Baby Care: বাড়ির বড়দের একটাই বক্তব্য, ন্যাড়া করালেই চুল ঘন হবে খুদের। এমন কথা ঘরে ঘরে শোনা যায়। অনেক মা-বাবাই ঘন চুলের আশায় শিশুকে বার বার ন্যাড়া করান। কিন্তু এতে কোনও বৈজ্ঞানিক যুক্তি নেই।
Haircare: ছোটবেলায় শিশুকে বারবার ন্যাড়া করলে চুল ঘন ও কালো হবে—এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা। চিকিৎসকদের মতে, মাথা মুড়িয়ে ফেললে চুলের ঘনত্ব বা বৃদ্ধি বাড়ে না, কারণ চুল গজায় ত্বকের নিচে থাকা ফলিকল থেকে। ন্যাড়া হলেই যে ঘন চুল হবে, তেমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। চুল গজায় ফলি্কল থেকে। তা মাথার তালুর কয়েক মিলিমিটার নীচে থাকে। মাথার চুল কামানোয় ফলিকল কোনওভাবেই প্রভাব পড়ে না। ত্বকের বাইরে যে অংশটি থাকে, সেটাই শুধু কামানো হয়। ফলে ন্যাড়া হওয়ার পরে চুলের ঘনত্বে কোনও বদল আসে না।
বাচ্চার চুলের ঘনত্ব মূলত ৪টি প্রধান বিষয়ের উপর নির্ভর করে, যা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হল:
১. জিনগত গঠন (Genetics):
- শিশুর চুলের প্রকৃতি—সোজা না কোঁকড়ানো, পাতলা না ঘন—তা পুরোপুরি বাবা-মায়ের জিন দ্বারা নির্ধারিত হয়।
- বাবা-মায়ের চুল পাতলা বা কম ঘন হলে শিশুর চুলও সাধারণত তেমন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে।
২. হরমোনের প্রভাব (Hormones):
- জন্মের সময় শিশুর মাথায় যে চুল থাকে, তা মায়ের শরীরের হরমোনের প্রভাবে হয়, যাকে "ভেলাস চুল" বলা হয়।
- সাধারণত জন্মের ৩ মাস পর এই চুল পড়তে শুরু করে এবং ৯ মাস বয়সের পর থেকে আসল চুল গজাতে থাকে। এই নতুন চুল আগের চেয়ে ঘন বা ভিন্ন রঙের হতে পারে, যা ন্যাড়া করার ওপর নির্ভর করে না।
৩. পুষ্টিকর খাবার ও ডায়েট (Diet & Nutrition):
- শিশুর চুলের বৃদ্ধিতে প্রোটিন, আয়রন এবং বায়োটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর রোজের ডায়েটে ডিম, ডাল, পালংশাক, মাছ এবং জ়িঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার (যেমন কুমড়োর বীজ) রাখতে হবে।
- শরীরে পুষ্টির ঘাটতি থাকলে চুল পাতলা ও দুর্বল হয়ে যায়।
৪. মাথার ত্বকের যত্ন (Scalp Care):
- ঘন চুলের জন্য মাথার তালু বা স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্য ভালো থাকা প্রয়োজন। নিয়মিত আলতোভাবে নারকেল তেল মালিশ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে।
- সপ্তাহে ৩-৪ দিন মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন যাতে খুশকি বা ময়লা জমে চুল পড়া না বাড়ে।
বিশেষ সতর্কবার্তা:
বারবার ন্যাড়া করলে বা ক্ষুর দিয়ে চুল কামালে মাথার ত্বকে ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাল সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তাই অযথা শিশুকে বারবার ন্যাড়া না করে পুষ্টিকর খাবার ও সঠিক যত্নের ওপর জোর দেওয়া উচিত।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


