Health News: হাত-পা কাঁপা মানেই স্নায়ুর বড় রোগ নয়। ৭০% ক্ষেত্রে কারণ সাধারণ: ভিটামিন B12, D, ম্যাগনেশিয়াম কম, থাইরয়েড বেশি, লো সুগার, বেশি চা-কফি, টেনশন, ঘুমের ওষুধ। 

Health News: খবরের কাগজে সই করতে গিয়ে দেখলেন সই বেঁকে যাচ্ছে। মোবাইলে টাইপ করতে গেলে ভুল বোতামে চাপ পড়ছে। চায়ের কাপ নামাতে গিয়ে অর্ধেক পড়ে যায়।

মাথায় প্রথমেই আসে, “নার্ভের রোগ? পারকিনসন? ব্রেন টিউমার?”

দাঁড়ান, প্যানিক নয়। হাত-পা কাঁপা বা মেডিক্যাল ভাষায় ‘ট্রেমর’-এর ১০০টা কারণ আছে। তার মধ্যে ৯০টা-ই বিপজ্জনক নয়।

স্নায়ুর দুর্বলতা না ভিটামিন? আসল ভিলেন কারা:

১. ভিটামিন B12 অভাব - সবচেয়ে কমন, ৪০% কেস:

কেন হয়: B12 নার্ভের কভার মায়েলিন শিথ বানায়। B12 কমলে তার কাটা গেলে যেমন শক লাগে, নার্ভে তেমন ‘শর্ট সার্কিট’ হয়। হাত-পা ঝিনঝিন, অবশ, কাঁপুনি। সাথে ভুলে যাওয়া, মুড সুইং, জিভে ঘা।

কাদের হয়: ভেজিটেরিয়ান, গ্যাসের ওষুধ Pantoprazole খেলে, ৫০+ বয়স, অ্যালকোহল খেলে।

টেস্ট: সিরাম B12। ২০০-এর নিচে হলে ডেফিসিয়েন্সি।

২. ভিটামিন D ও ম্যাগনেশিয়াম কম - মাসল কাঁপে:

কেন হয়: ভিটামিন D কমলে ক্যালসিয়াম শোষণ হয় না। ম্যাগনেশিয়াম কমলে মাসল রিল্যাক্স করতে পারে না। ফলে পা, চোখের পাতা, আঙুল ফড়ফড় করে কাঁপে। রাতে ক্র্যাম্প হয়।

কাদের হয়: রোদে না বেরোলে, PCOD, থাইরয়েড থাকলে।

টেস্ট: 25-OH Vitamin D, সিরাম ম্যাগনেশিয়াম।

৩. থাইরয়েড বেশি - হাইপার থাইরয়েডিজম:

কেন হয়: থাইরয়েড হরমোন বেশি হলে মেটাবলিজম রকেট গতিতে চলে। হার্টবিট ফাস্ট, ঘাম, ওজন কমা, আর হাত কাঁপা। বিশেষ করে আঙুল মেলে ধরলে কাগজ পাতলা করে ধরলে বোঝা যায়।

কাদের হয়: মহিলাদের ৮ গুণ বেশি। ২০-৪০ বছর বয়সে।

টেস্ট: TSH, T3, T4। TSH কম, T3-T4 বেশি।

৪. লো সুগার - হাইপোগ্লাইসেমিয়া:

কেন হয়: সময়ে না খেলে, ডায়াবেটিসের ওষুধ বেশি খেলে সুগার ৭০-এর নিচে নেমে যায়। ব্রেনে গ্লুকোজ না পেলে হাত-পা কাঁপে, ঘাম, বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা। মিষ্টি খেলে ৫ মিনিটে কমে।

কাদের হয়: ডায়াবেটিস রোগী, ডায়েটিং করা মেয়েরা, লম্বা গ্যাপে খেলে।

টেস্ট: RBS, HBA1c।

৫. এসেনশিয়াল ট্রেমর - বংশগত, বিপজ্জনক নয়:

কেন হয়: এটা সবচেয়ে কমন ট্রেমর। ব্রেনের সেরিবেলাম অংশের গন্ডগোল। বংশে কারও থাকলে ৫০% চান্স।

লক্ষণ: কাজ করতে গেলেই কাঁপে। জল খাওয়া, লেখা, বোতাম লাগানো। রেস্টে থাকলে, ঘুমোলে কমে যায়। বয়সের সাথে বাড়ে। অ্যালকোহল খেলে ১ ঘণ্টা কমে, তাই অনেকে মদ ধরে।

বিপদ: নেই। পারকিনসন নয়। শুধু অস্বস্তি।

৬. পারকিনসন ডিজিজ - রেস্টিং ট্রেমর:

