দুপুরে ঢুলুনি আসলেই কি ঘুমানো উচিত? হ্যাঁ, তবে নিয়ম মেনে। বিজ্ঞান বলছে, ১০-২০ মিনিটের ‘পাওয়ার ন্যাপ’ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ৩৪% পর্যন্ত বাড়ায়, স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ ফেরায়। কিন্তু ভুল সময়ে বা বেশি ঘুমালে উল্টে ক্লান্তি বাড়ে। দুপুর ১টা থেকে 3টার মধ্যে, অন্ধকার ঘরে, অ্যালার্ম দিয়ে ২০ মিনিট ঘুমই ব্রেনের জন্য সেরা রিচার্জ। 

লাঞ্চের পর চোখ জুড়ে আসে, কাজে মন বসে না। তখন এক কাপ চা না খেয়ে ২০ মিনিট চোখ বুজুন। গবেষণা বলছে, এই ছোট্ট দিবানিদ্রাই আপনার মস্তিষ্ককে নতুন করে চাঙ্গা করে দেবে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

NASA-র পাইলটদের উপর করা গবেষণায় দেখা গেছে, ২৬ মিনিটের ন্যাপ পারফরম্যান্স ৩৪% আর সতর্কতা ৫৪% বাড়ায়। আপনার-আমার জন্য ১০-২০ মিনিটই যথেষ্ট।

কেন দিবানিদ্রা দরকার?

সারাদিন কাজের চাপে আমাদের ব্রেনে ‘অ্যাডেনোসিন’ জমে। এটাই ক্লান্তি তৈরি করে। ছোট্ট ঘুম এই অ্যাডেনোসিন পরিষ্কার করে দেয়। ফলে মনোযোগ, শেখার ক্ষমতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সব বেড়ে যায়। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের মতে, নিয়মিত পাওয়ার ন্যাপ স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

সঠিক উপায় কী?

১. সময়: দুপুর ১টা থেকে ৩টার মধ্যে। বিকেল ৪টার পর ঘুমালে রাতের ঘুমের ব্যাঘাত হবে।

২. সময়কাল: ১০-২০ মিনিট। এটাই ‘স্টেজ ২’ ঘুম। এর বেশি ঘুমিয়ে ‘ডিপ স্লিপ’-এ চলে গেলে উঠে ঝিমঝিম করবে, মাথা ভার হবে। একে বলে ‘স্লিপ ইনার্শিয়া’।

৩. পরিবেশ: হালকা অন্ধকার, ঠান্ডা ঘর। চোখে আই মাস্ক, কানে ইয়ারপ্লাগ ব্যবহার করতে পারেন।

৪. অ্যালার্ম মাস্ট: ২০ মিনিটের অ্যালার্ম দিন। নয়তো ১ঘণ্টা ঘুমিয়ে উঠে দিনটাই নষ্ট।

৫. কফি ন্যাপ ট্রিক: ঘুমানোর ঠিক আগে এক কাপ ব্ল্যাক কফি খান। ক্যাফেইন কাজ শুরু করে ২০ মিনিট পর। আপনি যখন উঠবেন, তখন ক্যাফেইন + ঘুমের ডবল এনার্জি পাবেন।

কাদের জন্য নয়?

যাদের রাতে ইনসমনিয়া বা ঘুমের সমস্যা আছে, তারা দুপুরে ঘুম এড়িয়ে চলুন। রাতের ঘুম ৭-৮ ঘণ্টা না হলে আগে সেটা ঠিক করুন।

অফিসে ডেস্কে মাথা রেখে, বা বাড়িতে সোফায় ২০ মিনিট চোখ বুজুন। এই ছোট্ট বিরতি আপনার ব্রেনের রিসেট বাটন। বিকেলের কাজে প্রোডাক্টিভিটি দ্বিগুণ পাবেন।