয়ে মাটিতে যায়।

*৭. দল বেঁধে গায়ে গা লাগিয়ে দাঁড়ানো*

৫ জন একসাথে থাকলে একজনকে বাজ মারলে কারেন্ট লাফিয়ে সবাইকে মারবে। “গ্রাউন্ড কারেন্ট” ২০ মিটার পর্যন্ত যায়।

*ঠিক কী করবে:* গ্রুপ থাকলে ৩ মিটার গ্যাপে ছড়িয়ে বসো। পা জোড়া করে, কানে হাত।

*৮. শেষ বাজের পরেই বাইরে বেরিয়ে যাওয়া*

“বৃষ্টি থেমে গেছে” মানে “বাজ থেমে গেছে” না। ১০ কিমি দূরের বাজও তোমায় মারতে পারে। একে বলে “Bolt from the Blue”।

*ঠিক কী করবে:* ৩০-৩০ রুল। শেষ বজ্রপাতের আওয়াজের পর ৩০ মিনিট ঘরে থাকো।

*৯. শুয়ে পড়া বা লম্বা হয়ে বসা*

মাটিতে শুলে তোমার শরীর দিয়ে বেশি কারেন্ট যাবে। পা ফাঁক করে বসলে “স্টেপ ভোল্টেজে” দুই পায়ে ভোল্টেজের তফাৎ হয়ে শক লাগে।

*ঠিক কী করবে:* “লাইটনিং পজিশন” - পা জোড়া, হাঁটুতে থুতনি, হাত দিয়ে কান চাপা, গোড়ালির উপর ভর। মাটির সাথে কন্টাক্ট মিনিমাম।

*১০. আহত মানুষকে ছোঁবে না ভাবা*

বাজ পড়া মানুষের শরীরে কারেন্ট থাকে না। ওকে ছুঁলে তোমার শক লাগবে না। অনেকে ভয়ে ধরে না, পেশেন্ট মারা যায়।

*ঠিক কী করবে:* সাথে সাথে CPR দাও। ১০০-এ কল করো। বজ্রপাতে মৃত্যুর ৮০% কারণ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। CPR দিলে বাঁচার চান্স ৬০%।

*বোনাস: গাড়িতে থাকলে কী করবে?*

গাড়ি সেফ, যদি কনভার্টিবল না হয়। জানালা বন্ধ, হাত-পা বডি থেকে দূরে। রেডিও, মেটাল ছুঁবে না। গাছের নিচে পার্ক করবে না - গাছ ভেঙে পড়তে পারে।

*শেষ কথা - বাজ “হিরো” দেখে না*

“আমি তো গ্রামে বড় হয়েছি, কত বাজ দেখলাম” - এই ডায়লগই শেষ ডায়লগ হয়। ক্লাইমেট চেঞ্জে বাজ ৩৪% বেড়েছে।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।