কোন ৭টি ঘরোয়া টোটকা সবচেয়ে কার্যকর, কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন এবং কখন আর দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাবেন—জেনে নিন বিস্তারিত।
বর্ষাকাল হোক বা গরমের দিন, খাবারে অনিয়ম, দূষিত জল কিংবা ভাইরাল সংক্রমণের কারণে অনেকেরই পেট খারাপের সমস্যা দেখা দেয়। ঘন ঘন পাতলা পায়খানা হলে শরীরে জল ও লবণের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তবে হালকা উপসর্গ থাকলে কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় সাময়িকভাবে আরাম দিতে পারে।
১. পর্যাপ্ত ORS পান করুন
পেট খারাপ হলে শরীর থেকে প্রচুর জল ও ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যায়। তাই ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ORS) পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শরীরকে পানিশূন্য হওয়া থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
২. কলা খান
কলায় থাকা পটাশিয়াম শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি সহজপাচ্য হওয়ায় পেটের উপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে না।
৩. ভাত ও সেদ্ধ আলু
সাদা ভাত, সেদ্ধ আলু বা টোস্টের মতো কম মশলাযুক্ত খাবার হজমে সুবিধা করে এবং পেটকে বিশ্রাম দেয়।
৪. দই খেতে পারেন
দইয়ে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাভাবিক জীবাণুসমষ্টি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে। তবে কারও যদি দুধজাত খাবারে সমস্যা থাকে, তাহলে এটি এড়িয়ে চলাই ভালো।
৫. আদা
সামান্য আদা চা বা কুসুম গরম জলে আদা দিয়ে পান করলে বমিভাব বা অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে।
৬. তেল-মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন
পেট খারাপের সময় ভাজাভুজি, অতিরিক্ত মশলাদার খাবার, কোমল পানীয় ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা উচিত। এগুলি উপসর্গ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
৭. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
সংক্রমণ বা হজমের সমস্যায় শরীরকে সুস্থ হতে সময় লাগে। তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।
কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
২৪–৪৮ ঘণ্টার বেশি পাতলা পায়খানা চললে
মলে রক্ত দেখা গেলে
১০১°F (প্রায় ৩৮.৩°C) বা তার বেশি জ্বর থাকলে
তীব্র পেটব্যথা হলে
প্রস্রাব কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে
শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি বা গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন
পেট খারাপের বেশিরভাগ হালকা সমস্যা কয়েক দিনের মধ্যে সেরে যায়। তবে পানিশূন্যতা রোধ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। উপসর্গ গুরুতর হলে বা দীর্ঘস্থায়ী হলে ঘরোয়া উপায়ের উপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
