Health News: এসি ছাড়া গরমে ঘুম হয় না, কিন্তু এসি চালালে ঘর হয়ে যায় মরুভূমি। হিউমিডিটি ৬০% থেকে ২৫% এ নেমে আসে। ফল—গলা খরখর, নাক দিয়ে রক্ত, স্কিন টান, চোখ জ্বালা। সবচেয়ে সস্তা সমাধান ১ বালতি জল। সাথে আরও ৬টা নিয়ম মানলে সারারাত এসি চালিয়েও সকালে ফ্রেশ উঠবেন। খরচ নেই, শুধু অভ্যাস বদলান।
Health News: এসির কাজই হল ঘরের গরম আর জলীয় বাষ্প টেনে বাইরে ফেলা। ইভাপোরেটর কয়েল ৫-১০°C ঠান্ডা থাকে। ঘরের বাতাস ওর উপর দিয়ে গেলে বাষ্প জল হয়ে পাইপ দিয়ে টপটপ করে পড়ে। ৮ ঘণ্টায় ২-৩ লিটার জল ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। তাই হিউমিডিটি ৬০% থেকে ২৫% এ নেমে আসে। সাহারা মরুভূমির হিউমিডিটিও ২৫%। এই শুকনো বাতাস আপনার নাক, গলা, স্কিন, ফুসফুস থেকে জল টেনে নেয়।

* শরীরে কী এফেক্ট পড়ে: সকালের কষ্টের কারণ:
নাকের ভিতর মিউকাস শুকিয়ে ফেটে যায় বলে সকালে নাক বন্ধ, হাঁচি, রক্ত পড়ে। গলা শুকিয়ে খরখর করে, কাশি হয়। চোখ লাল হয়, জ্বালা করে। স্কিনের ন্যাচারাল অয়েল উড়ে যায় বলে টান ধরে, চুলকায়, একজিমা বাড়ে। শুকনো বাতাসে ভাইরাস বেশি ক্ষণ ভেসে থাকে, তাই সাইনাস ইনফেকশন, কোল্ড সহজে হয়। বাচ্চা আর বয়স্কদের সমস্যা বেশি।
• ১ বালতি জলের ম্যাজিক: ফ্রি হিউমিডিফায়ার:
ঘরে চওড়া মুখের গামলা বা বালতিতে ২-৩ লিটার জল ভরে খাটের পাশে রাখুন। এসির শুকনো বাতাস সারারাত ওই জলকে বাষ্প করে ঘরে ছড়াবে। একে বলে প্যাসিভ ইভাপোরেশন। ১০-১২ ঘণ্টায় ৫০০ মি.লি থেকে ১ লিটার জল বাষ্প হয়ে হিউমিডিটি ৪০-৫০% এ তুলে দেয়। WHO-এর মতে এটাই শরীরের জন্য আরামদায়ক। হাইগ্রোমিটার থাকলে নিজেই মেপে দেখুন, ১৫-২০% তফাৎ পাবেন।
• জল রাখার নিয়ম: নইলে মশার ফার্ম হবে
রোজ সকালে জল ফেলে দিন, পাত্র ধুয়ে নতুন জল ভরুন। ২৪ ঘণ্টার বেশি রাখলে ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়ার মশা ডিম পাড়বে। প্লাস্টিক বা স্টিলের গামলা ইউজ করুন। মুখ যত চওড়া, বাষ্প তত বেশি। জলে ২ ফোঁটা ইউক্যালিপটাস অয়েল বা লেবুর স্লাইস দিলে ঘর ফ্রেশ থাকবে, বন্ধ নাক খুলবে। চাইলে গরম জল রাখুন, আরও দ্রুত বাষ্প হবে। বিকল্প হিসাবে ভিজে তোয়ালে মেলে দিন বা ঘরে মানি প্ল্যান্ট, অ্যালোভেরা রাখুন। গাছও রাতে জলীয় বাষ্প ছাড়ে।
• এসির টেম্পারেচার ফিক্স করুন: ২৪-২৬°C ই বেস্ট
অনেকে ১৬-১৮°C এ এসি চালায়। এতে ঘর আরও ড্রাই হয়, বিলও ৪০% বাড়ে। শরীরের জন্য ২৪-২৬°C আদর্শ। প্রতি ১°C বাড়ালে ৬% বিদ্যুৎ বাঁচে। ঘুমানোর সময় ‘স্লিপ মোড’ অন করুন। এসি আস্তে আস্তে টেম্পারেচার বাড়াবে। ডিরেক্ট গায়ে হাওয়া লাগাবেন না, সুইং মোডে রাখুন।
• শরীরকে হাইড্রেটেড রাখুন: ভিতর-বাহির দুটোই
রাতে শোবার আগে ১ গ্লাস জল খান। খাটের পাশে জলের বোতল রাখুন, গলা শুকালে খান। মুখে-হাতে ভারী ময়েশ্চারাইজার, পেট্রোলিয়াম জেলি বা নারকেল তেল লাগান। ঠোঁটে লিপ বাম মাস্ট। নাকে-নাভিতে এক ফোঁটা নারকেল তেল দিলে নাকের ভিতর শুকায় না। চোখ জ্বালা করলে ডাক্তারের পরামর্শে লুব্রিকেটিং আই ড্রপ দিন।
• ঘরের বাতাস বদলান: ভেন্টিলেশন আর সার্ভিসিং জরুরি
দিনে ১ ঘণ্টা জানলা খুলে ফ্যান চালান। বদ্ধ এসি ঘরে CO2 জমে, মাথা ধরে। ৬ মাস অন্তর এসি ফিল্টার পরিষ্কার করুন। নোংরা ফিল্টারে ডাস্ট, ফাঙ্গাস জমে, সেটাই ঘরে ঘোরে। সকালে উঠে ১০ মিনিট বারান্দায় বা ছাদে যান। ফ্রেশ অক্সিজেন নিন, রাতের ড্রাইনেস ব্যালেন্স হবে।
শেষ কথা :
এসি খারাপ না, ভুলভাবে ইউজ করাটা খারাপ। ১ বালতি জল আর এই ৬টা নিয়ম মানলে সারারাত এসি চালিয়েও সকালে হাঁচি-কাশি, স্কিন টান হবে না। টাকা লাগবে না, শুধু ২ মিনিটের অভ্যাস। আজ রাত থেকেই শুরু করুন।
বদ্ধ জল ২৪ ঘণ্টার বেশি রাখলে মশা হতে পারে। রোজ জল পাল্টান। শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা বা সিভিয়ার সাইনাস থাকলে ডাক্তারের পরামর্শে মেডিকেল হিউমিডিফায়ার ইউজ করুন। এই টিপস সাধারণ সচেতনতার জন্য, চিকিৎসার বিকল্প নয়।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
