মাসের পর মাস প্ল্যান নয়। বিয়ের পরদিনই বর বন্ধুদের নিয়ে ‘অপহরণ’ করছে বউকে। গন্তব্য সিক্রেট। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ভাইরাল এই Kidnap Honeymoon।

একটা সময় ছিল বিয়ের ডেট ফাইনাল হওয়ার পরেই শুরু হয়ে যেত হানিমুনের প্ল্যানিং। পাহাড়ে যাবে না সমুদ্রে, কোন হোটেল বুক করবে, কতদিনের ছুটি, সব ঠিক করতে বিয়ের মজাই ফিকে হয়ে যেত। কিন্তু ২০২৬-এর নয়া প্রজন্মের দম্পতিরা সেই নিয়ম ভেঙে দিয়েছেন। তাঁদের মতে বিয়ের পর প্ল্যান করার আর সময় কোথায়? তাই তাঁরা বেছে নিয়েছেন একদম সিনেমার মতো রাস্তা। নাম দিয়েছেন ‘অপহরণ মধুচন্দ্রিমা’।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

নাম শুনে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। এখানে পুলিশ-কেস বা ঝামেলার কোনো ব্যাপার নেই। পুরোটাই ভালোবাসা আর সারপ্রাইজ। নিয়ম খুব সোজা। বিয়ের দিন বা বউভাত মিটতেই বর তার বন্ধুদের সঙ্গী করে প্ল্যান করে ফেলে। কনেকে কিচ্ছুটি টের পেতে দেওয়া হয় না। ভিড়, নিমন্ত্রণ, ফটোশুট সব মিটে যাওয়ার পর হঠাৎ করেই বর এসে নতুন বউকে ‘তুলে’ নিয়ে যায়। কোথায় যাচ্ছে, কতদিন থাকবে, কোন হোটেল বুক হয়েছে, স্ত্রী কিছুই জানেন না। হাতে একটা ছোট ব্যাগ আর চোখে হাজারটা প্রশ্ন নিয়ে বেরিয়ে পড়া। গন্তব্য হতে পারে কাছের দিঘা-মন্দারমনি, দূরের দার্জিলিং-সিকিম, এমনকি বিদেশের ব্যাংকক-বালিও।

প্রশ্ন হল হঠাৎ করে এই ‘অপহরণ’ ট্রেন্ড এলো কেন? মনোবিদরা বলছেন এর পিছনে আছে তিনটে বড় কারণ। প্রথমত সারপ্রাইজ। ব্যস্ত জীবনে সারপ্রাইজ খুব কম। বিয়ের শুরুতেই যদি এমন একটা থ্রিল পাওয়া যায় তাহলে সম্পর্কটা আরও গভীর হয়। অনেক নবধূ বলছেন এটা প্রমাণ করে যে মানুষটা তাঁকে নিয়ে কতটা ভেবেছে। দ্বিতীয় কারণ হল সোশ্যাল মিডিয়া। চোখ বেঁধে বউকে গাড়িতে তোলা, এয়ারপোর্টে সারপ্রাইজ রিভিল করার ভিডিও ইনস্টাগ্রাম-রিলসে মিলিয়ন ভিউ পাচ্ছে। #KidnapHoneymoon এখন ট্রেন্ডিং। তৃতীয় কারণ হল স্ট্রেস। বিয়ের ধকলের পর আবার প্ল্যান করে ছুটি কাটানো ঝামেলা। তার বদলে যদি সব দায়িত্ব বর নিজে নেয় আর বউ শুধু উপভোগ করে, তাহলে তার থেকে ভালো আর কী হতে পারে।

এই ট্রেন্ডের হাওয়া লেগেছে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর গায়েও। কলকাতার অনেক কোম্পানি এখন আলাদা করে "Surprise Honeymoon Package" বানিয়েছে। এখানে বর শুধু বাজেট আর কতদিনের জন্য যাবে সেটা বলবে। ফ্লাইট, হোটেল, ডেস্টিনেশন সব সিক্রেট থাকবে। বিয়ের সকালে বউয়ের ফোনে শুধু একটা মেসেজ আসবে, "রেডি হও, ৩ ঘণ্টার মধ্যে পিকআপ"। একজন ট্রাভেল এজেন্ট জানালেন গত ৬ মাসে এই প্যাকেজের চাহিদা প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে।

তবে সব মজার মধ্যেও কয়েকটা কথা মাথায় রাখা দরকার। সবচেয়ে জরুরি হল স্ত্রীর সম্মতি। এটা যেন একদম জোর করে না হয়। বেশিরভাগ কাপল আগেই ঠিক করে রাখেন যে বর সারপ্রাইজ দেবে। দ্বিতীয়ত বাড়ির বড়দের, বিশেষ করে বাবা-মাকে হালকা করে আভাস দিয়ে রাখা ভালো, নাহলে তাঁরা টেনশন করবেন। আর তৃতীয়ত ওষুধ, আইডি কার্ড আর এক সেট জামা আগের রাতেই একটা ব্যাগে গুছিয়ে রাখুন।

শেষে বলা যায় ‘অপহরণ মধুচন্দ্রিমা’ আসলে নতুন প্রজন্মের ভালোবাসা দেখানোর একটা স্টাইল। এখানে প্ল্যানিং এর মাথা খারাপ নেই, আছে শুধু অ্যাডভেঞ্চার আর একসাথে অজানাকে আবিষ্কার করার আনন্দ।