শান্তিনিকেতন মানেই প্রথমে চোখে ভাসে লালমাটির পথ, শালবন আর দূরে বাউলের একতারা। আর এই সবকিছুর কেন্দ্রে আছে *সোনাঝুরি হাট*। শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি হাটের বাউল, লালমাটি আর তার পাশেই ইলামবাজার জঙ্গলের গোপন ঝর্না। বর্ষায় ১ দিনের পারফেক্ট প্ল্যান।

শান্তিনিকেতন মানেই প্রথমে চোখে ভাসে লালমাটির পথ, শালবন আর দূরে বাউলের একতারা। আর এই সবকিছুর কেন্দ্রে আছে *সোনাঝুরি হাট*। হাট মানেই শুধু কেনাকাটা নয়। এটা শান্তিনিকেতনের প্রাণ। আর হাট থেকে মাত্র ৩০ মিনিট দূরেই লুকিয়ে আছে বর্ষার একটা গোপন ঝর্না। একদিনে দুটোই ঘুরে আসতে পারেন।

*সোনাঝুড়ির হাট - লালমাটির উৎসব* :

প্রতি শনিবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসে এই হাট। জায়গাটা খোয়াইয়ের একদম গায়ে।

*হাটে কী পাবেন?*

1. *বাউল গান*: গাছের তলায় বসে বাউল-ফকিররা গান ধরেন। লালমাটিতে বসে গান শোনার ফিলিংসটাই আলাদা।

2. *হস্তশিল্প*: আদিবাসী মহিলাদের হাতের কাঁথা, বাটিক, টেরাকোটার গয়না, বেতের ব্যাগ। দামও সাধ্যের মধ্যে।

3. *লোক খাবার*: গরম গরম পিঠে, চপ, মুড়ি-ঘুগনি আর মাটির ভাঁড়ের চা। খোয়াইয়ের হাওয়া খেতে খেতে খাওয়ার মজাই আলাদা।

4. *আদিবাসী নাচ*: বিকেলের দিকে সাঁওতালি নাচ হয়। আপনিও পা মেলাতে পারেন।

*টিপস*: নগদ টাকা রাখবেন। UPI সব জায়গায় চলে না। আর দরদাম করতে ভুলবেন না।

*হাটের কাছেই লুকোনো ঝর্না - "কালো ডোবা"* :

হাট ঘুরে মন ভরবে, এবার শরীর জুড়ানোর পালা। সোনাঝুরি থেকে ১৫ কিমি দূরে ইলামবাজার জঙ্গলের ভেতরে এই ছোট্ট ঝর্না। বর্ষায় জুলাই-সেপ্টেম্বর এখানে জল থাকে টইটম্বুর। ১৫-২০ ফুট উপর থেকে জল পড়ে ছোট কুণ্ড বানিয়েছে। চারপাশে শাল-সেগুন, পাখির ডাক। ভিড় নেই, টিকিট নেই।

*কীভাবে যাবেন:*

সোনাঝুরি → ইলামবাজার বাজার → আদিবাসী পাড়া → শেষ ১ কিমি হাঁটা। টোটো ভাড়া ১২০০-১৫০০ টাকা সারাদিন। স্থানীয় গাইড ৫০ টাকায় নিয়ে যাবে।

*সাথে রাখবেন*: জোঁকের জন্য মোজা, পাওয়ার ব্যাংক, জল, শুকনো খাবার। সন্ধ্যার আগে ফিরবেন।

*১ দিনের পারফেক্ট প্ল্যান* :

*সকাল ১১টা*: শান্তিনিকেতন পৌঁছে বিশ্বভারতী, কাঁচের মন্দির ঘুরুন

*বিকেল ৩টা - ৫টা*: সোনাঝুরি হাটে বাউল গান + শপিং

*বিকেল ৫টা - ৭টা*: ইলামবাজারের ঝর্নায় সানসেট দেখে ফেরা

সোনাঝুরি আপনাকে গান আর রঙ দেবে। আর ঝর্না দেবে শান্তি। বর্ষায় শান্তিনিকেতন গেলে এই কম্বোটা মিস করবেন না।