আগেকার দিনে মহিলাদের কোমর ছোঁয়া চুলের আসল রহস্য ছিল ধূপের ধোঁয়া। কোনও কেমিক্যাল ছাড়াই চুল হত ঘন, লম্বা আর ঝলমলে। জানুন ঠাকুমার সহজ টোটকা।
আমাদের ঠাকুমা-দিদাদের অ্যালবাম খুললেই দেখবেন একটা জিনিস কমন। হাঁটু ছাড়িয়ে, কোমর ছুঁয়ে যাওয়া কালো ঘন চুল। না ছিল পার্লার, না দামি সিরাম, না ছিল হাজার রকমের শ্যাম্পু। তবুও চুলে এমন শাইন যে দেখলে চোখ জুড়িয়ে যেত।
তাহলে ওদের সিক্রেটটা কী ছিল?
উত্তরটা লুকিয়ে আছে রান্নাঘর আর ঠাকুরঘরে। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। সেই পুজোর ধূপের ধোঁয়া। আয়ুর্বেদে একে বলে "ধূপন"। আগেকার মহিলারা একে চুলের "ন্যাচারাল স্পা" মানতেন। আর এই একটা কাজেই চুল পড়া বন্ধ হত, খুশকি যেত, আর চুল লম্বা হত ম্যাজিকের মতো।
ধূপের ধোঁয়া চুলের জন্য কেন এত ভালো ছিল:
আগেকার দিনে মহিলারা বিশ্বাস করতেন চুল শুধু সৌন্দর্য নয়, এটা আমাদের শরীরের শক্তি ধরে রাখে। তাই চুলের যত্ন মানে নিজের যত্ন। ধূপের ধোঁয়ায় লোবান, গুগগুল, চন্দন আর কপুর থাকে। এই সবকিছুর মধ্যে প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক গুণ আছে। যখন এই গরম ধোঁয়া মাথার তালুতে লাগত, তখন স্ক্যাল্পের সব ময়লা, খুশকি আর ফাঙ্গাস পুড়ে যেত। চুলের গোড়া পরিষ্কার হয়ে যেত। আর গোড়া শক্ত হলে চুল পড়বেই বা কেন?
ধোঁয়ার গরম ভাব রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দিত। বেশি রক্ত গেলে চুলের গোড়ায় বেশি খাবার যেত। ফলে চুল তাড়াতাড়ি লম্বা হত আর মোটা হত। আর সবচেয়ে বড় কথা, ধূপের গন্ধে মন শান্ত হত। স্ট্রেস কমলে চুল পড়াও অটোমেটিক কমে যায়।
ঠাকুমার পদ্ধতিতে কীভাবে করবেন "ধূপন":
এটা করতে কোনও খরচ নেই। সময় লাগবে মাত্র 10 মিনিট। প্রথমে চুলে হালকা করে তেল দিয়ে আধ ঘণ্টা রাখুন। তারপর ঈষদুষ্ণ জলে চুল ধুয়ে নিন। পুরো শুকোতে দেবেন না, চুল একটু ভেজা ভেজা থাকবে। এবার একটা মাটির ধূপদানিতে দেশি গোবরের ধূপ বা ধূনোর ধূপ জ্বালান। চুল ছেড়ে দিয়ে সেই ধোঁয়ার উপর 5-7 মিনিট বসুন। মাথার উপর একটা পাতলা ওড়না দিয়ে দিন যাতে ধোঁয়াটা চুলে ভালো করে লাগে। খেয়াল রাখবেন আগুন যেন চুলে না লাগে, শুধু ধোঁয়া নেবেন।
ধোঁয়া দেওয়া হয়ে গেলে সেদিন আর চুল ধোবেন না। পরের দিন সকালে দেখবেন চুলে একটা আলাদা চকচকে ভাব আর সুন্দর গন্ধ। সপ্তাহে 2 দিন, মঙ্গল আর শুক্রবার করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাবেন। টানা এক মাস করলেই চুল পড়া কমে যাবে। আর তিন মাসের মধ্যে নতুন ছোট ছোট চুল গজাতে দেখবেন।
কারা একটু সাবধানে করবেন:
যাদের অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে তারা সরাসরি ধোঁয়া নাক দিয়ে টানবেন না। শুধু চুলে লাগান। আর যারা রিবন্ডিং বা কেরাটিন করিয়েছেন তারা ১৫ দিন পর থেকে শুরু করুন। আজ আমরা হাজার টাকার ট্রিটমেন্ট করি, কিন্তু ফল পাই না। অথচ আমাদের ঠাকুমারা ফ্রি তে, ঘরের জিনিস দিয়েই কোমর ছোঁয়া চুল পেত। ওনারা রহস্য জানতেন। প্রকৃতিই সবচেয়ে বড় বিউটিশিয়ান। এই সপ্তাহেই একবার ট্রাই করে দেখুন। হয়তো আপনারও চুলে ফিরে আসবে সেই হারানো শাইন।


