অকালপক্কতা, অসময়ে চুল ঝরে যাওয়া, ও স্ক্যাল্পে সংক্রমণের মত বিভিন্ন সমস্যার একটাই সমাধান হতে পারে দক্ষিণ ভারতের এই ভেষজ….

কেমিক্যাল যুক্ত প্রসাধনী ও দামি তেল ব্যবহার করেও হয়নি সুরাহা। অকালপক্কতা, অসময়ে চুল ঝরে যাওয়া, ও স্ক্যাল্পে সংক্রমণের মত বিভিন্ন সমস্যার একটাই সমাধান হতে পারে দক্ষিণ ভারতের এই ভেষজ, নাম ভাম্পালাম বাট। ইংরেজিতে Alkanna Tinctoria বলে। হিন্দিতে রতনজোট বলা হয়। বৈজ্ঞানিক নাম Crateva magna। প্রাচীন আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় এই গাছের ছালের ব্যবহার নগণ্য নয়। ত্বক, চুল, এমনকি পেটের সমস্যাতেও কার্যকরী এই ভেষজ।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

দক্ষিণ ভারতে পাওয়া এই ভেষজটি লাল রঞ্জক হিসেবেও পরিচিত। ডা. কার্তিকেয়ন তার ইউটিউবে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে এ বিষয়ে জানান। তিনি বলেন, "ভেম্পালাম ছালের আন্টি-ইনফ্লামেটরি ও আন্টি-ইনফেক্টিভ বৈশিষ্ট্য চুলের গোড়া মজবুত করতে, খুশকি এবং এলার্জি কমাতে দারুন কাজ করে।"

চুলের যত্নে ভেম্পালাম ব্যবহারের পরামর্শ কেন?

* ছালটির ভেষজ গুণ স্ক্যাল্পে রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের গোড়া শক্তিশালী করে, ফলে চুল পড়া হ্রাস পায়। * এর অ্যান্টি-ইনফেক্টিভ গুণাগুণ মাথার ত্বকে ছত্রাকজনিত সংক্রমণ রোধ করে, ফলে খুশকি, অ্যালার্জি, ৱ্যাশ কমে যায়। * ভেম্পালাম ছালের অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্য মাথার ত্বকের প্রদাহ কমিয়ে দেয়, স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্য উন্নত করে চুল পড়া নিয়ন্ত্রণে রাখে। * প্রাচীন আয়ুর্বেদ মতে, ভেম্পালাম ছাল সিদ্ধ করে তার নির্যাস চুলে ব্যবহার করলে চুল ঘন ও মসৃণ হয়।

বৈজ্ঞানিক কারণ Alkanna Tinctoria -তে শক্তিশালী আন্টি-অক্সিডেন্ট, যেমন - শিকোনিন ও অ্যালানিন রয়েছে, যা চুলের গ্রোথ সেলকে উদ্দীপিত করে। স্ক্যাল্প পরিষ্কার থাকে এবং প্রদাহ কমে।

কোথায় পাবেন?

আগে চিনুন কেমন দেখতে? ভেম্পালাম ছাল দেখতে কিছুটা কালচে রঙের তবে ভেতরে গাঢ় লাল রঙ হয়ে থাকে। আয়ুর্বেদিক কোন দোকানে বা অনলাইনেও পেতে পারেন।

এই ছাল কীভাবে ব্যবহার করবেন?

ঘোরে এই ভেষজ তেল বানাতে ১০০ মিলিগ্রাম নারকেল তেল বা তিল তেল নিতে হবে। ভেম্পালাম ছাল ও নিম ঝাল লাগবে।

যেকোনো তেল উষ্ণ গরম হলে, ভেম্পালাম ছাল ও নিম ছাল দিয়ে কিছুক্ষণ ফোটাতে হবে। ছাল রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করেও নিতে পারেন আবার টুকরো টুকরো করেও তেলে ফুটিয়ে নিতে পারেন।এবার তেল ঠান্ডা হলে ছেঁকে পরিষ্কার বোতলে ভরে রাখুন। সপ্তাহে ২-৩ দিন নিয়মিত মাথায় মালিশ করলে উপকার মিলবেই।

সারাংশ প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের পরিচর্যা করতে চাইলে আয়ুর্বেদিক ছাল, শিকড় পাতা, ফুল -এগুলির বিকল্প হয়না। চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এইসব ভেষজ তেলের গুণ অতি প্রাচীন আয়ুর্বেদে।