ভেট ডাক্তাররা বলছেন পাগ হলো "Brachycephalic Breed" মানে চ্যাপ্টা নাকের কুকুর। ওদের শ্বাসনালী ছোট, তাই গরমে হাঁপিয়ে ঘাম ঝরিয়ে শরীর ঠান্ডা করতে পারে না। ৩২ ডিগ্রির উপর তাপমাত্রা ওদের জন্য ডেঞ্জার জোন। 

পেট শপে গিয়ে দেখলে একটা পাগ বাচ্চা। ৮ হাজার টাকা। মুখটা কুঁচকে তোমার দিকে তাকিয়ে আছে। দোকানদার বললো "দাদা খুব লক্ষ্মী, কিছু খায় না, কম ঘেউ ঘেউ করে"। তুমি নিয়ে এলে। ২ মাস পর গরম পড়লো। দুপুরে একটু ছাদে নিয়ে গেছো। ১০ মিনিট পর দেখো পাগটা হাঁপাচ্ছে, জিভটা নীল হয়ে গেছে, পড়ে যাচ্ছে। ভেট বললো "Heat Stroke, বাঁচানো মুশকিল"।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

পাগের সৌন্দর্যই ওর শত্রু। ওদের মুখটা মানুষ ইচ্ছা করে ছোট করে ব্রিড করেছে। তাই নাকের ফুটো সরু, গলার নলি সরু, তালু লম্বা। মানুষের মতো ঘাম গ্রন্থি নেই শরীরে। ওরা জিভ দিয়ে হাঁপিয়ে শরীর ঠান্ডা করে। কিন্তু নলি সরু হওয়ায় হাঁপাতেই পারে না ঠিকমতো।

গরমে পাগের ৫টা মারাত্মক সমস্যা:

সমস্যা ১: হিট স্ট্রোক = পাগের ক্যানসার ৩২ ডিগ্রি তাপমাত্রা পেরোলেই পাগের জন্য বিপদ। ওরা ৫ মিনিট রোদে হাঁটলেই শরীরের তাপ ৪১ ডিগ্রি হয়ে যায়। লক্ষণ: খুব জোরে হাঁপানো, লালা গড়ানো, মাড়ি-জিভ নীল/লাল, বমি, টলতে টলতে পড়ে যাওয়া। ১৫ মিনিটের মধ্যে ভেট না পেলে ব্রেন ড্যামেজ হয়ে মারা যায়। AC ছাড়া কলকাতার গরমে পাগ রাখা = ওকে স্লো পয়জন দেওয়া।

সমস্যা ২: শ্বাসকষ্ট - "BOAS" রোগ Brachycephalic Obstructive Airway Syndrome। মানে জন্ম থেকেই দম নিতে কষ্ট। ঘুমোলেও ঘড়ঘড় শব্দ। গরম পড়লে এই শব্দ ১০ গুণ। সামান্য দৌড়ালেই বসে পড়ে হাঁপায়। অনেকে ভাবে "আদুরে শব্দ"। না, ও দম পাচ্ছে না। ওজন ১ কেজি বাড়লেই শ্বাসকষ্ট ডবল হয়ে যায়।

সমস্যা ৩: চোখ বেরিয়ে যাওয়া/ঘা হওয়া পাগের চোখ ড্যাবড্যাবে আর ঠেলে বের করা। তাই ধুলো, ঘাস, অন্য কুকুরের নখের আঁচড় লাগলেই কর্নিয়ায় ঘা। গরমে চোখ শুকিয়ে যায়, ইনফেকশন হয়। দিনে ৩ বার নরমাল স্যালাইন দিয়ে চোখ মোছা মাস্ট। চোখ বন্ধ করতে না পারলে ভেটের কাছে দৌড়াও।

সমস্যা ৪: মুখের ভাঁজে দুর্গন্ধ + ফাঙ্গাস নাকের উপর যে কুঁচকানো চামড়া, ওটার ভাঁজে ঘাম-লালা জমে। বর্ষা-গরমে ওখানে ফাঙ্গাস আর ব্যাকটেরিয়ার পার্টি। দুর্গন্ধ বের হয়, চুলকায়, লাল হয়ে যায়। রোজ নরম কাপড় দিয়ে ভাঁজ মুছে শুকনো করে দাও। না হলে স্কিন ইনফেকশন সারবে না।

সমস্যা ৫: ওজন বাড়া = গরম ডবল পাগ খেতে খুব ভালোবাসে। আর ওদের মেটাবলিজম স্লো। ১০ কেজির জায়গায় ১৪ কেজি হয়ে গেলেই গরমে হাঁপানি ৩ গুণ বাড়ে। মোটা পাগ = অসুস্থ পাগ। ভেটের পরামর্শ ছাড়া বিস্কুট-চিকেন-ভাত দেবে না।

তাহলে পাগ পালবে কীভাবে? 

৪টে নিয়ম: ১. AC 24-26 ডিগ্রিতে চলুক সারাদিন। কুলার হলেও চলবে। ফ্যানের হাওয়া ওদের জন্য যথেষ্ট না। ২. দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা - বের করাই ব্যান। পটি করাতেও ছাদে না, বারান্দায় প্যাড দাও। ৩. জল সবসময় ঠান্ডা, কিন্তু বরফ জল না। বরফ জল পেট খারাপ করে। মেঝেতে টাইলস ভিজিয়ে দাও, ও শুয়ে থাকবে। ৪. হাঁটা সকাল ৭টার আগে বা রাত ৮টার পর। ১০ মিনিটের বেশি না। লম্বা জিভ বের করে হাঁপালে সাথে বাড়ি।

শেষ কথা: পাগ কুকুর ভালোবাসার জন্য বেস্ট। আদুরে, গায়ে লেপ্টে থাকে, বাচ্চাদের সাথে বন্ধু হয়। কিন্তু ওরা "লো মেইনটেন্স" না। ওরা AC, ভেট বিল, স্পেশাল যত্ন চায়। গরমে ওদের কষ্ট দেখে তোমার চোখে জল আসবে।

তাই পাগ কেনার আগে ভাবো - তোমার বাড়িতে AC আছে তো? ভেটের খরচ দিতে পারবে তো? পারলে নাও। ও ১২ বছর তোমার বাচ্চা হয়ে থাকবে। না পারলে ল্যাব্রাডর নাও, ওরা গরম সয়ে নেয়।