বাজার থেকে মুরগি এনেই কল ছেড়ে ধুয়ে ফেলেন? ভাবছেন পরিষ্কার হচ্ছে? উল্টে পুরো রান্নাঘরে ছড়াচ্ছেন মারণ ব্যাকটেরিয়া। USDA থেকে FSSAI – সবাই মানা করছে কাঁচা চিকেন ধুতে। 

রবিবার মানেই বাঙালির পাতে চিকেন। বাজার থেকে টাটকা মুরগি এনে আমরা প্রথমেই যেটা করি – কল ছেড়ে ভালো করে ধুই। রক্ত, ছাল, নোংরা গেলেই নিশ্চিন্ত। কিন্তু এই ‘পরিষ্কার’ করার অভ্যাসটাই ডেকে আনছে কেলেঙ্কারি। আপনার অজান্তেই কিচেন স্ল্যাব, ছুরি, পাশে রাখা শসা-পেঁয়াজে ছড়িয়ে পড়ছে ভয়ানক ব্যাকটেরিয়া।

চিকেন ধুলে ঠিক কী কেলেঙ্কারি হয়?

১. ব্যাকটেরিয়া বোমা ফাটে সিঙ্কে: কাঁচা মুরগির গায়ে থাকে সালমোনেলা, ক্যাম্পাইলোব্যাকটার, ক্লস্ট্রিডিয়াম পারফ্রিনজেন্স। আপনি যখন জলের তোড়ে ধোন, জলের ছিটে ৫০ সেমি থেকে ১ মিটার অবধি ছড়ায়। চোখে দেখবেন না, কিন্তু ওই ছিটেতে লাখ লাখ ব্যাকটেরিয়া। সেটা গিয়ে পড়ে আপনার পরিষ্কার বাসন, কাটা ফল, বাচ্চার টিফিন বক্সে। একেই বলে ‘ক্রস কনটামিনেশন’।

২. ডায়রিয়া থেকে প্যারালাইসিস: ক্যাম্পাইলোব্যাকটার হল ভারতে ফুড পয়জনিং-এর ১ নম্বর কারণ। একবার পেটে গেলে ২-৫ দিনের মধ্যে বমি, রক্ত ডায়রিয়া, ১০৩°F জ্বর। আর ১০০০ জনের মধ্যে ১ জনের হতে পারে গুলেন-বারি সিনড্রোম – যেখানে শরীরের ইমিউন সিস্টেম নার্ভ খেতে শুরু করে। হাত-পা অবশ, ভেন্টিলেটরে পর্যন্ত যেতে হতে পারে। শুধু চিকেন ধোয়ার ভুলে।

৩. ধুলেও ব্যাকটেরিয়া মরে না: অনেকে ভাবে জল দিয়ে ধুলে জীবাণু চলে যাবে। ভুল। এই ব্যাকটেরিয়া চিকেনের কোষের ভিতর ঢুকে থাকে। একমাত্র ৭৫°C তাপমাত্রায় ১০ মিনিট রান্না করলেই ওরা মরে। ধোয়া মানে শুধু ছড়ানো, মারা নয়।

তাহলে চিকেন রান্নার আগে কী করবেন? ৫টা ‘মাস্ট রুল’

১. ধোবেন না, সরাসরি কড়াইতে: প্যাকেট বা ঠোঙা থেকে বের করে টিস্যু পেপার দিয়ে হালকা চেপে রক্ত-জলটা মুছে নিন। তারপর সোজা গরম তেল বা মশলায় দিন। USDA, WHO সবাই এটাই বলে।

২. আলাদা চপিং বোর্ড: কাঁচা মাছ-মাংসের জন্য একটা বোর্ড ফিক্সড রাখুন। সবজি, ফলের বোর্ড আলাদা। কাটার পর বোর্ড, ছুরি গরম জল আর সাবানে ঘষে ধুন।

৩. হাত ধোয়া মাস্ট: কাঁচা চিকেন ধরার পর সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড হাত ঘষুন। তারপর নুনের কৌটো, ফ্রিজের হাতল ধরুন। নইলে ওখানেও ব্যাকটেরিয়া বসে যাবে।

৪. ভালো করে সেদ্ধ: চিকেনের ভিতরটা যেন গোলাপি না থাকে। মোটা রানের হাড়ের কাছে ছুরি ঢুকিয়ে দেখুন। রসটা পরিষ্কার বেরোলে বুঝবেন সেদ্ধ হয়েছে। ৭৫°C হল সেফ টেম্পারেচার।

৫. ফ্রিজের নিয়ম: কাঁচা চিকেন ফ্রিজের নিচের তাকে এয়ারটাইট বক্সে রাখুন। যাতে গলানো জল টপটপ করে নিচের দুধ-মিষ্টিতে না পড়ে। ১-২ দিনের বেশি কাঁচা রাখবেন না।

কখন ধোয়া যাবে? শুধু যদি চিকেনে দৃশ্যমান নোংরা, পালক, বা হাড়ের গুঁড়ো লেগে থাকে। তাও কল ছেড়ে না, একটা বাটিতে জল নিয়ে ডুবিয়ে হালকা নাড়ুন। তারপর ওই জল সাথে সাথে ফেলে দিন আর সিঙ্ক ব্লিচ দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

শেষ কথা: মা-ঠাকুমারা ধুতেন, তাই আমরাও ধুই – এই লজিক এবার বদলান। বিজ্ঞান বলছে, না ধোয়াই সেফ। রান্নাটাই আসল ‘ধোয়া’। ২০ মিনিট কষিয়ে রাঁধুন, নিশ্চিন্তে খান।

মনে রাখবেন, ফুড পয়জনিং হলে শুধু আপনার একার কষ্ট না, বাড়ির বাচ্চা-বুড়োরও হতে পারে। তাই আজ থেকে চিকেন ধোয়ার আগে দু’বার ভাবুন।