বাইরে টিপটিপ বৃষ্টি, আর রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছে কাঁচা সরষের ঝাঁঝ। গরম গরম ভাতের সঙ্গে দিদিমার স্টাইলে পুঁটি মাছের সর্ষেবাটা চচ্চড়ি হলে আর কী লাগে! কম উপকরণে, অথচ স্বাদে ভরপুর এই রেসিপি একবার খেলে বারবার খেতে ইচ্ছে করবে।

বর্ষাকাল মানেই বাঙালির নস্টালজিয়া। জানলা দিয়ে বৃষ্টি দেখতে দেখতে গরম ভাত আর একটা ঝাঁঝালো মাছের পদ। ছোটবেলায় দিদিমা ঠিক এইভাবেই রাঁধতেন। উনুনের আঁচে কড়াই বসিয়ে, একমুঠো পুঁটি মাছ আর ঘরে বাটা সর্ষে দিয়ে তৈরি হয়ে যেত অমৃত। আজকের রেসিপিটা একদম সেই পুরনো দিনের স্বাদ ফিরিয়ে দেবে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

পুঁটি মাছ ছোট হলেও স্বাদে কিন্তু একদম রাজা। আর তার সাথে যদি যোগ হয় কাঁচা সরষের ঝাঁঝ, তাহলে এক থালা ভাত নিমেষে শেষ। সবচেয়ে ভালো কথা হল এতে একদম কম মশলা লাগে। তেল-মশলা কম, কিন্তু টেস্ট ১০০ তে ১০০।

উপকরণ: ২-৩ জনের জন্য - পুঁটি মাছ: ১৫-২০ টা, মাঝারি সাইজের। আঁশ ছাড়িয়ে পেট কেটে ভালো করে ধুয়ে নুন-হলুদ মাখানো - কালো সর্ষে: ২ টেবিল চামচ - সাদা সর্ষে: ১ টেবিল চামচ - এটা দিলে তেতোভাব কম হয় - কাঁচা লঙ্কা: ৪-৫ টা + ২ টো চেরা - পেঁয়াজ কুচি: ১ টা মাঝারি - আলু: ১ টা লম্বা সরু করে কাটা, অপশনাল কিন্তু দিলে খেতে দারুণ লাগে - হলুদ গুঁড়ো: ১/২ চা চামচ - নুন: স্বাদমতো - সর্ষের তেল: ৩-৪ টেবিল চামচ - কালোজিরে: ১/২ চা চামচ - ধনেপাতা কুচি: সাজানোর জন্য

বানানোর পদ্ধতি: দিদিমার স্টাইলে স্টেপ বাই স্টেপ:

Step ১: সর্ষে বাটা তৈরি, তেঁতো ছাড়ানোর ট্রিক: প্রথমেই কালো আর সাদা সর্ষে ১৫ মিনিট কুসুম গরম জলে ভিজিয়ে রাখুন। এটাই সবচেয়ে বড় টিপস। এতে সর্ষের ঝাঁঝ থাকবে কিন্তু তেতোভাব চলে যাবে। এবার মিক্সিতে ভেজানো সর্ষে, ২-৩ টে কাঁচা লঙ্কা, ১/২ চা চামচ নুন আর ২ চামচ জল দিয়ে বেটে নিন। একদম মিহি পেস্ট করবেন না। একটু দানা দানা রাখলে চচ্চড়ির টেস্ট দারুণ হয়।

Step ২: মাছ হালকা করে ভাজা কড়াইতে সর্ষের তেল ভালো করে গরম করুন। তেল থেকে ধোঁয়া উঠলে আঁচ কমিয়ে দিন। এবার নুন-হলুদ মাখানো পুঁটি মাছগুলো দিন। খেয়াল রাখবেন একদম কড়া ভাজা যাবে না। প্রতিটা পিঠ ৩০ সেকেন্ড করে উল্টে-পাল্টে হালকা লাল করে ভেজে তুলে নিন। বেশি ভাজলে মাছ শক্ত হয়ে যাবে আর ভেঙেও যাবে।

Step ৩: চচ্চড়ির বেস তৈরি ওই একই তেলে আঁচ বাড়িয়ে দিন। কালোজিরে ফোড়ন দিন। গন্ধ বেরোলে পেঁয়াজ কুচি আর আলুর ফালি দিয়ে দিন। নুন আর হলুদ দিয়ে মাঝারি আঁচে ভাজুন যতক্ষণ না আলু ৭০% সেদ্ধ হয় আর পেঁয়াজ হালকা বাদামি হয়।

Step ৪: সর্ষে আর জলে ফোটানো এবার গ্যাস একদম কমিয়ে দিন। বেটে রাখা সর্ষে টা কড়াইতে ঢেলে দিন। সঙ্গে ১ থেকে ১.৫ কাপ গরম জল দিন। চচ্চড়ি একটু পাতলা-পাতলা হবে। ২ টো চেরা কাঁচা লঙ্কা দিয়ে দিন। ফুটে উঠলে আস্তে করে ভাজা মাছগুলো ছেড়ে দিন।

Step ৫: দমে বসানো আর শেষ টাচ এবার কড়াই ঢাকা দিয়ে একদম কম আঁচে ৫-৭ মিনিট দমে বসান। এই সময় মাছের সব স্বাদ ঝোলের মধ্যে ঢুকে যাবে। নামানোর ১ মিনিট আগে গ্যাস বন্ধ করে উপর থেকে ১ চা চামচ কাঁচা ঘানি ভাঙা সর্ষের তেল আর ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে দিন। ২ মিনিট ঢাকা দিয়ে রাখুন।

ব্যাস, তৈরি আপনার দিদিমার হাতের পুঁটি মাছের সর্ষেবাটা চচ্চড়ি।

দিদিমার ৩টে স্পেশাল টিপস ১. তেঁতো হবে না গ্যারান্টি: সর্ষে বাটার সময় ১ চিমটি নুন আর ১ টা কাঁচা লঙ্কা একসাথে বাটুন। আর সরষে ভেজানোটা মাস্ট। ২. ঝাঁঝ বাড়াতে: নামানোর পর কাঁচা সর্ষের তেলটা দিতেই হবে। এটা স্কিপ করলে আসল স্বাদ পাবেন না। ৩. মাছ না ভাঙার ট্রিক: মাছ কড়াইতে দেওয়ার পর খুন্তি দিয়ে ঘাঁটবেন না। কড়াইটা ধরে একটু নেড়ে দেবেন।

কিসের সাথে খাবেন? গরম ধোঁয়া ওঠা ভাতের সঙ্গে এই চচ্চড়ির ঝোল দিয়ে মেখে খান। সঙ্গে যদি একটু লেবু আর কাঁচা লঙ্কা থাকে তাহলে বৃষ্টির দুপুরটা একদম পারফেক্ট।

এই রেসিপি শুধু পেট ভরায় না, মনও ভরিয়ে দেয়। ছোটবেলার কথা মনে করিয়ে দেয়।