কেন হয়: ব্রেনে ডোপামিন কেমিক্যাল কমে যায়।

লক্ষণ: হাত কোলে রেখে রেস্টে থাকলেও বুড়ো আঙুল আর তর্জনী ‘পিল রোলিং’ মতো কাঁপে। সাথে হাঁটার সময় হাত না দোলা, একদিকে কাত হয়ে হাঁটা, মুখে এক্সপ্রেশন কম, গলা আস্তে। ৬০+ বয়সে বেশি।

বিপদ: আছে। নিউরোলজিস্ট দেখান। MRI, DAT Scan লাগে।

৭. টেনশন, ক্যাফেইন, ওষুধের সাইড এফেক্ট:

অ্যাংজাইটি: পরীক্ষা, ইন্টারভিউর আগে অ্যাড্রেনালিন বেড়ে হাত কাঁপে।

ক্যাফেইন: দিনে ৪ কাপের বেশি চা-কফি, কোল্ড ড্রিংকস নার্ভ স্টিমুলেট করে।

ওষুধ: সালবিউটামল ইনহেলার, কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, লিথিয়াম, স্টেরয়েড খেলে কাঁপে। ওষুধ বন্ধ করলে কমে।

অ্যালকোহল উইথড্রয়াল: রোজ মদ খেয়ে হঠাৎ বন্ধ করলে ২৪-৪৮ ঘণ্টা পর হাত কাঁপে।

কীভাবে বুঝবেন আপনারটা কোন টাইপ? ৩০ সেকেন্ডের টেস্ট:

টেস্ট ১: হাত মেলে ধরুন

A4 কাগজ হাতের উপর রাখুন। কাঁপলে = হাইপারথাইরয়েড / এসেনশিয়াল ট্রেমর / অ্যাংজাইটি।

না কাঁপলে = পারকিনসন হতে পারে।

টেস্ট ২: গ্লাসে জল খান

খাওয়ার সময় বেশি কাঁপলে = এসেনশিয়াল ট্রেমর।

কোলে রাখলে বেশি কাঁপলে = পারকিনসন।

টেস্ট ৩: টাইমিং

সকালে খালি পেটে বেশি কাঁপলে = লো সুগার / B12।

সন্ধ্যায়, ক্লান্ত হলে = এসেনশিয়াল ট্রেমর।

কী টেস্ট করাবেন? ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে:

১. CBC, B12, D3, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম - ভিটামিন চেক।

২. TSH, T3, T4 - থাইরয়েড।

৩. RBS, HBA1c - সুগার।

৪. লিভার-কিডনি ফাংশন - মদ বা ওষুধের এফেক্ট।

এই ৪টে রিপোর্ট নিয়েই নিউরোলজিস্ট বা মেডিসিন ডাক্তার দেখান। ৭০% কেসে ওষুধ না, ভিটামিন-ডায়েটেই সেরে যায়।

ঘরোয়া কী করবেন?

১. B12 বাড়ান: ডিম, দুধ, দই, মাছ, চিকেন। ভেগান হলে B12 সাপ্লিমেন্ট ১৫০০ mcg সপ্তাহে ১টা, ডাক্তার বলে।

২. ম্যাগনেশিয়াম: কলা, পালং শাক, কুমড়োর বীজ, ডার্ক চকলেট।

৩. ক্যাফেইন কমান: দিনে ২ কাপ চা-কফির বেশি নয়। ৬টার পর নৈব চ।

৪. স্ট্রেস কমান: ১০ মিনিট অনুলোম-বিলোম, যোগা। হাত কাঁপা ৫০% কমবে।

৫. ভারী কাজ: হাতে ১ কেজি ডাম্বেল নিয়ে ৫ মিনিট নাড়লে এসেনশিয়াল ট্রেমর সাময়িক কমে।

কখন দেরি নয়? নিউরোলজিস্ট মাস্ট:

১. ৫০ বছরের পর হঠাৎ শুরু হলে।

২. হাঁটার গতি কমে গেলে, এক পাশে কাত হলে।

৩. কথা জড়িয়ে গেলে, ঢোক গিলতে কষ্ট।

৪. পরিবারে পারকিনসন হিস্ট্রি থাকলে।

হাত-পা কাঁপা মানেই ‘নার্ভ এর রোগ ’ নয়। বেশিরভাগ সময় শরীর বলছে, “আমার ভিটামিন দাও, সুগার দাও, স্ট্রেস কমাও”। গুগল করে ভয় না পেয়ে ব্লাড টেস্ট করান। কারণ জানলে সমাধান ১০ দিনে।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।