ঠোঁটের ভিতরে ছোট ছোট সাদা বা লাল ফুসকুড়ি বার বার ফিরে আসছে? এটা সাধারণত aphthous ulcer বা canker sore। স্ট্রেস, খাবার, ভিটামিনের অভাব থেকে হয়। তবে ২ সপ্তাহের বেশি থাকলে বা জ্বর এলে ডাক্তার দেখানো দরকার।
খেতে গেলেই কামড় লাগে, কথা বলতে গেলে জ্বালা করে। ঠোঁটের ভিতরে, গালে বা জিভের পাশে ছোট গোল সাদা ফুসকুড়ি। সেরে গেল ভাবলেন, ১৫ দিন পর আবার হাজির। খুব বিরক্তিকর তাই না?ভয়ের কিছু নেই। বেশিরভাগ সময় এগুলোকে বলে aphthous ulcer বা বাংলায় মুখের ভিতরের ঘা। এটা ছোঁয়াচে না। ঠান্ডা লাগার মতো ভাইরাসও না। শরীরের ভিতরের কিছু গন্ডগোলের সিগন্যাল।

বার বার কেন ফিরে আসে? একটা নির্দিষ্ট কারণ নেই। কয়েকটা জিনিস একসাথে হলে এই ফুসকুড়ি বার বার আসে।
প্রথমত স্ট্রেস আর ঘুম কম হওয়া। পরীক্ষা, অফিসের চাপ, রাত জাগলে ইমিউনিটি দুর্বল হয়। তখনই মুখের ভিতরে ঘা বের হয়। দ্বিতীয়ত খাবার। খুব ঝাল, টক, আচার, চকলেট, কফি, বাদাম খেলে অনেকের ট্রিগার হয়। দাঁত ব্রাশ করতে গিয়ে গালের ভিতরে কামড়ে গেলেও ওই জায়গায় ঘা হয়।
তৃতীয়ত ভিটামিন আর মিনারেলের অভাব। B12, ফলিক অ্যাসিড, আয়রন আর জিঙ্ক কম থাকলে বার ঘা হয়। পেটের সমস্যা যেমন গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা IBS থাকলেও হতে পারে। কিছু মানুষের আবার টুথপেস্টের SLS মানে Sodium Lauryl Sulphate থেকে অ্যালার্জি হয়। SLS ছাড়া টুথপেস্ট ব্যবহার করলে কমে যায়।
মহিলাদের ক্ষেত্রে পিরিয়ডের সময় হরমোনের বদলের জন্যও হতে পারে।
বাড়িতে কী করবেন? ঘাবড়াবেন না। সাধারণ ঘা ৭ থেকে ১০ দিনে নিজে থেকেই সেরে যায়। এই কয়েকটা জিনিস মেনে চলুন। ঝাল, টক, গরম খাবার কয়েকদিন বন্ধ রাখুন। নুন জল দিয়ে কুলকুচি করুন দিনে ৩ বার। মধু লাগাতে পারেন, উপকার পাবেন। প্রচুর জল খান আর পেট ঠিক রাখুন। স্ট্রেস কমানোর জন্য ২০ মিনিট হাঁটুন। আর টুথপেস্ট কেনার সময় SLS free লেখা আছে কিনা দেখে নিন।
চিকিৎসকের কাছে কখন যাবেন? সব ঘা সাধারণ না। এই ৫টা লক্ষণ থাকলে দেরি না করে ডেন্টিস্ট বা চিকিৎসকের কাছে যান।
১. ঘা টা ২ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আছে আর সারছে না। ২. ঘা-এর সাথে জ্বর, গায়ে র্যাশ বা চোখ লাল হয়ে যাচ্ছে। ৩. ঘা-এর সাইজ ১ সেমি-এর থেকে বড় আর খুব যন্ত্রণা। ৪. খেতে বা জল গিলতে খুব কষ্ট হচ্ছে, ওজন কমে যাচ্ছে। ৫. বছরে ৬ বারের বেশি বার ঘা হচ্ছে।
এগুলো Behcet's disease, Crohn's, বা ভিটামিনের বড় ঘাটতির লক্ষণও হতে পারে। ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা করে আসল কারণটা ধরে ওষুধ দেবেন।
ঠোঁটের ভিতরের ফুসকুড়ি বেশিরভাগ সময় ছোটখাটো ব্যাপার। একটু যত্ন আর লাইফস্টাইল বদলালেই কমে যায়। কিন্তু বার বার ফিরে আসলে আর ২ সপ্তাহের বেশি থাকলে সেটাকে ইগনোর করবেন না।


