Pet Dog Health Issues: বয়স বাড়লেই কুকুরের গাঁটে ব্যথা বা আর্থা‌রাইটিস খুব কমন। সকালে উঠতে কষ্ট, খুঁড়িয়ে হাঁটা, সিঁড়ি ভয় পাওয়া এর মূল লক্ষণ। ওজন কন্ট্রোল, রেগুলার হালকা এক্সারসাইজ, ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট আর নরম বিছানা দিলে ব্যথা কমে। ব্যথা বাড়ার আগেই ভেটের সঙ্গে কথা বলে ট্রিটমেন্ট শুরু করলে আপনার চারপেয়ে বন্ধু সুস্থ থাকবে।

Pet Dog Healthcare: আপনার আদরের পোষ্যটা কি সকালে উঠতে গেলেই কুঁই কুঁই করে? খেলার জন্য ডাকলে আর আগের মতো ছুটে আসে না? সিঁড়ি দেখলেই ভয় পায়? সাবধান, এগুলো কিন্তু বয়সের সাথে গাঁটের যন্ত্রণা বা আর্থা‌রাইটিসের প্রথম লক্ষণ। মানুষের মতোই কুকুরেরও বয়স হলে হাড়ের জয়েন্টের কার্টিলেজ ক্ষয়ে যায়। বিশেষ করে ল্যাব্রাডর, জার্মান শেফার্ড, গোল্ডেন রিট্রিভারের মতো বড় ব্রিডের কুকুরদের এই সমস্যা বেশি হয়। ব্যথা বাড়লে ওরা হাঁটাচলা কমিয়ে দেয়, খিটখিটে হয়ে যায়, এমনকী আদর করলেও কামড়ে দিতে পারে। তাই সময় থাকতেই ওকে সাহায্য করুন। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কীভাবে সুস্থ রাখবেন?

প্রথম কাজ, ওজন কমান। মোটা কুকুরের জয়েন্টে প্রেশার বেশি পড়ে, ব্যথা বাড়ে। ভেটের সঙ্গে কথা বলে ওর বয়স আর ওজন অনুযায়ী ডায়েট চার্ট বানান। ভাত, রুটি কমিয়ে দিন।

দ্বিতীয়, এক্সারসাইজ বন্ধ করবেন না। ভাবছেন ব্যথা তাই শুয়ে থাকুক? এটা ভুল। হালকা হাঁটাচলা, সুইমিং জয়েন্টের ফ্লেক্সিবিলিটি ধরে রাখে। দিনে দুবার ১০-১৫ মিনিট করে হাঁটান। একদম দৌড়াদৌড়ি বা লাফালাফি নয়।

তিন, ওর শোয়ার জায়গাটা আরামদায়ক করুন। ঠান্ডা মেঝেতে শুতে দেবেন না। মোটা, নরম অর্থোপেডিক বেড দিন। শীতকালে গরম কাপড় পরান। ঠান্ডায় ব্যথা বাড়ে।

চার, বাড়িতে ছোট ছোট চেঞ্জ আনুন। ওর খাবার আর জলের বাটিটা একটু উঁচু স্ট্যান্ডে রাখুন। বার বার নিচু হয়ে খেতে গেলে ঘাড়ে আর সামনের পায়ে চাপ পড়ে। সিঁড়িতে ওঠা নামা পুরো বন্ধ করে দিন। যদি দোতলায় যেতে হয়, কোলে করে নিয়ে যান। পিচ্ছিল মেঝেতে যেন না পড়ে যায় তাই কার্পেট বা অ্যান্টি-স্কিড ম্যাট পেতে দিন। ছোট ছোট এই যত্নগুলোই ওর রোজকার ব্যথা অনেকটা কমিয়ে দেবে।

পাঁচ ভেটের পরামর্শ নিয়ে ওমেগা-৩ ফিশ অয়েল বা গ্লুকোসামিন সাপ্লিমেন্ট শুরু করুন। এগুলো জয়েন্টের ইনফ্লেমেশন কমায়। ভুলেও নিজে থেকে মানুষের পেইনকিলার দেবেন না। প্যারাসিটামল কুকুরের জন্য বিষ।

ছয়, ম্যাসাজ আর সেঁক দিন। রাতে শোয়ার আগে হালকা গরম নারকেল তেল বা তিলের তেল দিয়ে ওর গাঁটগুলো আলতো হাতে ম্যাসাজ করুন। এতে ব্লাড সার্কুলেশন বাড়বে, ব্যথা কমবে। শীতকালে বা ব্যথা বেশি হলে একটা তোয়ালে গরম জলে ভিজিয়ে নিংড়ে নিয়ে ব্যথার জায়গায় 5 মিনিট সেঁক দিন। আরাম পাবে। তবে মনে রাখবেন, জয়েন্ট ফুলে লাল হয়ে থাকলে গরম সেঁক নয়। তখন ভেটের কাছে যান।

সবশেষে, নিয়ম করে ভেট চেক-আপ করান। ব্যথা বেশি হলে আজকাল লেজার থেরাপি, ফিজিওথেরাপিতেও দারুণ কাজ হয়।

মনে রাখবেন, ও কথা বলতে পারে না। ওর কষ্টটা আপনাকেই বুঝতে হবে। একটু যত্ন পেলেই আপনার বুড়ো বন্ধুটা আবার লেজ নেড়ে আপনার পাশে পাশে হাঁটবে।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।